মৌলানা আতাউর কি নদওয়াকে কংগ্রেসীকরণ করতে চাইছেন?

আমীরে শরীয়তের জানাজা কি কোনো রাজনৈতিক ময়দান ছিলো?

1
ছবি: নিজস্ব

˜ বিলাল আহমদ

পাঠকের মতামত,তরঙ্গ বার্তাঃ বৃহস্পতিবার আমীরে শরীয়ত হুজুরের জানাযায় যা ঘঠেছে তা এক কথায় চরম নিন্দনীয়, লজ্জাজনক, ধিক্কারজনক। আমি একজন নদওয়া কর্মী বলতে আজ লজ্জা পাচ্ছি। কারণ সংগঠনের ভিতরে এমন কিছু আগাছা তৈরী হয়েছে, যারা নিজের স্বার্থের চিন্তায় সংগঠনকে বিক্রি করতেও পিছপা হবেনা! এতদিন হুজুরের জন্য তারা জনসমক্ষে দাত ফুটাতে পারেনি।
কিন্তু হুজুর না থাকার সুযোগে গতদিন আমীরে শরিয়ত হুজুরের লাশ সামনে রেখেই তারা প্রকাশ্যে কংগ্রেসের হাথে সংগঠনকে বিক্রি করেছে। তাদের কি মতলব একে একে সব প্রকাশ্যে আসছে। গত বছর খতমে বোখারিতেও তারা এমন করেছে। কিন্তু সংগঠন ও হুজুরের দিকে চেয়ে নদওয়ার বেশীরভাগ লোক তা প্রকাশ্যে আনতে দেয়নি।
কিন্তু এখন আর সবার ধৈর্য্যের সীমা পেরিয়ে গেছে। হয় আতাউরের হাতে সংগঠনকে পরিপূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া হোক। আমরা সংগঠন ছেড়ে চলে যাবো। নতুবা আতাউর এণ্ড কোম্পানির সকল ষড়যন্ত্রকে সাংগঠনিকভাবে প্রতিহত করে হজরত শ্বেখ বদরপুরীর ঘাম ঝরানো এই ঝাণ্ডাকে রাজনৈতিক ছোবল থেকে সুরক্ষিত করা হোক।
জানা ও বুজা মতে, গতদিন হুজুরের জানাযায় যতজন ভিআইপি ছিলেন, তারমধ্যে অন্যতম স্থরের ব্যক্তিত্ব হলেন মৌলানা বদর উদ্দিন আজমল ক্বাছিমী। ধর্মীয়, সামাজিক অন্যান্য পরিচিতি এবং জমিয়তের সভাপতির পরিচয় ছাড়াও তিনি একটি রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক দলের হাইকামাণ্ড হয়েও শত ব্যস্ততাকে পিছনে রেখে হুজুরের জানাযায় এসেছেন। তা কম কথা নয়।
বিশ্বের পাঁচ শো মুসলমানের একজন বদর উদ্দিন। করিমগঞ্জে উনার শশুর বাড়ি হওয়ার সুবাদে বরাকে সবার কাছে তিনি বদর ভাই হিসাবে পরিচিত হলেও সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তিনি জননেতা, কোটিপতি, সেট, দেওবন্দের শুরা সদস্য, রাবেতা আলমে ইসলামির মেম্বার ইত্যাদি ইত্যাদি পদবীতে পরিচিত। অতিব দুঃখের বিষয়, উনার মত বিশ্ব মানের এক আলিমে দ্বীন মুসলিম নেতাকেও কংগ্রেসী আতাউরের চালে এখানে আড়াল করে রাখা হলো!
এ কেমন রাজনৈতিক চক্রান্ত? নদওয়া কি আতাউরের বাবার সম্পদ? যদি আতাউরের বাবার সম্পদ না হয়, তাহলে প্রিয় উছতাজুল মুহতারাম শ্রীগৌরী হুজুর ইউসুফ আলী, ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী (সুনাতলী হুজুর ) আপনারা কেন এ বিষয়ে নীরব রইলেন? নাকি আপনারাও এই টিমের কাছে অসহায়? প্রিয় ভাবে ফরিদ উদ্দিন হুজুর সম্বন্ধে ভালোবাবে সবাই জানেন, তিনি কংগ্রেসী হলেও তিনি এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চালবাজী পছন্দ করেননা। হুজুর সাদা মনের মানুষ।
কিন্তু পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন হচ্ছে, হুজুর আপনিও কি অসহায়? না হলে কেন সদর্তক ভুমিকা নিলেন না? ফজলুর রহমান আর আতাউর রহমানরা যা করেছেন তা কি শুদ্ব করেছেন? যেখানে সুনাইর বিধায়ক আমিনুল ইসলাম মাইকে বলতেছেন বদর উদ্দিন আজমল এসেছেন উনি। দু চারটি কথা বলুন। তখন কেন আতাউর রহমান এণ্ড টিম বিধায়কের হাত থেকে মাইক নিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলেন?
আমরা রাজনীতি বুঝি না ঠিক। কিন্তু এ ধরনের নোংরামী, বাদরামী অবশ্যই বেশ ভালা বুঝি। জানাযার নামাজের সময় অবশ্যই কথা বলা উচিত নয়। তবে অন্যরা বললেন কেন? কংগ্রেসী আলিরমা টালিরমা সবাইকে ডেকে ডেকে কে বক্তৃতার সুযোগ দিয়েছিলো?

