ভোটার তালিকা অথবা ভোটার কার্ডে একাধিক ভুল? সংশোধন করার আগে দেখে নিন আপনার করণীয় কী কী

0
ছবি : সংগৃহিত

যাদের ভোটার পরিচয় পত্র অথবা ভোটার তালিকায় নামের বানান, সম্পর্কিত ব্যক্তির নামের বানান, ফোটো, EPIC নম্বর, বয়স বা জন্মের তারিখ, ঠিকানা ইত্যাদিতে ভুল রয়েছে তাঁরা যেন অতী শীঘ্রে অনলাইনে সংশোধন করে নেন৷ দীর্ঘ কয়েকবছর থেকে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গড়িমসি দেখালেও এবার বেশ এটাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও ব্যাপারটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব সংশোধন করার আগে আপনাকে নিম্নলিখিত বিষয় সমুহ মাথায় রাখতে হবে।

#এক) প্রথমে www.nvsp.in পোর্টালে ঢুকে আপনাকে sign up করতে হবে। এ ক্ষেত্রে user ID হবে আপনার মোবাইল নাম্বার। আর আপনাকে একটা পাসওয়ার্ড দিতে হবে। তারপর আপনার মোবাইল নাম্বারে একটা OTP আসবে। এই OTP নির্দিষ্ট বক্সে লেখার পর আপনার Sign up এর কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে।

#দুই) এবার আপনাকে আবার sign in করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার মোবাইল নাম্বারই হচ্ছে user ID এবং আপনার দেওয়া পাসওয়ার্ড টি লিখেই লগ ইন করে ফেলুন।

#তিন) যাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধন করতে চান তাঁদের জন্য form 8 এবং যাঁরা শুধু ভোটার পরিচয় পত্র সংশোধন করতে চান তাঁদের ক্ষেত্রে form 001 এবং যাঁরা নতুন হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করতে চান তাঁদের জন্য Form 6 (মনে রাখবেন form 001 একমাত্র তাঁরাই আবেদন করবেন যাদের ভোটার তালিকায় সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে কেবল ভোটার কার্ডে ভুল)

#চার) মনে রাখবেন সংশোধন মাত্র ৩ টি বিষয়ের ওপর হবে। তিনের অধিক কোনো সংশোধন করা যাবে না। অর্থাৎ আপনাকে- ক) নাম খ) সম্পর্কিত ব্যক্তির নাম গ) জন্মের তারিখ বা বয়স ঘ) EPIC ঙ) ঠিকানা চ) ফোটো ছ) লিঙ্গ এসব অপশনের মধ্যে যেকোন তিনটি টিকমার্ক করে সংশোধন করতে হবে। (এ ক্ষেত্রে কোন তিনটি সংশোধন আপনার সবচেয়ে বেশি জরুরী তা আপনিই জানবেন)

#পাঁচ) অনেকেই ভোটার কার্ডের পেছনে দেওয়া PS No এবং SL No দিয়ে আবেদন করেন। যার ফলে সংশোধন হয়না। আসলে ভোটার কার্ড ইস্যু করার সময় আপনার যে সিরিয়াল নম্বর এবং পোলিং সেন্টার নম্বর ছিল তা প্রতি বছরই পরিবর্তন হয়। এ ক্ষেত্রে আপনাকে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে অথবা মোবাইল অ্যাপে Search your name in Electorlal Roll অপশনে গিয়ে Search by EPIC অপশনে মেরে আপনার সর্বশেষ স্থিতি Part No প্রথমেই দেখে একটি সাদা কাগজে নোট করে নিন। মনে রাখবেন ওয়েবসাইটে উল্লেখ থাকা Part No ই হচ্ছে আপনার পোলিং স্টেশন বা PS No।

#ছয়) আবেদন ফাইনাল সাবমিট করার পর একটি রেফারেন্স নাম্বার আসবে। এটি সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনশট মেরে রাখবেন৷ পরবর্তীতে ওই রেফারেন্স নম্বর দিয়ে অনলাইনে সার্চ করে আপনার আবেদনের সর্বশেষ স্থিতি জানতে পারবেন।

#সাত) নতুন আবেদন অথবা সংশোধন উভয় ক্ষেত্রে আপনাকে Address proof এবং ID proof স্ক্যান করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগেভাগে আপনি আপনার মোবাইল দিয়ে স্পষ্ট করে ফোটো তুলে রাখুন।

#আট) জন্মের তারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে A) Birth Certificate B) Pan Card C) SEBA Admit Card/AHSEC Admit Card D) জন্মের তারিখ উল্লেখ থাকা যেকোনো বৈধ নথি লাগবে। এসবের মধ্যে যেকোন একটি সংশোধনের সময় সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে আপনাকে আপলোড করতে হবে।

#নয়) নাম-ঠিকানা বা অন্যান্য সংশোধনের ক্ষেত্রে A) Bank passbok B) Passport C) Driving Licence E) Service ID F) Electricity bill G)Telephone Bill H) LPG Connection book I) Ration Cars J) সরকারি অথবা অর্ধ সরকারি কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের ফোটো সহ প্রমাণপত্র – এসবের মধ্যে যেকোন একটি সংশোধনের সময় সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে আপনাকে আপলোড করতে হবে।

#দশ) যাঁরা log in আর sign up এর ঝামেলা এড়িয়ে যেতে চান, এ ক্ষেত্রে তাঁরা play store থেকে Voter helpline অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন৷ এটি খুব সহজ। link-
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.eci.citizen

#এগারো) আবেদন করার পর আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট BLO’র কাছে আবেদনের ডিটেলস্ পাঠানো হবে। তিনি আপনার তথ্য ভেরিফাই করে আবার অফিসে জমা দেবেন। অনেক ক্ষেত্রে Supervisor to BLO এরও প্রয়োজন পড়ে। সেটা অবশ্য অফিসিয়্যাল ব্যাপার। আপনি আপনার BLO’র সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। যাতে ব্যাপারটি তাঁর নজরেও থাকে।

মনে রাখবেন আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ই অক্টোবর।

Rejwan Alom Barbhuiya

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here