প্রয়াত বদরপুরের বিশিষ্ট শিক্ষক মাওলানা আব্দুর নূর: এক প্রচার বিমুখ ব্যক্তিত্ব

0

আমিরে শরীয়ত মাওলানা ইউসুফ আলী, আসামের প্রাক্তন পেনশন কমিশনার প্রয়াত আফতাব উদ্দিন, প্রাক্তন আমলা আব্দুল ওয়ারিস চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার তমিজুল হক, ড. আখতার উদ্দিন, আইনজীবী ইমাদ উদ্দিন বুলবুল সহ বদরপুরের বিশিষ্টজনের শিক্ষক মরহুম আব্দুর নূর সাহেবের স্মৃতির প্রতি জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তিনি বদরপুরের সেকেন্ড হুজুর নামে পরিচিত ছিলেন। সমাজকে সঠিক পথের দিশারি প্রয়াত মওলানা আব্দুর নূর ১৯৩৬ সালে করিমগঞ্জের সৈয়দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন অখন্ড ভারতে শ্রীহট্টের বীরশ্রী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হুজুরের ছাত্র জীবন শুরু হয়। সিলেট হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে ১৯৫৩ সালে করিমগঞ্জ কলেজে পিইউ-তে ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে পিউ পরীক্ষা দেন।

৩০ টাকা বেতনে ১৯৫৫ সালের ২২ আগস্ট তিনি দেওরাইল এমই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করেন আদর্শ শিক্ষক মওলানা আব্দুল নূর। পদ নয়, হুজুরের লক্ষ্য ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের মানুষ করে তোলা।

আমি- সমাজ, সামাজিকতা, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ, সমতা, স্বতন্ত্রতা ইত্যাদি শব্দের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে এসব শব্দের তাৎপর্য বুঝিয়ে দেবার মত কিছু বিরল ব্যক্তিত্ব বা শিক্ষকদের ছাত্র হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার এমই মাদ্রাসা জীবনে যাঁরা তাদের পাঠদানের মধ্যে সামাজিক, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ঘটনাগুলো খুবই সুন্দর ভাবে আমাদের কৈশোর জীবনে উপলব্ধি করার মত উপস্থাপন করেছিলেন। সেই শিক্ষকদের কাছে আমরা শিক্ষা লাভ করতে এটা উপলব্ধি করতে পারিনি যে শিক্ষকতা একটা জীবিকা।

আমরা উপলব্ধি করেছিলাম শিক্ষকতা শিষ্টাচার, ক্ষমা আর কর্তব্য পরায়নতার এক বাস্তবায়ন। সেকেন্ড হুজুর (মাওলানা আব্দুন নূর) এবং (আব্দুল মুক্তাদির সাহেব) পন্ডিত হুজুরদের থেকে আমরা জেনে ছিলাম বদরপুরের রূপকার শাহ বদরুদ্দীন, শাহ জিয়াউদ্দিন, শাহ সেকন্দর গাজী, শাহ আদম খাঁকির ইতিহাস।

সেই সেকেন্ড হুজুরের কাছে শুনেছিলাম স্বাধীনতা যুদ্ধে জলিল সাহেব, আহমদ আলী সাহেব, হাতেম আলী সাহেবদের অবদান। আমার এই মাদ্রাসা শিক্ষকমন্ডলীর মধ্যে একমাত্র বেঁচে থাকা শিক্ষক যিনি সেকেন্ড হুজুর মাওলানা আব্দুন নূর সাহেব গত ২১ আগস্ট শুক্রবার রাত ১২ টা ৪০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ছাত্রজীবনে বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিতেন। প্রয়াত শিক্ষক, সমাজসেবী আব্দুন নূর সাহেব স্থানীয় দক্ষ বিচারক ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ইমামগঞ্জ এমই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ছিলেন। কুশিয়ারকুল এইচএস স্কুল, ইমামগঞ্জ মাদ্রাসা, জনকল্যাণ হাই স্কুল, নামর আলী এমই স্কুল, ক্রিসেন্ট সেকেন্ডারি স্কুল, নিউ ইংলিশ স্কুল সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে ভাবে জড়িত ছিলেন।

আল্লাহর কাছে এই দোয়া, যে মানুষটি প্রচারের আড়ালে থেকে দিনের পর দিন মানুষ গঠনের কাজে ও সমাজকে এক দিশা দেখানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তাঁকে যেনো পরম করুণাময় পরকালে জান্নাতের উঁচু মর্যাদায় ভূষিত করেন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here