ভোট-অর্থনীতির চাপে প্লাস্টিকে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আপাতত শিকেয় তুলে রাখছে মোদি সরকার

0
ছবি: প্রতীকী

তরঙ্গবার্তা অনলাইন ডেস্ক: গান্ধী জয়ন্তীতে পরিবেশ দূষণ রোধে দেশজুড়ে সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত তা শিকেয় তুলে রাখছে মোদি সরকার। সামনেই মহারাষ্ট্র সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের কাছে অগ্রাধিকার ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে দ্রুত চাঙ্গা করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো।

পরিবেশ বাঁচাতে ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিকে তৈরি অন্তত ছয় ধরনের পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঠিক ছিল, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্মদিবস পালনের সময় সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রী সেই ঘোষণা করবেন। কিন্তু, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের উপর এই নিষেধাজ্ঞার যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

বহু সংস্থা বন্ধ হয়ে যাবে এবং মানুষ কাজ হারাবেন। তাই, প্লাস্টিকের কাপ, প্লেট, ক্যারিব্যাগ, ছোট বোতল, স্ট্র প্রভৃতির উৎপাদন ও ব্যবহারের উপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারি না করে ওই পণ্যগুলির ব্যবহার কমানোর অন্য ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রকের সচিব চন্দ্রকিশোর মিশ্র সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানান, আপাতত রাজ্যগুলিকে বলা হবে, তারা যেন সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক পণ্যের মজুত, উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে যে আইন-বিধি রয়েছে তা যেন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়।

তিনি বলেন, ‘কোনও নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে না। বরং, সাধারণ মানুষকে এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহারের কুফল নিয়ে সচেতন করা হবে এবং যত্রতত্র প্লাস্টিকের পণ্য না ফেলে ওই আবর্জনা একত্রিত করে রি-সাইক্লিংয়ের জন্য পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করা হবে।’

কেন্দ্রীয় সরকারের সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনায় বেজায় আশাহত ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি। এই সংস্থাগুলি সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিকের স্যাশে বা বোতলে বিস্কুট থেকে শুরু করে সাবান, শ্যাম্পু, কেচ্আপ, মশলা প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে। বণিকসভা সিআইআই মনে করে, সরকার এই পদক্ষেপ করলে বহু সংস্থার কাছে সেটা বাঁচা-মরার প্রশ্ন হয়ে উঠবে। কেননা, প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের বিকল্প এখনও তেমনভাবে সহজলভ্য নয়। বণিকসভার দাবি, ছোট প্লাস্টিকের বোতলে ওষুধ বা স্বাস্থ্যপানীয় বিক্রির ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে।

আর এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক জানান, অনেক বিবেচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখনই এমন কোনো পদক্ষেপ করা হবে না যাতে ব্যবসার ক্ষতি হয়। বরং, স্বেচ্ছায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। দেশে বর্তমানে বছরে ১.৪ কোটি টন প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়। (এইসময়)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here