নিলামবাজারে গণধর্ষণের শিকার ত্রিপুরার দুই বোন, গ্রেপ্তার এক

0

তরঙ্গবার্তা প্রতিবেদক, নিলামবাজার: নিলামবাজারে গণধর্ষণের শিকার ত্রিপুরার দুই বোন। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিলচর ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আপনজনের কাছ থেকে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি না পেয়ে ধর্মনগর পর্যন্ত যাওয়ার জন্য একটি যাত্রীবাহী সেন্ট্রো গাড়ি ভাড়া করে দক্ষিণ ত্রিপুরার দুই বোন দুস্কৃতিদের পাল্লায় পড়েছে।

অভিযোগ মতে ভাড়া করা গাড়িতে চালক ছাড়া আরো এক যুবক ছিল। তারা রাত এগারোটার দিকে যুবতীদ্বয়কে নিয়ে চেরাগীর ধাবায় পৌঁছে খাওয়া-ধাওয়া সেরে। তারপর একটি শর্ট রাস্তায় ধর্মনগর যাওয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে নিলামবাজার এলাকার একটি নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ে পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত আরো চার যুবক মিলে জোরজবরদস্তি বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে একজন আর অন্যজনকে ফাস্ট ফ্লোরে নিয়ে গিয়ে তিনজন করে ছয় দুষ্কৃতী মিলে রাতভর দুই বোনকে গণধর্ষণ করে।

ভোরের দিকে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিষপত্রের ব্যাগ রেখে বিল্ডিং থেকে বের করে দিলে একটি ট্রাকে করে তারা সকালের দিকে পাথারকান্দিতে পৌঁছোয়। ধর্ষিতাদ্বয়ের ভাষ্য মতে ঘটনাস্থলের নাম বা এখানে কোন থানা আছে বলে তারা জানে না। শেষ পর্যন্ত ঘটনার বিবরণ জানিয়ে এদিন পাথারকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন তারা। পাথারকান্দি পুলিশ তাদেরকে নিয়ে ঘটনাস্থল শনাক্তকরনের জন্য বের হয়ে নিলামবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বাজার এলাকায় থাকা ঘটনাস্থলটি শনাক্ত করেছে। এসময় ঘটনাস্থলেই ধর্ষিতাদ্বয় এক দুষ্কৃতীকে শনাক্ত করে ফেলে।

নিলামবাজার থানার সিআই আনোওয়ার হোসেন চৌধুরী ও ওসি আরপি রংমাই তাৎক্ষণিক ভাবে আব্দুল আহাদ নামের বিল্ডিংয়ের ওই মিস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। সিআই চৌধুরী, ওসি রংমাই, এসআই বুলবুল শইকিয়া ও মহিলা পুলিশের এক বড়সড় তদন্তকারি দল তদন্তে নেমে ধর্ষিতাদের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

তারা ধর্ষণে ব্যবহৃত গামছা ও একাধিক প্লাইবোর্ড বাজেয়াপ্ত করেছে। প্লাইবোর্ডে পুলিশ ধর্ষণকাণ্ডের চিহ্ন শনাক্ত করেছে। ঘটনাস্থলের পাশেই একটি সরকার অনুমোদিত স্কিল ডেভলাপ্টমেন্ট সেন্টার থাকার সুবাধে ধর্ষিতাদ্বয় ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে পেরেছে বলে সংবাদ মাধ্যামকে জানিয়েছে।

এদিকে, এদিন রাতেই ধর্ষিতাদ্বয়কে করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধৃত আব্দুল আহাদকে পুলিশি হেফাজতে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here