ডাক্তার ছুটিতে, হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসে রোগী দেখছে নাইটগার্ড!

0

হাসপাতাল সুপার গিয়েছেন ছুটিতে। সেই সুযোগে, তাঁরই কোয়ার্টারে বসে সুপার সেজে রোগী দেখছে নাইটগার্ড। তাকে সাহায্য করছে কেয়ারটেকার।

সেই সময় হাসপাতাল সুপারকে কেয়ারটেকার তুইতোকারি করে কথা বলছে! তাতেই সন্দেহ হয় রোগিনীর। আসল খবর ফাঁস হয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে টের পেয়েই গা ঢাকা দেয় ওই নাইটগার্ড।

নাইটগার্ডকে সুপার সাজালেও, কথার মধ্যে সেই সম্মান দেখাতে ভুলে যাওয়ায় ধরা পড়ে গেল ডাক্তার ডাক্তার খেলার নাটক!
ঘটনাটি মালদহের গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালের। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল গাজোল গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে।

জানা গিয়েছে, চিকিৎসার জন্য গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন পিঙ্কি ভুঁইমালি নামে এক মহিলা। এর আগে হাসপাতালের ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ হয়েছিলেন তিনি। আবার অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেই আসেন। রোগের বর্ণনা শুনে তাঁকে ডাঃ অঞ্জন রায়ের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন আউটডোরে থাকা কোনও স্বাস্থ্যকর্মী।

পিঙ্কিদেবী হাসপাতাল সুপার ডাক্তার অঞ্জন রায়ের কোয়ার্টারে যান। সেখানে তখন ডাক্তার সেজে রোগী দেখছিলেন ওই নাইট গার্ড। সঙ্গে ছিলেন কেয়ারটেকার।

পিঙ্কি জানান, ওঁরা একে অন্যকে তুইতোকারি করে কথা বলছিলেন। একজন রোগের বর্ণনা শুনে প্রেসক্রিপশন করে দিয়ে বলে বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনে নিতে। ডাক্তারকে তুই তোকারি করছে আর হাসপাতাল থেকে না নিয়ে ওষুধ কিনতে বলছে বাইরে থেকে। এতে তাঁর সন্দেহ হয়।

তিনি প্রেসক্রিপশন নিয়ে আউটডোরে ফিরে গিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারদের দেখাতেই ডাক্তররা বুঝতে পারেন কোথাও গণ্ডোগোল আছে। ওই মহিলার জরায়ুতে টিউমার রয়েছে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে তাঁকে প্রেসক্রাইব করা হয়েছে কিছু গ্যাস-অম্বলের ওষুধ। ততক্ষণে সুপারের কোয়ার্টার্স ছেড়ে চম্পট দেয় ভুয়ো ডাক্তার।

গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, ‘‘বিষয়টি খুবই গুরুতর। কয়েকদিনের মধ্যে কমিটির সভা ডেকে এই বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’ হাসপাতালে চার্জে থাকা মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার শ্যামসুন্দর হালদার জানান বিষয়টি গাজোল থানায় জানিয়েছেন।

রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে চুক্তির ভিত্তিতে ওই যুবককে নাইট গার্ড হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। পরে সুপার তাঁকে হাসপাতালের ফার্মেসিতে কাজ দেন। এখানেই বিভিন্ন ওষুধ এবং তার কার্যকারিতা সম্পর্কে বেশ কিছু জ্ঞান লাভ করে সে। তারপর থেকেই সুপারের অনুপস্থিতিতে তাঁর কোয়ার্টারে ডাক্তার সেজে রোগী দেখার কাজ করত ওই যুবক।

বর্তমানে হাসপাতালের চার্জে থাকা মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার শ্যামসুন্দর হালদার জানান, ৪ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে আছেন সুপার। সেই হিসেবে তাঁর কোয়ার্টার বন্ধ থাকা উচিত। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। গাজোল থানাতেও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি।

কীভাবে সুপারের অজান্তে তাঁরই কোয়ার্টারে এমন কারবার চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী জানান, ইতিমধ্যেই এফআইআর করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরসঙ্গে আর কারা কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here