নাগরিকত্ব বিল – ২০১৬ নিয়ে কিছু কথা

0
ছবি : সংগৃহিত
ফকরুল ইসলাম বড়ভূঁইয়া, তরঙ্গ বার্তা : নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল – ২০১৬’র বিরুদ্ধে অসম তথা উত্তরপূর্ব ভারতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে আসু সহ বিভিন্ন সংগঠন। আন্দোলন থেকে স্পষ্ট, শুধু মাত্র বিজেপি ও সংঘপরিবার ছাড়া এই অঞ্চলের কোনও দল, সংগঠন তথা সুশীল সমাজ এই বিলের পক্ষে নেই। অসম তথা উত্তর-পুর্বাঞ্চলের ৯০ভাগ মানুষ এই বিলের বিপক্ষে তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট।
ফকরুল ইসলাম বড়ভূঁইয়া
শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলের জনমতকে পাশ কাটিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে অসমের মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না। জেপিসি উত্তর-পূর্বের জনমত নিতে এসে অসম ও শিলং ব্যতীত অন্য কোন জায়গার মতামত না নিয়েই বিজেপি সরকারের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা মতোই তাদের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে নিজেদের মতামত প্রদান করেছে। অথচ জনগনের মতামত, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বিল উত্তরপূর্বের মানুষের কৃষ্টি সংস্কৃতি, অসম চুক্তির লংঘনকারী।
সর্বোপরি ভারতীয় সংবিধান তথা ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর লংঘন করেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল – ২০১৬। কারন ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব ভারতীয় সংবিধান বিরোধী। অনেকের সন্দেহ ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব আইন প্রনয়নের মাধ্যমে সরকার আসলে দেশের ধর্মনিরেপেক্ষ চরিত্রকে বদলানোর প্রাথমিক প্রয়াস হিসাবে নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যদি কেন্দ্রীয় সরকার একপক্ষীয়ভাবে বিলটি উত্তর পূর্বের জনগনের উপর চাপিয়ে দিতে চায় তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। (কারন) জনমতের বিপরীতে কোন কিছু কে কোন বিশেষ অঞ্চলের উপর চাপিয়ে দেওয়া অন্তত ভারতের মতো যুক্তরাস্ট্রীয়/রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দেশের স্বার্থেরজন্য শোভনীয় নয়।
অন্য দিকে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো , নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বিরোধী আন্দোলন যখন তীব্র আকার নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার অসম চুক্তির ৬নং ধারা কার্যকর করার চেষ্টা শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ৬নং ধারাতে খীলঞ্জীয়া মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনেতিক সংরক্ষনের কথা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খীলঞ্জীয়া এবং অসমীয়া’র সংজ্ঞা নির্ধারিত হয় নি সরকারীভাবে, তাই হঠাৎ করে অসম চুক্তির ৬নং ধারা রূপায়নে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। বিশেষ ভাবে অনঅসমিয়া ভাষা ভাষীরা নিজেদের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক তথা অর্থনৈতিক অধিকার হারানোর আশঙ্কাতে রয়েছেন। তাই রাস্ট্রীয় শান্তি তথা সংহতির স্বার্থে নাগরিক সংশোধনী বিল সহ অসম চুক্তির ৬নং দফা রূপায়নের ক্ষেত্রে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধানে আসা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here