ট্রেনের ধাক্কায় মা ও শাবক হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু, ঘাতক ইঞ্জিনটি বাজেয়াপ্ত করল বন দফতর

0
ছবির: সংগৃহিত

রেলের কাছে খবর পৌঁছেছিল, লাইনের কাছে রয়েছে তারা। চালকের জন্য ছিল টর্চের আলোর হুঁশিয়ারিও। তবু ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মৃত্যু আটকানো যায়নি। অসমের লামডিং রেঞ্জে হাতি করিডরে একটি মালগাড়ির ইঞ্জিনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় একটি মা হাতি ও তার শাবকের। সেই ঘটনায় ঘাতক ইঞ্জিনটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে অসমের বন দফতর।

ঘটনা গত সেপ্টেম্বরের। উত্তর-পূর্ব রেলওয়ের সিপিআরও শুভানন চন্দ বলেছেন, অসমের বন দফতর থেকে জানোন হয়েছে রেলের ইঞ্জিনটি তারা তদন্তের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করেছে। রেলও তদন্ত করছে পৃথকভাবে। হাতি করিডরে ট্রেনের গতি ৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হিসেবে বাঁধা থাকে। রাতে ট্রেন লাইনে হাতি উঠে পড়ার খবরও আসে কন্ট্রোল রুমে। নথিভুক্ত করিডর হওয়ায় খুব দ্রুত খবর পৌঁছে দেওয়াও হয়। তারপরেও কেন দুর্ঘটনা এড়ানো গেল না, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লামসাং ও পাথরখোলার মাঝের অংশে রাতের বেলা একটি মালগাড়ির ইঞ্জিন চাপা দেয় একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি ও তার শাবককে। লামডিং রেঞ্জের অফিসাররা জানিয়েছেন, মা হাতিটার বয়স ছিল ৩৫ বছর। শাবকটির এক বছরের কাছাকাছি। রাতের বেলা ট্রেন লাইনে উঠে পড়ে হাতি দুটি। সতর্ক করা সত্ত্বেও হুড়মুড়িয়ে তাদের ঘাড়ের উপর এসে পড়ে ইঞ্জিন। বাচ্চা হাতিটার দেহ প্রায় এক কিলোমিটার অবধি টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।

রাজ্যের বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য বলেছেন, বন দফতর বারবার সতর্ক করার পরেও রেল ও চালকদের গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর যেভাবে ট্রেনের ইঞ্জিন দুটি হাতিকে পিষে দিয়েছে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বন্যপ্রাণ আইনের আওতায় রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে। বন দফতর জানিয়েছে, ডিজালচালিত ওই লোকো ইঞ্জিনটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। লোকো পাইলট ও তার সহকারীকে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছিল।

বন দফতরের পিআরও শৈলেন্দ্র পান্ডে বলেছেন, লামডিং, লঙ্কা, হোজাই বনাঞ্চলের ১৯টি এলাকা হাতি-করিডর হিসেবে চিহ্নিত। রেলের কাছে তার তালিকা রয়েছে। হাতি বাঁচাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি হয়েছে। তাছাড়া হাতি করিডর দিয়ে যাওয়া রেল লাইনে হাতির পাল উঠে এলে তা বারংবার সঙ্কেত দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নিয়ম মানছেন না চালকরা। তাই ট্রেনে কাটা পড়ে হাতি মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। রেলের তরফেও কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। তাই এবার কঠোর সিদ্দান্ত নেওয়া হয়েছে বন দফতরের তরফে।

সৌজন্যে: দ্য ওয়াল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here