পদাধিকারীদের নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার ফরমান জারি, অন্যতায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি নদওয়ার

1
ফাইল ফটো

তরঙ্গবার্তা প্রতিবেদক, বদরপুর: উত্তর-পূর্ব ভারত এমারতে শরীয়া ও নদওয়াতুত তামীরের কোনো পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে নিষেধ প্রদান করেছে সংগঠনটি। সোমবার, নদওয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

আমীরে শরিয়ত মাওলানা ইউসুফ আলী, নদওয়ার সাধারণ সম্পাদক(প্রশাসন) মোঃ ফরিদ উদ্দিন আহমদ, নদওয়ার সাধারণ সম্পাদক তথা কাটিগড়ার প্রাক্তন বিধায়ক আতাউর রাহমান মাঝারভূইয়া ও যুব নদওয়ার কেন্দ্রীয় সম্পাদক মাওলানা উসামা মবরুর চৌধুরীর সাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিটি ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপের বদৌলতে অনেকের কাছেই পৌঁছে গেছে।

বিজ্ঞপ্তিটিতে লেখা হয়েছে, কেউ যেন নদওয়ার পদাধিকারীদের নিয়ে পত্র-পত্রিকায় অথবা ফেসবুকে আলোচনা অথবা মন্তব্য না করেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে যদি কেউ নদওয়ার কোনো পধাদিকারীদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করেন তাহলে সংগঠন আইনগত ব্যবস্থা নিতেও বাধ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নদওয়ার জারি করা বিজ্ঞপ্তি

ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিটি ভাইরাল হয়ে গেছে। কিন্তু কী ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে তার কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই। শুধু বলা হয়েছে পদাধিকারীদের নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য না করতে৷ ফলে এটা নিয়েও কৌতূহল জমেছে অনেকের কাছেই।

নদওয়ার হঠাৎ করে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় শুরু হয়েছে। একাংশ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ছবি: সংগৃহীত

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক জনৈক নদওয়ার সমর্থক বলেন, ” প্রথম এবং দ্বিতীয় আমীরে শরিয়তরাও অনেক সমালোচিত হয়েছে। কিন্তু কোনোদিন তাঁরা এভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ফরমান জারি করতে শুনিনি বরং এসব এড়িয়ে চলেছেন। তাছাড়া কাউকে নিয়ে শালীনতা এবং ভদ্রতা বজায় রেখে কেউ সমালোচনা করলে সেটা ইগনোর করাই উত্তম। এটা নিয়ে আইনগত ভাবে হুমকি দেওয়ায় হয়তো অনেকেরই সেন্টিম্যান্টে আঘাত লাগতে পারে। ফলে বিতর্ক বাড়বে বৈ কিছুই নয়। ”

আরেক কর্মীর মন্তব্য, “হয়তোবা সংগঠন চাইছে, যাতে নদওয়া নিয়ে কেউ অহেতুক মন্তব্য করে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হোক।”

তবে আরেকটা প্রশ্ন থেকেই যায় নদওয়ার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ফেসবুক পোস্ট নিয়ে। আমীরে শরিয়ত মাওলানা ইউসুফ আলী অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে যান গুয়াহাটি। আর ঠিক তখনই নদওয়ার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দেন, আমীরে শরিয়তের এই সাক্ষাৎ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত। কারণ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন বলে কাউকে জানান নি। এমনকি নদওয়ার মজলিসে সুরার বৈঠকের সিদ্ধান্তক্রমে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে যাননি।

ছবি: সংগৃহীত

প্রসঙ্গত, মজলিসে সুরা হচ্ছে অনেকটা সরকারি কেবিনেট বৈঠকের মতো৷ প্রথম আমীরে শরিয়ত মাওলানা আব্দুল জলিল সাহেবের আমল থেকেই চলে আসছে তা। এই সুরার বৈঠকেই নদওয়ার শীর্ষ পদাধিকারীরা কোনো কিছু করার আগে মিলিত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন সাহেবের এই পোস্ট নিয়েও ফেসবুকে অনেক বিতর্ক হতে দেখা গেছে। তারপর মাওলানা ফরিদ উদ্দিন সাহেব তাঁর ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করে দেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি এই পোস্ট ডিলিট করে দিলেও পোস্টের স্ক্রিনশট রয়েছে অনেকের কাছেই৷ তাই প্রশ্ন উঠেছে, যখন সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যেই শীতলযুদ্ধ হচ্ছে, তখন আম জনতার মুখ বন্ধ করতে মামলার ভয় দেখানো কতটুকো যুক্তিসঙ্গত৷

তাছাড়া, আরেকটি ফোটো ভাইরেল হয়েছে ফেসবুকে, সেখানে দেখা যাচ্ছে দক্ষিন করিমগঞ্জের বিজেপি কর্মী তথা মাইনোরিটি নেতা ইকবাল বাহারের সাথে ভোজনে ব্যস্ত আমীরে শরিয়ত মাওলানা ইউসুফ আলী। এই ফোটো নিয়েও প্রবল বিতর্ক হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷

ছবি: সংগৃহীত

এ প্রসঙ্গে নদওয়াতুত তামীরের মসলিসে সুরার সদস্য তথা কংগ্রেস কর্মী মজিবুর রাহমানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য প্রদান করবেন না বলে জানিয়ে দেন।

যুব নদওয়ার কেন্দ্রীয় সম্পাদক উসামা মবরুর চৌধুরী তরঙ্গ বার্তা প্রতিবেদককে জানান, ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ ভুল করলে তার সমালোচনা করতে গিয়ে সংগঠনকে জড়ানো উচিত নয়। উত্তর-পূর্ব ভারত এমারতে শরিয়া ও নদওয়াতুত তামীরের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করলে এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় গঠনমূলক সমালোচনায় তাঁদের কোন আপত্তি নেই। কারণ সংবিধান প্রদত্ত বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কারো অধিকার নেই, জানিয়েছেন উসামা মবরুর।

1 COMMENT

  1. I do not why today’s few Maulana s came in politics. They are trying to defame Nadhua sanghtan.i am shocked when I saw few Maulana s of Nadhua sanghtan are defame their own sanghtan.
    This Maulana should be suspend from the sanghtan.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here