ভুটান সফরের দ্বিতীয় দিন: ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় সঙ্গী হোক ভুটান, বার্তা মোদীর

0
ছবি: সংগৃহীত

তরঙ্গবার্তা অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম হিমালয়ের কোলের ছোট্ট প্রতিবেশী রাষ্ট্র ‘ভুটান’ সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অবশ্য তাঁর প্রথম কার্যকালেও ভুটান সফরে গিয়েছিলেন। তবে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে জয় হাসিলের পর এই প্রথম পা রাখলেন ভুটানের মাটিতে। প্রধানমন্ত্রীর দু’দিনের ভুটান সফরের আজ রবিবার ছিল দ্বিতীয় দিন। 

শনিবার সকালে ভুটান পৌঁছোন মোদী। ভুটানের থিম্পুতে পা রাখার পর তাঁকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন মোদি। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রবিবার ভুটানের রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অফ ভুটানে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন মোদী। ভাষণ দিতে গিয়ে নব প্রজন্মকে সৃজনশীল হতে উৎসাহ প্রদান করার পাশাপাশি ভারত ও ভুটানের বিজ্ঞানচর্চার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। তাছাড়াও ভারতের প্রযুক্তিগত বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। 

ভারতে স্বাস্থ্য ও শিল্প বিকাশের প্রসঙ্গে সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মোদী। তাঁর দাবি, ভারতে দ্রুত হারে কমছে দারিদ্র। গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে শিল্প উদ্যোগ নির্মাণের কাজ৷ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারতের’ বিভিন্ন ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারতের’ অধীনে প্রায় ৫০ কোটি ভারতবাসী উপকৃত হয়েছেন।

ভুটানের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের চন্দ্রযান-২-এর চন্দ্রাভিযানের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন নরেন্দ্র মোদী। এদিন তিনি বলেন, খুব বেশি দূরে নয়, একদিন ভুটানও নিজের উপগ্রহ তৈরি করবে। রয়্যাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে মোদী বলেন, তিনি আশাবাদী যে একদিন তাঁদের মধ্যে থেকেই কেউ বৈজ্ঞানিক, ইঞ্জিনিয়ার এবং আবিস্কর্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। 

ভারতের ইন্টারনেট পরিসেবা সম্পর্কে মোদী বলেন, “ভারতে ইন্টারনেট ডেটা সবচেয়ে সস্তা। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা উপভোগ করছেন ভারতবাসী।”

ভারতের এই উন্নয়নের যাত্রায় সঙ্গী হোক ভুটান। রবিবার ভুটানের উদ্দেশে বার্তা দিলেন মোদী।

চন্দ্রযান-২-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুটানও কিছু দিনের মধ্যেই নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করতে চলেছে। “ভুটানের বৈজ্ঞানিকরা ভারতে এসে ভুটানের কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি ও উৎক্ষেপন করবেন। এটি আমাদের কাছে ভীষণই আনন্দের মুহূর্ত।” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত সরকার। সেই লক্ষ্যে অনড় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাকিস্তান প্রেক্ষাপটে ভারতের বর্তমানে অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন। তাই মোদীর ভুটান যাত্রা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন একাংশ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here