‘কুরবানী সম্পর্কে প্রচারমাধ‍্যমে অমূলক বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে’

0
কুরবানী এক প্রথা নয়, ইবাদত। আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালনে হযরত ইবরাহীম আঃ থেকে শুরু ক‍রে সমস্ত নবী ও অনুসারীদের পালিত অবশ‍্যকর্তব‍্য। ভারতীয় মুসলিমরা সমস্ত প্রতিকূলতার মধ‍্যেও চিরদিন কুরবানী পালন করে এসেছে এবং দেশের সরকার চিরদিন কুরবানীর পশু চালান ও ক্রয়-বিক্রয়ে মুসলিম দেশবাসীকে সহযোগিতা করে এসেছে।
কিন্তু এ বছর বরাক উপত‍্যকায় গবাদি পশুর মধ‍্যে ব‍্যাপক ব‍্যাধি দেখা দিয়েছে। বাহ‍্যিক দৃষ্টিতে সুস্থ পশু হালাল করার পর ভিতরে পঁচা জখম পাওয়া যাচ্ছে। অথচ কুরবানীর জন‍্য নিখুঁত পশু হওয়া অপরিহার্য।
জামাআতে ইসলামী হিন্দের কেন্দ্রীয় শরীয়া কাউন্সিল বিগত ১০ জুলাই তারিখে এক বিজ্ঞপ্তি যোগে জানিয়েছিলো যে অনিবার্য কারণবশত নিদৃষ্ট কয়েকটি দিনের ভিতর কুরবানী করা সম্ভব না হলে কুরবানীর জন‍্য নির্ধারিত পশুমূল‍্য যাতে দরিদ্র বিপদগ্রস্ত মানুষের মধ‍্যে বণ্টন করে দেয়া হয়।
এইমর্মে মুসলিম সমাজকে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়ার জন‍্য আমরা জামাআতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধি দল নদওয়াতুত তামীরের সভাপতি ও আমীরে শরীয়ত হযরত মহতরম ইউসুফ আলী সাহেব এবং আহলে সুন্নতুল জামাতের উপদেষ্টা হযরত মহতরম সারিমুল হক সাহেবের বাড়িতে গিয়ে আলোচনা করি।
উভয় আলোচনাতেই জামাআতের শরীয়া কাউন্সিলের বা দেওবন্দসহ সমস্ত উলামাদের একই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়। পরবর্তীতে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে মনে হচ্ছে শুধুমাত্র অপটু সাংবাদিকতার জন‍্য বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
মুসলিম জনগণের প্রতি জামাআতে ইসলামী হিন্দের পরামর্শ হচ্ছে যে কুরবানীর জন‍্য সুস্থ পশু সংগ্রহের যথাসম্ভব চেষ্টা চালাতে হবে। ঈদের দিন সহ নিদৃষ্ট তিন দিনের ভিতর কুরবানীর সুস্থ পশু সংগ্রহ করতে না পারলে এর পর যেন পশুমূল‍্য দরিদ্রদের মধ‍্যে বণ্টন করে দেয়া হয়। এছাড়া সর্বপ্রকার স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিষ্ঠাবান হতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

(লেখক জামাতে ইসলামী হিন্দ, দক্ষিণ আসাম জোনের সভাপতি)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here