মাদ্রাসা প্রসঙ্গে

0
ছবির: সংগৃহিত

সরকারি মাদ্রাসা বন্ধ হতে চলেছে এ ঘোষণা শোনার পর পরই ফেবুতে কে কাকে ধরাশায়ী করা যায় তার চেষ্টা কম হয়নি। কার দোষে চাকরি হলো না, কেন কোর্ট যাওয়া হলো ….. প্রশ্নবাণে কয়দিন ফেবু মুখরিত ছিল। কত সুন্দর সুন্দর শব্দ বন্ধন দিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে কুপোকাত করতে কম কসুর করা হল না! পক্ষে বিপক্ষে এই লড়াই পাঠকরা অবলোকন করলেন। এতে অংশ গ্রহণকারি মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাড়া আর কে? এতে মাদ্রাসার দৈন্যদশা পরিলক্ষিত হলো।

ক’বছর আগে হিমন্ত বাবু এক বড় মুসলিম জলসায় বাঘা বাঘা আলেম উলামাদের সামনে যখন মাদ্রাসাগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক হেরফের যা স্কুল ছাড়িয়ে গিয়েছিল এসব কথা তুলে ধরলেন তখন কেউ রা কাড়েন নি, অধিকন্তু তাঁকে নামী দামী পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হলো। মন্ত্রী মহাশয়ের এত কটাক্ষের পরেও আমাদের হুঁশ ফেরেনি। আমরা নবীর উত্তরাধিকারের সম্মান প্রাপ্তিতে কতই না বড়াই করে থাকি। কিন্তু কাজের কাজ করার জন্য বড় একটা পদক্ষেপ নেওয়া হলো না। বরং আরো জটিল হতে থাকলো। পারস্পরিক সন্দেহ আরো প্রকট হলো। এতে সমাজে মাদ্রাসার গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকলো, যেখানে মাদ্রাসা খায়রা উম্মাহ তৈরির কথা ছিলো, সমাজে রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হওয়ায় কথা ছিল।

অতীতের সোনালী ইতিহাস বলছে মাদ্রাসা পড়ুয়ারা বা মাদ্রাসাগুলো দেশকে পথ দেখিয়ে ছিল, দেশের আজাদী সংগ্ৰামকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, হাজারো হাজারো দেশ হিতৈষী নাগরিক তথা দ্বীনের জন্য নিবেদিত প্রাণ তৈরি করেছিল। যাদের দ্বীনী তাকওয়া যেমন ছিল তেমন উত্তম চরিত্রও ছিল। যারা সত্যের জন্য শহীদ হতে পিছ পা হতো না। এভাবে হাজারো হাজারো নিবেদিতপ্রাণ শহীদি মৃত্যুলাভে ধন্য হয়েছিলেন।

মাদ্রাসা বন্ধ হলে এটা হবে বড়ই দুর্ভাগ্য। এতে সরকারের মনোভাব আরো বহিঃ প্রকাশ হবে। কিন্তু এতে আমি মোটেই শংকিত নই যে ইসলামী শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে। অতীতেও তো মাদ্রাসা ছিল, এক এক হুজুরের বাড়ীতে এক এক মাদ্রাসা ছিল। বর্তমানে তো হাজার হাজার খারিজী মাদ্রাসা দ্বীনের খেদমাত করে আসছে। এ দ্বীনের কাজ কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। কিন্তু কথা হলো আগের ভাবনা আর বর্তমানের বা আগামীদিনের ভাবনার সাথে তফাৎ রয়েছে। এ উপলব্ধি টুকু না থাকলে মাদ্রাসা কাঙ্খিত ফল কি এনে দেবে?

তাই আমাদেরকে এ ডামাডোল থেকে আগামীদিনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং উপযুক্ত পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দল মত নির্বিশেষে আন্তরিকতার সাথে সম্মিলিত ভাবে এগোলে মাদ্রাসাগুলোকে সার্বিক গুণে সমৃদ্ধ করা যাবে, সমাজের রোল মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। যা থেকে দুনিয়ার ও আখেরাতের কল্যাণ বয়ে আনবে। সত্যিকার অর্থে খায়রা উম্মাহর দাবী পুরণ হবে। ফলে মাদ্রাসা নিয়ে অন্যের নাক কোঁচকানো থাকবে না, আর থাকলেও বা কি হবে- হোক সরকারি বা বেসরকারি।

আজ যেভাবে সর্ব সংগঠন মিলে প্রচেষ্টা করছেন ঠিক সেভাবে সবাই এক সাথে বসে ‘common minimum programme’ নির্ণয় করতে হবে। এ কাজ করতে হবে সরকারি মাদ্রাসা থাকলেও বা না থাকলেও, যেখানে সকলের এক কিবলা, এক কিতাব, এক নবী রয়েছেন। ফি সাবিলিল্লাহ এর মনোবৃত্তি নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজে এগোলে, ইনসাআল্লাহ সুফল আসবে। কারণ আল্লাহতায়ালা তো কোন জাতির পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের পরিবর্তন করে।

লেখক: হিফজুর রহমান (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, মহাদেব হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here