সিলেটি ভাষার টানে ঘুরছি দেশ দেশান্তরে: জেমস উইলিয়ামস

0
সিলেটি ভাষাভাষী মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য সুদূর লন্ডন থেকে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছলেন জেমস উইলিয়ামস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ক্যাবিনেট সদস্য ফেরদৌস আহমেদ ও মিনহাজ উদ্দিনের সাথে।

আলীগড়: সিলেটি ভাষা বলতে অনেকে মনে করতে পারেন এটি তো হচ্ছে একটি গ্রামীণ ভাষা যা সাধারণত আসামের বরাক উপত্যকা বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের ঘরোয়া ব্যবহৃত ভাষা। কিন্তু জেমস সে কথায় পাত্তা দিতে নারাজ।

এখন প্রশ্ন হলো জেমস আবার কে? হ্যাঁ সিলেটি ভাষা নিয়ে কিছু লিখার আগে জেমস কে পরিচয় করিয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। উনার পুরো নাম জেমস লয়েড উইলিয়ামস, যিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও গবেষক।

তিনি তাঁর বাবার চাকরি সূত্রে কলকাতায় থাকা কালীন কলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন। ভারতের স্বাধীনতার কয়েক বছর পর যখন তাঁর বাবা আবার বিলেতে চলে যান তখন পূর্ব লন্ডনে তারা বসবাস করতে শুরু করেন।

পূর্ব লন্ডনে থাকাকালীন সেখানে সিলেটি মানুষের বসবাস বেশী থাকার কারণে তিনি সিলেটি ভাষার সাথে পরিচিত হন এবং ধীরে ধীরে এই ভাষা শিখে যান।

কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন সেখানকার মানুষ সিলেটি ভাষায় কথা বলতে লজ্জা বোধ করতো। তিনি সেটার কারণ খুঁজতে গিয়ে এই ভাষা নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেন। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি সিলেটি ভাষা নিয়ে গবেষণায় পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন।

তাঁরই প্রচেষ্টায় সিলেটি ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষার তালিকায় স্থান পায় এবং আন্তর্জাতিক ইউনিকোড কর্তপক্ষ সিলেটি নাগরি বর্ণের প্রতিটি বর্ণকে ইউনিকোড প্রদান করে। জার জন্য আজ প্রতিটি অনলাইন অ্যাপসে (মোবাইল ও কম্পিউটার) সিলেটি নাগরি বর্ণ সাপোর্ট করছে।

তিনি যতই গবেষণা নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলেন ততই যেন কেঁচু খুড়তে সোনা বেরিয়ে আসতে লাগলো এবং তাঁর আগ্রহ বাড়তে লাগলো। তিনি দেখতে পেলেন সিলেটি ভাষার নিজস্ব বর্ণ রয়েছে যাকে নাগরী লিপি বলা হয় যা প্রায় ১৩শ শতক থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে। তিনি পেলেন সিলেটি নাগরী লিপির অসংখ্য পুঁথি ও গ্রন্থাদি।

তিনি অবশেষে বুঝতে পারলেন সিলেটি ভাষা সাহিত্যের দিক দিয়ে এক সময়কার অত্যন্ত ধনী একটি ভাষা। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক, বিভাজন ও খেয়ালের অভাবে আজ এই ভাষা জীবিত থাকলেও এর লিপি ও সাহিত্য আজ বিলুপ্তপ্রায় হয়ে গেছে।

তিনি এই ভাষার বিলুপ্তির কারণ বুঝতে পেরে এই ভাষা ও সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এগিয়ে আসেন। তিনি লন্ডনে সিলেটি অনুবাদ ও গবেষণা (স্টার) নামক একটি সংস্থা গঠন করেন এবং বিভিন্ন সিলেটি পুঁথি ও গ্রন্থকে সংগ্রহ করতে শুরু করেন।

ভারত ও বাংলাদেশে আসা যাওয়া শুরু করেন এবং সিলেটি মানুষের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে আরও বিভিন্ন সংস্থা এই ভাষাকে সংরক্ষণ করার জন্য এগিয়ে আসতে শুরু করে। তার মধ্য থেকে অন্যতম লন্ডন বিশ্বিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ – সিলেটি লাঙ্গুয়েজ সোসাইটি, নাগরী বর্ণে সিলেটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ অন্যতম।

তিনি সিলেটি ভাষা ভাষী মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করা ও কিছু পুরনো প্রাচীন ফার্সি বই যা মধ্যযুগে সিলেটি নাগরি লিপিতে অনুবাদ করা হয়েছিলো তার আসল বই গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে শনিবারে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন এবং সেখানে তিনি তাঁর এক সাক্ষাৎকারে তাঁর এই কাজের উল্লেখ করেন।

আগামী শনিবার অর্থাৎ ২৭ জুলাই তিনি বরাক উপত্যকার সফরে যাবেন এবং সেখানে তিনি আল ইসলাহ অ্যাকাডেমি তে থাকবেন বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here