আল আমিনের অন্যতম এক দিশারী মরহুম আব্দুল কাদির (রঃ)- তাঁকে নিয়ে কিছু স্মৃতি, কিছু কথা

1
হিফজুর রহমান খাজাম: সালটা ১৯৯৮, আল আমিন একাডেমি একটা ভাড়া ঘরে চলছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে বাঁশ বেতের তৈরি স্বল্পসংখ্যক ছাত্রদের নিয়ে অন্য চারটি স্কুল যেভাবে চলছে সেভাবেই আল আমিন একাডেমি চলছিল। ভবিষ্যৎ তেমন উজ্জ্বল ছিল না। ৫০০/৭০০ টাকা বেতনে আল আমিন একাডেমিতে চাকুরি করছিলাম। স্কুলের তেমন কোনও সুন্দর ভবিষ্যত নেই। সেই সময়ে অসমের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি, নেলী হত্যাকাণ্ডে এবং বরপেটা হত্যাকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রিলিফ-এর কাজ করছিলেন। সেই প্রচারবিমুখ মানবতাদরদী ব্যাক্তিত্ব জামাআতে ইসলামী হিন্দ উত্তরপূর্ব ভারতের সভাপতি জনাব রাহমাতুল্লাহ শরীফ সাহেব আল আমিন একাডেমিতে এসে এই পরিস্থিতি অনুধাবন করেন।

তিনি হায়দরাবাদের তার সাথী শাইখ আব্দুল কাদির সাহেবের কাছে আল আমিনের সম্পূর্ণ অবস্থা তুলে ধরেন। চালচলনে সম্পূর্ণ সাধারণ এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সাহসিকতার সহিত মোকাবেলা করার আর এক নাম শাইখ আব্দুল কাদির। তিনি তার মুর্শিদের (আধ্যাত্মিক গুরু) আহ্বানে সাড়া দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েন। আল আমিন একাডেমির জন্য ব্যবস্থা করেন জমি, মসজিদ এবং শহরের বুকে এক মনোরম কমপ্লেক্স। মসজিদের নামকরণ করা হয় মসজিদে হালিমা। এরপর আল আমিনকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আল আমিন আছে থাকবে, মসজিদে হালিমা আছে থাকবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আমাদের মধ্যে নেই শাইখ আব্দুল কাদের (রঃ)।
আল্লাহ যেন তাঁর সকল প্রচেষ্টাকে কবুল করেন। আল্লাহ তাকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। কাদির সাহেবের সাধারণ জীবন যাপন যখন দেখি এবং এত বড় অবদান দেখি তখন আমাদের আশপাশের চাঁদা আদায়কারীদের গাড়ী/বাড়ী এবং অসাধারণ জীবন যাপন তাদের খোদাভীরুতায় (তাকওয়ায়) প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়। যাই হোক, শাইখ আব্দুল কাদির সাহেবের মতো যেন আমরা আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূলকে অনুসরণ করতে পারি এই দুআ থাকলো সবার কাছে।
( লেখক আল আমিন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জামাআতে ইসলামী হিন্দ দক্ষিণ অসম জোনের সম্পাদক )

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here