এনআরসি ও এনপিআর প্রয়োগ না করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত

0
ছবি: নিজস্ব

তরঙ্গবার্তা অনলাইন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামী হিন্দ (জেআইএইচ) দেশের সকল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক রেজিস্ট্রেশন (এনআরসি) ও এনপিআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছেন যতক্ষণ না এনআরসি এবং বিতর্কিত নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন (সিএএ) কেন্দ্র ফিরিয়ে নিচ্ছে।

জেআইএইচ সভাপতি সাদাতুল্লাহ হুসেনি, সকল মুখ্যমন্ত্রীকে পৃথক পৃথক চিঠি দিয়ে বলেছেন, “আপনি নিজের রাজ্যের জনগণের প্রধান প্রতিনিধি। আপনার লোকদের সুরক্ষা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য আপনারা দায়বদ্ধ। অতএব আপনার রাজ্যে প্রস্তাবিত এনআরসি বাস্তবায়ন বাতিল করতে আপনাকে আহ্বান করছি। আইন-শৃঙ্খলা একটি রাজ্যের বিষয় হিসাবে, এনআরসি বাস্তবায়ন না করা আপনি সাংবাধানিক ভাবে দায়িত্বশীল। আমরা আপনাকে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্যও আহ্বান করছি যতক্ষণ না কেন্দ্র জনগণকে আশ্বাস দেয় যে এটি এনআরসি বাস্তবায়ন করবে না এবং সিএএ রোলব্যাক করবে না।”

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “সম্প্রতি পাস হওয়া সিএএতে মুসলিম ছাড়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ছয় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সিএএ বাতিলের দাবিতে জাতি ও বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল অংশকে নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেছে। পুলিশের গুলিতে অনেক শিক্ষার্থী, বিক্ষোভকারী এবং পথচারীরা আহত ও নিহত হয়েছেন।”

ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব আইন বিভাজনকারী এবং আমাদের সংবিধান লঙ্ঘনকারী উল্লেখ করে জেআইএইচ এর চিঠিতে বলা হয়েছে, “এই সিএএ কে প্রস্তাবিত নাগরিক নিবন্ধকের (এনআরসি) পাশাপাশি দেখতে হবে। তাদের বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়। তাদের সংমিশ্রণ এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে ভারতের মুসলমাদের তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে এবং অসম রাজ্যে যেমন দেখা গিয়েছে তাকে ডিটেনশন সেন্টারে প্রেরণ করা হবে। এ কারণেই, মুসলমানরা ব্যতীত, যারা এনআরসি মহড়ায় তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারে না তাদের সকলকে সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এটি একটি সম্ভাব্য মানবাধিকার বিপর্যয়ের দিকে ডেকে আনতে পারে যার ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।”

মুখ্যমন্ত্রীদের তাদের কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে সৈয়দ সাদাতুল্লাহ বলেন, “জামায়াত শান্তি ও ন্যায়বিচার-প্রেমী নাগরিকদের একত্রিত করছে এবং সিএএ এবং এনআরসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্ত্রক ও জেলা কালেক্টরকে স্মারকলিপি জমা দিচ্ছে। আমরা আশা করি আপনি এনআরসিকে বাস্তবায়ন না করার আমাদের অনুরোধ গুরুত্ব সহকারে নেবেন, যা আমাদের জাতির এবং আপনার রাজ্যের মানুষের কণ্ঠস্বর প্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়। আপনার সিদ্ধান্তটি সাংবিধানিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক ভারতের ধারণাকে সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণপূর্ণ ভূমিকা পাবে। আমরা নিশ্চিত যে আপনি আপনার রাজ্যের মানুষকে হতাশ করবেন না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here