Fraternity Movement – এর “ভ্রাতৃত্বই রাজনৈতিক সমাধান” শীর্ষক সমাবেশ

Fraternity Movement পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে "ভ্রাতৃত্বই রাজনৈতিক সমাধান" এই প্রতিপাদ্যে গত দু'মাস ধরে সারা  বাংলায় একটি ক্যাম্পেন পরিচালনা করা হয়।

0

কোলকাতা:- বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে এজেন্ডা এবং প্রোপাগান্ডাগুলিকে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যে সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, লোকেরা আর একে অপরের উপর নির্ভর করতে পারছে না। স্বতন্ত্র পরিচয় সহ একটি ব্যক্তি অন্যকে ভয় এবং সন্দেহের সাথে দেখছে।এখন আমাদের প্রিয় ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক দেশের প্রকৃত শক্তি – বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ,জাতি,প্রজাতি এবং বিভিন্ন ভাষার মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন যা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিটি অতিক্রান্ত দিনের সাথে আমরা একটি দুর্বল, ভঙ্গুর জাতি হয়ে উঠছি।  এর কারনে সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা এতটা কঠিন সময় পার করছি যে কোনও দলিত ব্যক্তি আর ভাবতে পারে না যে তার অধিকার সুরক্ষিত করতে পারে কোনো অদলিত মানুষ। একইভাবে, আজ, একজন মুসলিম ব্যক্তি ভাবতে পারে না যে তার অধিকার এবং মর্যাদা কোনও অমুসলিম দ্বারা রক্ষা করা যেতে পারে। সুতরাং, হিন্দুদের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হয়ে উঠছে। ধর্ম ছাড়াও এটি ভাষার ক্ষেত্রেও কঠোর বাস্তবত হয়ে উঠছে।উদাহরণস্বরূপ, বাঙালিরা মনে করেন যে অ-বাঙালির হাতে তাদের অধিকারের যথাযথ যত্ন নেওয়া হবে না। ‘অন্যান্যকরণের’ রাজনীতির এই বিরাজমান পরিবেশে সংখ্যাগরিষ্ঠদের বিশ্বাস করানো হয়েছে যে সংখ্যালঘুরা তাদের আপন নয় এবং সংখ্যালঘুদের মাথায়ও ঠিক এই জিনিসটাই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং প্রক্রিয়াটিতে দিন শেষে আমাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক এমন বেশকিছু সহযোদ্ধা বাইনারি তৈরি করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ, আমরা আমাদের জাতীয় পরিচয় ভুলে যাই, ভুলে যাই আমাদের একীভূত স্বপ্নকে, ভুলে যাই আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আরও উন্নত স্থান হিসাবে গড়ে তোলার জন্য।

এই রাজনৈতিক সংকট ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের সমাধানের জন্য এই সংকটময় সময়ে Fraternity Movement একটি ছাত্র – যুব রাজনৈতিক-প্ল্যাটফর্ম হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ,যা বিশ্বাস করে যে “ভ্রাতৃত্বই রাজনৈতিক সমাধান।” কেবল ভ্রাতৃত্ববোধ,আমাদেরকে এক সুতোতে বেঁধে রাখতে পারে – প্রেম, করুণা এবং মানবতার সুত্রে এবং মনুষ্য-তৈরি বিরোধ এবং ভ্রান্ত সামান্য পার্থক্যকে ভুলে গিয়ে।

এই থিমের ভিত্তিতে – “ভ্রাতৃত্বই রাজনৈতিক সমাধান” – আমরা, fraternity movement এর পশ্চিমবঙ্গ শাখা ২৫ নভেম্বর, বিকেল ৩ টায় কলকাতার মৌলালী যুব কেন্দ্রে এক ছাত্র -যুব সমাবেশ-এর আয়োজন করা হয়।
এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আনসার আবু বাকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাশিহুজ্জামান আনসারী, কেন্দ্রীয় সম্পাদক মোঃতাজউদ্দীন, ওয়েলফেয়ার পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রাইসুদ্দিন সাহেব, রাজ্য সভাপতি মনাস সেন, সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হাসান প্রমুখ।
এই সমাবেশ থেকেই ২০২০-২১ সেশনের জন্য সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব গঠিত হয় ও  নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়।
রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হয় আরাফাত আলী।
সহ সভাপতি দুইজন মন্টুরাম হালদার,সফিউন নেসা।
রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দুই জুন নির্বাচিত হয়, আবু জাফর মোল্লা, আবু তাহের আনসারী।
রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত পাঁচ জন, সুস্মিতা সেন, রোকাইয়া খাতুন, রমেশ মন্ডল, মোঃসাফাতুল্লাহ ও রমজান আলী।

আজকের সমাবেশ থেকে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যা নিম্নরুপ-
১.পার্শ্ব-শিক্ষক সহ আন্দোলনকারী সমস্ত শিক্ষকদের প্রতি সুবিচার প্রদান করতে হবে।
২.মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যায় দ্রূত প্রতিষ্ঠা করে পঠন পাঠন শুরু করতে হবে।
৩.আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ শাখার উন্নয়ন করতে হবে।
৪.অবিলম্বে সারা বাংলায় কলেজ ক্যাম্পাসে গনতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে এসে নির্বাচন করতে হবে।
৫.’বাবরী’ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়,তা পূনবিবেচনা করতে হবে, যাতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here