জয়শ্রীরাম এখন গন হত্যার স্লোগান

দেশপ্রেমের নামে, মানুষের উপর ক্ষোভ উগরে দেই। মনে করে ধর্মে আস্থা রেখে একাজ করছি। ভুয়া বিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণা মানবতার উপর তীব্র আঘাত হানছে কিছু মুখোশ ধারী ধার্মিক রা

By :
0

~ উমর ফারুক

ভারতের ইতিহাসে এমন কোন ঘটনা নাই যেখানে ধর্ম অস্ত্র করে, মানুষ মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়। জয়শ্রীরাম বাক্যটি এখন হিংস্রের গর্জনে পরিনত হয়ে গেছে। কোন হরিনীকে যখন বাঘে তাড়া করে বিকট গম্ভীরমুখে আওয়াজ দেই। এবং তার ঘাড়ে ঝাপিয়ে পড়ে।  আজকের দিনেও মানুষের মধ্যেও জয়শ্রীরাম ধ্বনি টা যেন তেমন ভাবেই কাজ করে।  
জোরপুর্বক ভাবে, বল প্রয়োগ করে বলতে বাধ্য  করে। বল্লে শুরু হয় আক্রমন। এটা কোন ধরনের  ভারত??
বলতে আফসোস হচ্ছে, তবুও না বললে আসল কথার পরিপূর্ণতা পায়না। ক্ষমতা আছে কিংবা ক্ষমতা কে প্রয়োগ করে নীরিহ ব্যাক্তির উপরে। দিনরাত সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
একতা এ রাষ্ট্রে অনৈতিক কাজগুলো খুব মর্মাহত করে তোলে। সম্ভাব্য কারণ দিয়ে দোশারোপ করা হলেও তা যথেষ্ঠ নই! যা দিয়ে মানবীক পর্যাবেক্ষন করেনা কোন বুদ্ধিজীবীরা।
দেশের সর্বস্তরের মানুষের নিকটে এরকম প্রশ্ন উপস্থাপন করা যেতেই পারে! তবে প্রশ্নের পরও যখন তারা ন্যায্য অধিকার পাইনা, সঠিক বিচার পাইনা। তখন নিরিবিলি এক জাইগায় কুলাঙ্গারদের  মানুষ ক্ষুন করার সাহস বেড়ে যায়, সিদ্ধান্ত নিয়েই বসে হত্যা করার।
কালের প্রকৃত শিক্ষা আমাদের কাছে এখনও পৌছেনি। বুদ্ধি জীবি থেকে শুরু করে নিম্নশ্রেণীর মানুষের কাছে এরকম আরো নতুন ঘটনাবলী উপস্থিত হয়ে দাড়াই। 
স্লোগান টা হিন্দু ধর্মের রামায়ণের  রামচন্দ্রের জয়ধ্বনি রামচন্দ্র শত্রুবিনাশ করার পরে তার রাজসভার প্রজারা জয়শ্রীরাম জয়ধ্বনি দিয়েছিল। তার কৃতকর্মের জন্য। রাক্ষস কূলকে নিঃশেষ করেই তার সাম্রাজ্যে শান্তি এসেছিল। তবে রামচন্দ্র তো রাক্ষস কূলের বিনাশ ঘটিয়ে মহৎ কাজ করেছিল যা ইতিহাস থেকে জানা যায়।
এখানে নীরিহ মানুষ মেরে ফেলার হুমকি বা কোন চক্রান্ত করা হয় নি। বর্তমান সমাজের চিত্রটা একেবারেই পালটে গেছে। এমন বর্বর জাতিদের ইতিহাস ক্ষমা করবেনা। রামচন্দ্রের সম্মানের প্রতি আঘাত হানছে। যার কাজেও ও কথায় বিন্দুমাত্র প্রজাদের উপর আঘাত হানেনি।
দেশপ্রেমের নামে, মানুষের উপর ক্ষোভ উগরে দেই। মনে করে ধর্মে আস্থা রেখে একাজ করছি। ভুয়া বিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণা মানবতার উপর তীব্র আঘাত হানছে কিছু মুখোশ ধারী ধার্মিক রা।।
উপমহাদেশে সর্ব ধর্ম সম্পর্কে  সমাজে গুরুত্ব  আরোপ করা হয়েছে যুগ যুগ ধরে। এখানে বহু ধর্ম এর মানুষের বাস। এতকাল কোন হীন সাম্প্রদায়িক শক্তি দিয়ে প্রয়োগ করা হয় নি।
আজকে শহরের আনাচেকানাচে একদল দেশপ্রেমিক ধর্মের দোহায় দিয়ে নিরিহ মানুষকে হত্যা করছে। মনের বিবেককে কুরবানী করে, কুরবানী করা হচ্ছে হাজারো প্রানকে। শতকোটি হৃদয়ে মানব প্রেমের ছবি তে পরছে কু-কর্ম। এমন জঘন্য কাজকে কখনও মেনে নেওয়া যায়না। 
আমি রবিবার অরিজিনাল একটা দলিল দিয়ে জমি মাপজোখ করছিলাম। লোকজন যখন সাহস করে বলতে লাগল জাইগাটি সরকারি।  
আমিন সাহেব তখন সাদা কাগজে একটি খসড়া লিখে দিয়ে বললেন এটা সংস্করণ করা হবে।  
জাব্বার চাচার ইন্তেকালের পর জমির উপর বেশ ঝামেলা পেকেছে। সে জন্যই তো আমিন ডাকা হয়। আমি তখন সেখানেই মাফজোখের হিসেবে অংশ নিয়েছিলেম।
কিছুক্ষণ পরেই  ২৪ শে জুন বিহারের তারবেজ আনসারি নামক এক যুবক কে আফ্রাজুলের মত নিস্রংস ভাবে হত্যা করার খবর কানে এল। চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ১৮ ঘন্টা পুলের সাথে বেধে পিটিয়ে পিটিয়ে কতল করে ফেলে। অপরাধ কিছুই নাই।
এরকম হাজার হাজার নীরিহ মানুষের প্রান যাচ্ছে কখনো জয়শ্রীরাম বলতে বাধ্য করে,কখনো লাভ জেহাদের নামে,কখনো ধর্মে আঘাত হানার মিথ্যা অপবাদে আবার কখনো চুরির মিথ্যা অজুহাতে ভারতে খুন খারাপিগুলো চলছে।  
বলা হয় “জয়শ্রীরাম ” শব্দটা এখন গণহত্যার স্লোগানে পরিণত হয়েছে। যা বলতে রাজি না হলেই বেধড়ক মার। অবশেষে মৃত্তুর দিকে ঠেলে দেই। লোকটি মারা গেল!! খুব আফসোস হচ্ছে, এমন দেশ যেখানে ধর্মের নামে মানুষ খুন করা হয়। মানবতা বোধকরি বেঁচে নেই।
খুন হওয়া তারবেজের খবর পেয়ে সারা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here