মন্দির মসজিদের রাজনীতি – মুজিব স্বদেশী

0

রামমন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে এই আন্দোলন মুসলিমদের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না বলেই মনে করি; যা করবে, তা বাহ্যিক! হয়তো জুনেদ, আখলাকদের মতো কতিপয় প্রাণ কেড়ে নেবে! এরচেয়ে অধিক কী আর করতে পারবে? কারণ, মৃত্যু তো এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া! মানুষ মাত্রই মৃত্যু দণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত! দু’দিন আগে বা পরে, এই যা পার্থক্য! কিন্তু এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের শতবর্ষ পেছনে নিয়ে যাচ্ছে এসব ধর্মভিত্তিক আন্দোলন! এদেশে হিন্দুরা যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই গণতন্ত্রে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ জনগণই হিন্দু। তাই, এই বিশালসংখ্যক জনগণের মতামতের ওপর নির্ভর করে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। এই বিশাল জনমত যেদিকে ধাবিত হবে, কারও সাধ্যি নেই তার গতি রোধ করার! তাই উন্নয়ন যেহেতু দেশের জনগণের নিকট অলীক স্বপ্ন, কথায় কথায় নিত্যনতুন ফরমান, তীব্র বেকারত্ব, সর্বত্র একটা “নিয়মের রাজত্ব”! জনগণের ওপর প্রভুত্বসুলভ মনোভাব। এমতাবস্থায় এই বিশাল দুর্গত মানুষের মতামতকে বাগে রাখতে হলে একমাত্র ওষুধ হচ্ছে, ধর্মীয় জিগির তুলে তাঁদের ধর্মের দিকে মনোযোগী করে তোলা!

অসমে বিগত কংগ্রেস সরকার মুসলিমদের বেশ ক’টি ক্বওমি মাদ্রাসায় পাঁচ লক্ষ টাকা করে অনুদান দিয়েছিল। আমি তীব্র প্রতিবাদ করেছিলাম দৈনিক নববার্তা প্রসঙ্গ-এর সম্পাদকীয় স্তম্ভে। সাদা চোখে একে সরকারি অনুদান বলে দেখা গেলেও এর পেছনে ছিল অন্য কারণ! মুসলিমদের আধুনিক শিক্ষাগ্রহণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা! জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা থেকে মুসলিমদের দূরে সরিয়ে রেখে মুসলিমদের প্রগতির পথ রুদ্ধ করে দেওয়া! ধর্মীয় শিক্ষার দিকে মুসলিমদের প্রলোভিত করা! আধুনিক বিশ্ববীক্ষা থেকে মুসলিমদের অভিমুখ ঘুরিয়ে দিয়ে ধর্মের দিকে উৎসাহিত করা! মসজিদ আর মাদ্রাসায় তাঁদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা! কংগ্রেস এক্ষেত্রে সফলও হয়েছিল অনেকটা! কোনওদিন শোনা যায়নি অসমে কোনও মুসলিম প্রশাসনিক কোনও পদে শীর্ষস্থান দখল করতে! মেডিক্যাল কলেজ বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ব্যাপকহারে মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখাতে! কিন্তু ইদানীং তা হচ্ছে। মুসলিম ছেলেমেয়েরা মাধ্যমিক পরীক্ষায় শীর্ষস্থান দখল করছেন। মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সহ প্রশাসনিক বিভিন্ন পরীক্ষায় সাফল্যের নজির সৃষ্টি করছেন। প্রতি বছর অসংখ্য মুসলিম ছেলেমেয়ে জেনারেল বা অপেন ক্যাটাগরিতে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করছেন। আসাম পাবলিক সার্ভিস কমিশনে শীর্ষস্থান দখল করার কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন।এ-আসলে কারও দয়ায় বা অনুকম্পায় নয়। নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী তা অর্জন করছেন, মাত্র সাড়ে ৫০ শতাংশ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই।কারণ, সাড়ে ৪৯ শতাংশ আসন বা পদ তো বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত! তাই, সীমিত পরিসরে অসম যুদ্ধ করে প্রাপ্ত এই অর্জনকে সাফল্যের নিরিখে ২০০শতাংশ বলে জ্ঞান করতে হবে।

হিন্দুদেরও রামমন্দির নির্মাণের কথা বলে প্রলোভিত করা হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে! এ আসলে প্রগতির রথ নয়। এ দুর্গতির উল্টোরথ!

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here