বিভিন্ন প্রশ্ন ও সন্দেহের আবর্তে করিমগঞ্জ জেলা পরিষদ বোর্ড গঠন, সন্দেহের তীরে বিদ্ধ কংগ্রেসের ৩টি ভোট

0
ছবি : সংগৃহিত
রুহুল কুদ্দুস, তরঙ্গ বার্তা, করিমগঞ্জ : গত সোমবার এক প্রস্থ নাটক শেষে বেলা গড়িয়ে পড়তে তীরে এসে তরী ভাসলো। অবশেষে ভাগ্য নিয়ন্ত্রকের শেষ ঈশারায় কংগ্রেস টসে জিতে করিমগঞ্জ জেলা-পরিষদ দখল করলো।
কিন্তু কংগ্রেসের এ জয় কংগ্রেসকে বিভিন্ন প্রশ্নবাণের মুখে ফেলে দিয়েছে। সন্দেহের আবর্তে রেখে দিয়েছে কংগ্রেসী জেলা পরিষদ সদস্যদের। ইতিমধ্যে মমতাজ বেগমের ভাইরাল গোপন ভোটিং ব্যালট মমতাজকে মর্যাদার শিখরে নিয়ে গেলেও বাকীরা বিশ্বাসঘাতকার অভিযোগে শুলিবিদ্ধ।
গোধের উপর বিষফোঁড়ার মতো হয়েছে এআইইউডিএফ দলের সদস্যদের ভোটিং অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায়। যদিও অতি গোপন সুত্রে প্রকাশ, এআইইউডিএফের কনকলস(রেজিয়া বেগম) ও দত্তপুর (আয়েশা খানম তাপাদার) জেলা পরিষদের ২ সদস্যই কংগ্রেসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
অন্যদিকে উমরপুর-শ্রীগৌরীর নির্দল সদস্য এনাম উদ্দিনও মানবিক খাতিরে কংগ্রেসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
গতকাল দিনভর ১০=১০ নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা চায়ের কাপে তুফান তুলেছেন। তাদের সংগে আলাপচারিতা থেকে যা বুঝা গেলো, কংগ্রেস তাদের নিজস্ব ১০ সদস্য সহ মাইজগ্রাম-সুতারকান্দির সমর্থিত নির্দল প্রার্থী আমিনা বেগমকে নিয়ে ১১ সদস্যের সাজানো বাগানে জেলা পরিষদ দখলে চেয়ারম্যান/চেয়ারপার্সন নিয়ে দিনভর দড়ি টানাটানি করেছিল। হেলাল খান বনাম মমতাজের মধ্যে ভোটাভোটি হয়েও শেষ পর্যন্ত সবাইকে ফেলে মাজ পথে আফরোজা পারভীনকে নিজ স্বার্থে প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমদ টেনে আনেন।
অংকের টেবিলে কংগ্রেস ১০, বিজেপি ৬, এআইইউডিএফ ২, নির্দল ২ দিয়ে জেলা পরিষদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়ে আসেন।
ঘোড়া কেনা বেচা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষিতায় কংগ্রেস থেকে আশিষ নাথ বিজেপিতে ভিড়ে যাওয়ায় কংগ্রেসের ৯ সদস্য সহ ২ নির্দল ও ২ এআইইউডিএফ সদস্য মিলিয়ে সর্বমোট ১৩টি ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু গোপন ভোটের বাক্স খোলে দেখা যায় কংগ্রেস ১০ এবং বিজেপি ৭’র জায়গায় ১০। এখান থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন প্রশ্ন ও সন্দেহ। কংগ্রেস থেকে কোন ৩ সদস্য ক্রস ভোটিংয়ে বিজেপিকে গোপনে সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ সন্দেহ করছেন করিমগঞ্জ উত্তর থেকে ২টি ভোট বিজেপি’র ঝুলিতে গিয়েছে, আবার কারো মতে ৩টি। তবে গোপন সুত্রে জানা যায় ,শহর ঘেষা এক আসনের সদস্য সহ উত্তর থেকে ৩টি কংগ্রেস ভোট বিজেপি’র ঝুলিতে গেছে।
সমালোচকরা এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাদের মতে, জাল নথি’র মামলায় কাউকে কাবু করে, কিংবা কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় বড় অংকের প্রলোভনে বা ক্ষমতার দাপটে বিশ্বাসঘাতকদেরকে করায়ত্ব করেছে বিজেপি।
বিশ্লেষকদের অকাট্য যুক্তি, সভাপতি নির্বাচনে যেখানে আফরোজা পান ১০ টি ভোট, সেখানে সহ সভাপতি পদে গান্ধাই-ব্রাহ্মণশাষণের কংগ্রেস সদস্য শংকর মালাকার ১১টি ভোট কোন সমীকরণে পান ?
যদিও সর্বশেষ জয় কংগ্রেসেরই হয়েছে, কিন্তু বিধায়ক কমলাক্ষের ঘরে যে বিভীষণ বাস করে, তা তিনি মোটেই অস্বীকার করতে পারবেন না। তবে কিছু কংগ্রেসি উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে এআইইউডিএফের ২ সদস্যকে বিজেপি দোষর আখ্যা দিয়ে নিজ দলের বিভীষণদের আড়াল করতে সামাজিক মাধ্যম সহ অন্যান্য ভাবে জোর গলাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন, তা উপভোগ করার মতো।
যদিও বিধায়ক কমলাক্ষ দে’র আন্তরিক তৎপরতায় এ যাত্রায় কংগ্রেস মুখ রক্ষা করতে পেরেছে, তথাপি আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই বিভীষণদের নিয়ে কি নিজের প্রভাব বজায় রাখতে পারবেন, তা কিন্তু লাখ টাকার প্রশ্ন। কারণ, করিমগঞ্জ জেলা পরিষদের বোর্ড নির্বাচন সন্দেহের চোরাস্রোতে বিভিন্ন প্রশ্ন করিমগঞ্জের জনমনে উপস্থাপন করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here