লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ : ভোট নিয়ে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের নীরবতা কেন?

0
ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুম্বাইতে মুসলিম তরুণদের মিছিল। এপ্রিল, ২০১৯ – ছবি : গেটি ইমেজেস
তরঙ্গ বার্তা, ডিজিটাল ডেস্ক : দেশের মুসলিম সমাজের কোন দল বা জোটকে ভোট দেওয়া উচিত, সে ব্যাপারে তাদের বিভিন্ন সংগঠন বা ধর্মীয় নেতৃত্বের নির্দেশ দেওয়ার প্রবণতা এবারে এখনও তেমন একটা চোখে পড়ছে না।
যেমন দিল্লির জামা মসজিদের শাহী ইমাম, কিংবা মুসলিমদের প্রভাবশালী সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড – কেউই এখনও আসন্ন নির্বাচনে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেননি।
মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট বা রাজনীতিবিদরা অনেকেই অবশ্য বিবিসিকে বলছেন, মুসলিমরা অন্য কারও কথায় নিজের ভোট স্থির করবেন সেই দিন পেরিয়ে এসেছে – আর তাই ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বক্তব্যেরও তেমন একটা গুরুত্ব নেই।
বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে জামা মসজিদের শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি, পার্সোনাল ল’ বোর্ডের নেতা মৌলানা কালবে জাওয়াদের মতো অনেক নেতাকেই বলতে শোনা গেছে, মুসলিমদের কোন দলকে ভোট দেওয়া উচিত।
ত্বহা সিদ্দিকী। ছবি : বিবিসি
পশ্চিমবঙ্গেও ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি ভোটের মরশুমে বরাবর জানিয়ে এসেছেন তার রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ – এবং এমন উদাহরণ আরও অজস্র।
কিন্তু ২০১৯-র সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে এসে দেখা যাচ্ছে এগুলোর প্রাসঙ্গিকতা ক্রমশ কমছে।
দিল্লির প্রবীণ সাংবাদিক স্মিতা গুপ্তা বলছিলেন, “বিজেপি যবে থেকে দেশে শক্তিশালী হয়েছে তখন থেকেই মুসলিমরা কিন্তু সচরাচর দেখেন, বিজেপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী কোন দলের।”
“এই মুহূর্তে যেমন আমি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে সফর করছি, এখানেও যেমন মুসলিমরা দেখছেন বিজেপিকে হারানোর ক্ষমতা কোন কেন্দ্রে কার বেশি – কোথাও সেটা সমাজবাদী-বসপা জোট, কোথাও আবার কংগ্রেস।”
“নব্বইয়ের দশকে রাম জন্মভূমি আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন মুসলিমরা বিক্ষোভ দেখাতে কথায় কথায় রাস্তায় নেমে আসতেন। কিন্তু এখন সে সব অতীত, তারাও বুঝে গেছেন ওভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে কোনও লাভ নেই।”
আসলে একুশ শতকের ভারতে মুসলিম ভোটাররাও এখন যথারীতি অনেক পরিণত, অনেক আধুনিকমনস্ক।
নূরজাহান সাফিয়া নিয়াজ। ছবি : গেটি ইমেজেস
মুম্বাইতে ‘ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনে’র নেত্রী নূরজাহান সাফিয়া নিয়াজ আবার বলছিলেন, এই ধারণাটা সব সময় মোটেও ঠিক নয়।
তিনি জানাচ্ছেন, “বোম্বেতেই যেমন আমরা দেখেছি স্থানীয় পুরসভার নির্বাচনে মুসলিমরা শিবসেনাকেও ভোটে জিতিয়েছেন – যে দলটি বাবরি মসজিদ ভাঙার পর এই শহরের দাঙ্গার জন্য অনেকাংশে দায়ী ছিল।”
“এমন বেশ কিছু আসনে শিবসেনা কর্পোরেটর পেয়েছে, যেখানে অনেক মুসলিম ভোট না-পেলে তাদের জেতা সম্ভবই নয়। “তবে কথা হল, ভারতে মুসলিমদের সামনে এখন অপশনটাই বা কী?”

সৌজন্যে : বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here