এন‌আরসির চুড়ান্ত তালিকায় কাদের নাম না আসার সম্ভবনা বেশি ও পরবর্তীতে করণীয় কী

1
ছবি : সংগৃহীত
–লিখেছেন প্রখ্যাত আইনজীবী শিশির দে
১) যেসকল আবেদনকারী ক্লেইম পর্যায়ে লিগেসি ব‍্যক্তি পরিবর্তন করেছেন, বাবা থেকে মা, বাবা থেকে নিজ, বাবা থেকে ঠাকুরদা, বাবার দিক থেকে মায়ের দিকে, ইত‍্যাদি তাদের নাম চূড়ান্ত এনআরসিতে থাকছেনা। সম্ভবতঃ, যারা অতিরিক্ত হিসাবে পরিবর্তিত লিগেসি ব‍্যক্তির তথ্য দিয়ে পুনরাবেদন করেছেন, তাদের নাম ও থাকছেনা। তাদের বাবা-মা এর মধ্যে একজনের নাম চূড়ান্ত এনআরসিতে থাকলেও এবং তারা প্রকৃত নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের নাম থাকছেনা। এটা নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ এর ৩(১)(খ) ধারাকে স্পষ্ট লঙ্ঘন করে। তাদের নাম না উঠলেও, হতাশ হয়ার দরকার নেই। বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আপিলের মাধ‍্যমে তাদের নাম অর্ন্তভুক্ত হবে। সুপ্রিমকোর্টে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয় নি।
২) যাদের জন্ম ১ জুলাই ১৯৮৭ সালের আগে ভারতে হয়েছে এবং যারা লিগেসি প্রমাণ করতে পারে নি, তাদের নাম চূড়ান্ত এনআরসিতে থাকছেনা। যদিও তারা ৩(১)(ক) ধারায় প্রকৃত নাগরিক। তারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এ আপিল করতে হবে, কিন্তু সেখানেও ফল এই অবস্থায় পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সুপ্রিমকোর্টের আইনি লড়াইয়ের শেষে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। হতাশ হবেন না।
৩) যাদের জন্ম তিন ডিসেম্বর ২০০৪ এর পর হয়েছে, তাদের বাবা-মা উভয়ের নাম চূড়ান্ত এনআরসিতে না আসলে, তাদের নাম ও থাকছেনা। তাদের ও মা-বাবার একজনের মাধ্যমে নাম উঠার চেষ্টা চলছে। হতাশ না হয়ে অপেক্ষা করুন ও ট্রাইব্যুনালে আপিল করবেন।
৪) যাদের পরিবারের অনেকের নাম আসবে, কিন্তু এক বা একাধিক সদস‍্যের নাম নথির নানা ক্ষুদ্র অসঙ্গতির/সমস্যার জন‍্য নাম আসবেনা, তারা ট্রাইব্যুনালে আপিল করবেন এবং নাম উঠবে বলে আশা করা যায়।
৫) যাদের নাম অন‍্য কারনে আসবে না তারা তাদের নামের সবচেয়ে পুরোনো নথিপত্র, প্রথম ভোটে নাম উঠার তথ‍্য, বর্তমানের ভোটার তালিকার তথ‍্য, পাসপোর্ট, ইত‍্যাদি যা কিছু পাওয়া যায় সংগ্রহ করে আপিল করবেন। ভোটাররাই নাগরিক এই নীতি কোনদিন মান‍্যতা পেলে নাম উঠতেও পারে ভবিষ্যতে।
৬) সর্বাবস্থায় নাগরিকত্ব আইনে অভিজ্ঞ আইনজীবী দের পরামর্শ নেবেন, প্রয়োজনে দ্বিতীয়-তৃতীয় পরামর্শ নেবেন। হতাশাগ্রস্থ হয়ে কোন কঠিন সিদ্ধান্ত নেবেননা। মনে রাখবেন ৩১ আগস্টের তালিকা ই শেষ তালিকা নয়।‌
প্রখ্যাত আইনজীবী শিশির দে

1 COMMENT

  1. ধন্যবাদ শ্রী শিশির দে। নিরাশার মধ্যে আশার আলো দেখানো লেখা। যারা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে চুড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here