করিমগঞ্জ আসনে তিন দলের মরণ কামড়, শেষ হাসি কে হাসবে? নির্ধারণ করবে জনতা

0
রুহুল কুদ্দুস, তরঙ্গ বার্তা, করিমগঞ্জ : ১নং করিমগঞ্জ লোকসভা সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনী লড়াই একেবারে তুঙ্গে। বিনা যুদ্ধে সূচাগ্ৰ ভূমি কেহ ছাড়তে নারাজ। তাই নিজ দলের বিজয়ের আগাম জয়ডংকা বাঁজিয়ে চলেছেন নেতা-কর্মীরা। প্রকাশ্য প্রচার শেষে ঘরোয়া প্রচারে এআইইউডিএফ, কংগ্রেস, বিজেপি চর্চিত তিন দলের দাবী আমরাই জিতছি লক্ষাধিক ভোটে।
তবে আসলে জিতবে কে বা কাকে জনগণ চায়? কোন দলকে কেন জনগণ চাচ্ছে? এই সমীক্ষায় প্রতিবেদকের মাঠ পরিক্রমায় যে চিত্র ফুটে উঠেছে সেদিকে দলীয় নেতা-পাতিনেতাদের দৃষ্টি রয়েছে কি না তা সময়ে বলবে।
২০১৪’র ইস্তেহারে ঘোষিত বিজেপি দলের বিভিন্ন কার্যসূচী যেমন রাম মন্দির নির্মান, কাশ্মীর ইস্যুতে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল, আম দেওয়ানী বিধি চালু, দেশ জুড়ে গো-হত্যা নিষিদ্ধ ইত্যাদি ইস্যু বাস্তবায়িত না হওয়ায় কট্টরবাদী হিন্দুরা যেমন হতাশ ঠিক তেমনি লাভ-জেহাদ, গো-মাংস, মোব-লিঞ্চিং, ইত্যাদি সংবিধান বিরোধী কারনে সংখ্যালঘু দলিত, মুসলিম, শীখ, খ্রীষ্টীয়ানরা বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে যারা কংগ্রেস আমলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপিকে ২০১৪তে পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছিল সেই ভোটাররা চরম বিরক্ত। কারন হিসেবে তারা জানায় অত্যাধিক দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি, বেকারত্বের তীব্রগতি, গ্যাস ও পেট্রোপণ্যের আকাশছোঁয়া মুল্য বৃদ্ধি, নোটবন্দি, অস্বাভাবিক জিএসটি, সংবিধান বিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সহ দেশজুড়ে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরী ইত্যাদি কারণে সাধারণ জনগণ বিজেপি থেকে ইউটার্ন করে নিয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী কৃপানাথ মাল্লা সাংসদ রাধেশ্ব্যামের ব্যর্থতা, নাগরিকত্ব বিল, পুলওয়ামা ও বর্তমান অসম সরকারের দোহাই দিয়ে হিন্দুত্বকে ইস্যু করে নির্বাচনী ময়দানে হিন্দু ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরছেন।
ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেস দল বিজেপি বিরোধী ইমেজ দিয়ে বিজেপি সরকারের চরম হিন্দুত্ববাদী আচরণকে ঢাল বানিয়ে সরকার বিরোধি হাওয়া দেশ জুড়ে তুলতে সক্ষম হলেও করিমগঞ্জ আসনে প্রার্থী চয়নে ভুল পদক্ষেপে তারা ব্যর্থ বলে নিজ দলেও বিরুপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অন্যদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায়ের দ্বিচারী ভুমিকা, প্রাক্তন আরে’ক মন্ত্রী সিদ্দেক আহমদে বিভিন্ন দুর্নীতি, উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ্য দে’র নাগরিকত্ব বিল নিয়ে দ্বীমুখী অবস্থান সহ প্রার্থী সরুপ দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কারনে সাধারণ ভোটার সহ দলীয় গ্রামীণ পর্যায়ের নেতারা দুদুল্যমান অবস্থানে।

ইতিমধ্যে করিমগঞ্জ আসনের কংগ্রেস ভোটাররা উদারবাদী ও কট্টর হিসাবে দ্বিধাবিভক্ত। উদারবাদীরা ধর্মীয় মেরুকরনে নিজেদের অবস্থানকে ঠিক করে নিয়েছেন। তাছাড়া বিজেপি’র দাপুটে মন্ত্রীর সাথে তারই দুই প্রাক্তন সতীর্থ মন্ত্রী গৌতম-সিদ্দেক ও কমলাক্ষ্যের দহরম মহরম সর্বজন বিধিত আর এটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী সরুপ দাসের।
এআইইউডিএফ প্রার্থী রাধেশ্ব্যামের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া। রয়েছে কংগ্রেসী মন্ত্রী সিদ্দেক আহমদ ও কমলাক্ষ্য দে’র সাথে মিলে উন্নয়ণ তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। বিচ্ছিন্ন জনসংযোগ সহ দলীয় কর্মীদের আড়ালে রেখে বিরোধী দলের কর্মীদের সাথে গোপন আতাতের অভিযোগ। তবে নাগরিকত্ব বিল বিরোধী অবস্থান রাধেশ্ব্যামকে নির্বাচনী ময়দানে অন্যদের থেকে যথেষ্ট সাহায্য করছে।
সব মিলিয়ে ১নং করিমগঞ্জ লোকসভা সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী-সমর্থকরা যে দাবী করুক না কেন নির্বাচনী মাঠ এ মুহূর্তে ধর্মীয় কারনে মেরুকরন হয়ে গেছে। আর এ জায়গায় বিজেপি প্রার্থী কৃপানাথ মালা ও এআইইউডিএফ প্রার্থী রাধেশ্ব্যাম বিশ্বাস শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আর বিজেপি প্রার্থী কৃপানাথ মালা অবিভাজিত হিন্দু ভোটার নিয়ে খুবই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিন লক্ষাধিক ভোট যে প্রার্থী পাবেন তিনি হবেন সাংসদ।
নিরপেক্ষ নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা কংগ্রেসকে দেড় লক্ষাধিক ভোট দিতে নারাজ। তাদের দাবী, কংগ্রেস ভোট বিভাজন হয়ে গেছে। সংখ্যালঘু ভোটাররা নির্বাচনের আগে এআইইউডিএফ বিমুখ হলেও চুড়ান্ত সন্ধিক্ষনে কংগ্রেস দলের করিমগঞ্জ-হাইলাকান্দি নেতৃত্বের সন্দেহজনক অবস্থান সহ বিভিন্ন প্রোপাগেণ্ডার কারনে সংখ্যালঘু ভোটের বিরাট অংশ এআইইউডিএফ প্রার্থী রাধেশ্ব্যামের অনুকুলে।
তাছাড়া এআইইউডিএফ সুপ্রিমো বদরুদ্দীনের শিলচর আসনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিয়ে সংখ্যালঘু ভোটার সহ অন্যান্যদের সহানুভুতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বোপরী বিজেপিকে আটকাতে সাধারণ ভোটাররাও কংগ্রেস দলের দুর্বল প্রার্থীর পিছন থেকে সরে এসেছে।
এবার শুধু সময়ের অপেক্ষা, সাধারণ ভোটার কোনদিকে প্রভাবিত হচ্ছেন এবং কা’কে নির্বাচিত করছেন।
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here