ত্রিপুরায় মাদ্রাসা পড়ুয়াদের সার্টিফিকেটকে বৈধতা দিচ্ছেননা কিছু আধিকারিক, বাড়ছে বিড়ম্বন

0

ত্রিপুরায় সরকারি মান্যতা পাচ্ছেনা হাই মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদের সার্টিফিকেট। অথচ সরকার স্বীকৃত টিবিএসই-র অধীনেই চলছে পাঠ্যক্রম। এদিক দিয়ে স্কুলের সঙ্গে কোনো পার্থক্য নেই মাদ্রাসার। কিন্তু তারপরও মাদ্রাসা সার্টিফিকেটকে বৈধতা দিচ্ছেননা কতিপয় সরকারি অফিসার।

কিছুদিন আগে  ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ভর্তি হতে যাওয়া দুই মাদ্রাসা পড়ুয়ার সার্টিফিকেট গ্রাহ্য করেনি সেনা কর্তৃপক্ষ। এবার একই কারণে পাসপোর্ট অফিস থেকে অবৈধ তকমা দিয়ে ফেরানো হল মাদ্রাসা সার্টিফিকেটধারী এক ছাত্রকে।

গত ৮  ফেব্রুয়ারি বিলোনীয়ার একটি ছেলে ভেরিফিকেশন এর জন্য পাসপোর্ট অফিসে যায়। কর্তব্যরত অফিসার তাকে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট দিতে বললে সে সোনামুড়া দাওধারানী মাদ্রাসা থেকে ২০২০ সালের মাধ্যমিক উত্তীর্ণের সার্টিফিকেট জমা দেয়। অফিসার বাবু টিবিএসই  কর্তৃক প্রদত্ত সেই সার্টিফিকেটকে জাল বলে ফিরিয়ে দেন। পাশাপাশি  কত টাকার বিনিময়ে  সার্টিফিকেটটি সে ক্রয় করেছে তা কড়া ভাষায় জানতে চান। এখানেই থেমে থাকেননি ওই অফিসার।  মাধ্যমিক পাশ সার্টিফিকেটটা অগ্রাহ্য করে তাতে “অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ”লিখে দেন।

সেনা কর্তৃপক্ষের অগ্রাহ্যের ঘটনাটি ঘটে ১১  জানুয়ারি। সোনামুড়ার দুটি ছেলে একই মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ। তারা আগরতলায আর্মি রিক্রুটমেন্ট র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করতে গেলে কর্তব্যরত অফিসার তাদের সার্টিফিকেটের কোনো মূল্য নেই বলে র‍্যালি থেকে তাদের তাড়িয়ে দেন।

ত্রিপুরাতে মোট ৩টি ফাজিল তথা
উচ্চ মাধ্যমিক এবং দুটি আলিম তথা মাধ্যমিক মাদ্রাসা রয়েছে।এই মাদ্রাসাগুলোর সিলেবাস তৈরি, পরীক্ষা গ্রহণ প্রভৃতি  টিবিএসই বোর্ড কর্তৃক হয়ে থাকে। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সাথে মাদ্রাসার ছাত্ররাও একই তারিখে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। শুধু পার্থক্য এতটুকু যে মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা অতিরিক্ত তিনটি বিষয়ে অর্থাৎ আরবি, তাফসির, হাদিস পরীক্ষা দিয়ে থাকে। টিবিএসই বোর্ড দ্বারাই তাদের ফলাফল ঘোষণা এবং সংশাপত্র প্রদান করা হয়।

সংখ্যালঘু অংশের বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য, ত্রিপুরার গুটিকয়েক মাথামোটা অফিসার ত্রিপুরার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞানটুকু রাখেন না, যার ফলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের।

ত্রিপুরার মাননীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রীর নিকট আবেদন করে তাঁরা বলেন, আপনি বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখবেন, যাতে করে আর কোনো ছাত্রছাত্রীকে এইভাবে অপমানিত হতে না হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here