কাটিগড়া পরিদর্শনে নয়া জেলাশাসক মাধুরী, কালো হিরার কালো কারবারে এক রাতে ১কোটি, অভিমত নাগরিক সভায়

0
ছবি : নিজস্ব
আব্দুস সুবাহান লস্কর, তরঙ্গ বার্তা, কাটিগড়া : কার্যভার গ্রহন করে প্রথম বারের মতো মঙ্গলবার কাছাড় জেলার ইন্দো-বাংলা সীমান্ত কাটিগড়া সফরে এলেন কাছাড়ের নয়া জেলাশাসক লায়া মাধুরী। কাটিগড়া এসে প্রথমেই যান কাটিগড়া সার্কেল অফিসে। সার্কেল অফিসার জিতেন টাইডকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দেখেন গোটা অফিস চত্তর। খতিয়ে দেখেন এনআরসি সহ নানা কাজ কর্ম।
পরে সিদ্ধেশ্বর প্রগতিসঙ্গে ভিড়ে ঠাসা নাগরিক সভায় অংশ নেন জেলাশাসক। গোটা কাটিগড়া অর্থাৎ কালাইন ও কাটিগড়া দুই উন্নয়ন খণ্ড জুড়ে দেধার জনগনকে নিমন্ত্রণ করে আনা হলেও সময়ের সল্পতার অজুহাতে অনেক প্রত্যন্ত এলাকার সমস্যার পাহাড় সম্পর্কে জেলা শাসককে অবগত করানোর সৌভাগ্য হয় নি জনগনের। যাই হউক, প্রথমেই সার্কেল অফিসার জিতেন টাইড তার সার্কেলের নানা তথ্য তুলে ধরেন জেলাশাসকের সামনে। পাটোয়ারী কানোন গো রা একে একে তাদের সমস্যা তুলে ধরেন সভায়।
এর পরই শুরু হয় উপস্থিত নাগরিকদের বক্তব্য, যা কাটিগড়ার ইতিহাসে প্রথম অর্থাৎ ইনিই প্রথম জেলা শাসক, যিনি কাজে যোগ দিয়ে জনগণের সমস্যা জানতে সভায় অংশ নিলেন। কাটিগড়া কে অসাম্প্রদায়িক এলাকা হিসাবে অভিহিত করে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সামছুল হক চৌধুরীর বক্তব্য, কাটিগড়ায় সাম্প্রাদায়িকতার স্থান নেই। আমরা হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায় ভাই ভাই হিসাবে সুদীর্ঘ বছর থেকে বসবাস করছি।
কাটিগড়ার মহকুমা প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, অনেক আন্দোলন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে কাটিগড়াকে মহকুমা ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্ত রহস্যজনক ভাবে এর বাস্তব ফলন ঘটে নি আজও। তিনি সত্বর এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবার আর্জি জানান।
কালো হিরা প্রসঙ্গে কাটিগড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি হুসেন আহমেদ চৌধুরী জানান, কালো হিরার কালো কারবার নিয়ে বরাক ব্রহ্মপুত্রে অনেক জল গড়ালেও নিটফল শুন্য। আজও কালো কারবার অব্যাহত। প্রতিরাতে দিগরখালে গাড়ী প্রতি ১ লক্ষ করে পুরোপুরি অবৈধ ভাবে আদায় করা চলছে পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে। এতে সরকারী রাজস্ব তো মার খাচ্ছেই, মার খাচ্ছে কয়লার উপর নির্ভরশীল ইন্ডাষ্ট্রী গুলো। আজ ইট কিনতে হাজার প্রতি ১৫ হাজার টাকা।
সংবাদ মাধ্যমের পক্ষে সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদ জানান, প্রতিরাতে এই কয়লা থেকে কম করে এক কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি অবৈধ।কাটিগড়ার প্রাথমিক শিক্ষার করুন পরিনতি তুলে ধরেন শিক্ষাবিদ আব্দুল বাতিন। তিনি ডি ভোটার সমস্যা নিয়েও সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন।
কালাইল উন্নয়ন খন্ডের পক্ষে জামিলা বেগম কালাইনের- যানজট সমস্যা
সমাধানের আর্জি জানান। এছাড়া ডিগাবর রোডের পুকুর সম গর্তের জন্য সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে সবর হন সভায়। তিনি এনআরসি সেবা কেন্দ্র গুলোর দৈন্যদশা নিয়ে জেলা শাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কালাইন-শিলচর রোডের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ টেনে তা আসু সংস্কারের আর্জি জানান কালাইনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আজিজুর রহমান খান। বলেশ্বর হাইয়ার সেকেন্ডারীর পরিকাঠামো উন্নয়নের আর্জি জানান কলক নাথ।
সভা শেষে জেলা শাসক কাটিগড়া মডেল হাসপাতাল, কাটিগড়া উন্নয়ন খন্ড কার্যালয় ও রাজারটিলার ভাঙ্গন স্থল পরিদর্শন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here