সংশ্লিষ্ট: আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান আর নেই, কে হচ্ছেন ৩য় আমীরে শরিয়ত? শুরার দিকে তাকিয়ে উঃ পুর্ব ভারত

যারা দিয়েছিলেন, তারা কি সামনের সারিতে বদরুদ্দিন আজমলকে দেখেন নাই? তারা কি এত অন্ধ? এসব দেখে লজ্জিত হচ্ছি। সংগঠনের খাতিরে সবাইকে সম্মান দেওয়া উচিত। হাইলাকান্দির স্থানীর বিধায়ক, করিমগঞ্জের সাংসদ ভোর থেকেই সেখানে ছিলেন। সবাই দেখেছেন। তারপরও তাদেরকেও আড়াল করে রাখা হলো কোন যুক্তিতে?
নদওয়ার কাছে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসাবে কি শুধু কংগ্রেসী রেকিবুদ্দীন, আর কমলাক্ষরা? অবশ্য নদওয়া এমন নয় । কিন্তু কিছু আগাছার জন্য এসব হচ্ছে। তারা কালকে এই জানাযা নিয়ে এত কুটিল রাজনীতি না করলে হয়তো সোসাল মিডিয়ায় সংঘঠন নিয়ে কেউ প্রশ্ন করার সুযোগ পেতো না। যারা এই সুযোগ করে দিয়েছে, তাদেরকে অতি সত্তর সংঘঠন থেকে পরিষ্কার করা হোক। ভুল কিছু লেখলে ক্ষমা করবেন। সকলের কাছে করজোড়ে নিবেদন। মনের দুঃখে জাতনায় কিছু কড়া কথা বলে ফেললে মাফ করবেন সবাই।
বি: দ্র:এই নিবন্ধের মধ্যে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি লেখকের ব্যক্তিগত মতামত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য ও মতামত তরঙ্গ বার্তার মতামত প্রতিফলিত করে না এবং তরঙ্গ বার্তা এর জন্য কোনও দায়বদ্ধতা বা দায় স্বীকার করে না

1 COMMENT

  1. লেখকের অপরিপক্কতা ও ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে জাস্ট। মূল ঘটনা এরকম ছিল না। লেখক সেটাকে ভিন্ন চোখে দেখে মিছামিছি দুঃখ প্রকাশ করছেন। উনার জন্য রইল এক বালতি সমবেদনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here