ভূমিপূজনের মাধ্যমে কাছাড়ের শ্রীকোনায় বরাকবাসীর স্বপ্নের ‘মিনি-সচিবালয়ের’ কাজ শুরু

0
ছবি: সংগৃহীত

তরঙ্গবার্তা ডেস্ক: বরাক উপত্যকায় একটি মিনি-সচিবালয় স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। কংগ্রেস সরকারের আমলে বরাকবাসীর সে স্বপ্ন পূরণ না হলেও এবার বিজেপির হাত ধরেই সে স্বপ্ন যেন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। ফলে পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটানা নয়-দশ ঘন্টা ধরে আর বাস চড়তে হবে না।

গেল বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় আসলে বরাক উপত্যকাবাসীর সুবিধার্থে এখানে একটি মিনি সচিবালয় স্থাপন করা হবে। নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো বরাক উপত্যকায় বহু প্রতিক্ষীত মিনি-সচিবালয়ের কাজের সূচনা হলো আজ। বনবত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্যের তত্বাবদানে আজ সকাল এগারোটায়’ভূমিপূজন’ এর মাধ্যমে মিনি সচিবালয়ের কাজের সূচনা করা হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

শিলচর শহরের অদূরবর্তী শ্রীকোনাতে স্থাপিত হচ্ছে মিনি-সচিবালয়। মোট ৪.১৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে মিনি সচিবালয়ের ভবন নির্মাণে। ইতিমধ্যেই প্ল্যান-ইস্টিমিটের কাজ সেরে ফেলা হয়েছেন। প্রাথমিক অবস্থায় মাটি ভরাট এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য খরচ হবে দেড় কোটি টাকা।

শ্রীকোনার আইটিআই’র কাছে আজকের এই ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে বরাকের তিন জেলার জেলাশাসক সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তবর্গ ও পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া ছিলেন বরাকের মন্ত্রী বিধ্যায়করাও। শিলচরের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ কবীন্দ্র পুরকায়স্থ, সোনাইর বিধায়ক আমিনুল হক, শিলচরের বিধায়ক দিলীপ পাল, আলগাপুরের বিধায়ক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ও কাটলিছড়ার বিধায়ক সুজাম উদ্দিন লস্কর, কাটিগড়ার বিধায়ক অমরচাঁদ জৈন প্রমুখরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সভায় সদ্য বিজেপিতে যোগদান করা প্রাক্তন কংগ্রেস মন্ত্রী গৌতম রায়কেও দেখা গেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সব বক্তারাই রাজ্যসরকারের এই পদক্ষেপের ভুয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যের উন্নতি তরান্বিত হচ্ছে বলে সবাই দাবি করেন।

ছবি: সংগৃহীত

বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালকে ‘মহানায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর বলিষ্ঠ পদক্ষেপেই আজকের এই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। তিনি বলেন, আজ থেকে তিন বছর আগে রাজধানী শহর দিশপুরে যেতে হলে সতেরো থেকে আঠারো ঘন্টা সময় লাগতো৷ কিন্তু সর্বানন্দ সরকারের কারনে এখন ছয় থেকে সাত ঘন্টায় গুয়াহাটি পৌঁছা যায়। বিভিন্ন অফিসিয়্যাল কাজে দিশপুরে যেতে গিয়ে কতো যে বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে, কতো বাস পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ের খাদে পড়েছে তার হিসেব নেই।

দুর্ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে পরিমল বাবু বলেন, এখন আর সেদিন শেষ৷ প্রায় সত্তর শতাংশ কাজ বরাকের মিনি সচিবালয়েই হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। আগামি দিনে গুয়াহাটি সচিবালয়ের কোনো কাজে আর দিশপুরে যেতে হবেনা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২রা মার্চ মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল শিলচরে এসে মিনি সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভূমি পূজনের মাধ্যমেই বরাকবাসীর স্বপ্নের মিনি-সবিলয়ের কাজের শুভারম্ভ হলো৷

রাজ্যসরকারের এই পদক্ষেপে উপত্যকার সর্বশ্রেণীর মানুষের মধ্যে খুশির হাওয়া বইছে। সবার মধ্যে এক নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনার সঞ্চার ঘটছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here