রাজনৈতিক পক্ষপাত মূলক হস্তক্ষেপের জন‍্য ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল গুলি বিশ্বাসযোগ‍্যতা হারিয়ে ফেলেছে

0

✍️ নূরুল ইসলাম মাঝারভূঞাঁ

আসামে বিদেশী সনাক্তকরণে নিযুক্ত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল গুলির নেপথ্যে পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট হয়ে যাবার পর সমস্ত প্রক্রিয়াটির বিশ্বাসযোগ‍্যতা থাকার কথা নয়। ২০১৭ সালে বরখাস্ত হওয়া ১৮ জন সদস‍্যের ব‍্যাপারে আসাম সরকার উচ্চ আদালতে যে হলফনামা দাখিল করেছে তাতে বলা হয়েছে- তাঁদের দক্ষতা সন্তোষজনক নয়। অথচ বহাল থাকা ট্রাইব্যুনাল সদ‍স‍্যরা যেখানে ৭/৮ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি করেছেন সেখানে বরখাস্তরা করেছেন ২৫/২৬ শতাংশ। সুতরাং দক্ষতা না থাকা কথাটি সত‍্য নয়। আসল কথাটি ধরা পড়েছে যে বরখাস্তরা সরকারি অলিখিত ইচ্ছা অনুযায়ী অধিক সংখ‍্যক লোককে বিদেশী সাব‍্যস্ত করেন নি। এ ব‍্যাপারে মুখ খুলেছেন বরখাস্ত এফটি সদস‍্য ধুবড়ীর আইনজীবি কার্তিক রায়। তিনি ৩৮০ টি মামলায় মাত্র ৫ জনকে বিদেশী রায় দিতে পেরেছেন। এটাই তাঁর অপ‍রাধ। তাঁর কথা হচ্ছে যে সমস্ত নথিপত্র, প্রমাণাধি দেখার পর সততার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পক্ষপাতবিদ্বেষে স্বদেশীকে বিদেশী বানাতে পারেন না। এতেই পক্ষপাতদুষ্ট সরকারের অসন্তোষ্টি।
এ যাবৎ দেখা গেছে অসংখ‍্য ভারতীয় নাগরিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিদেশী সাব‍্যস্ত হয়েছেন, পরে উচ্চ বা উচ্চতম আদালতে নাগরিকত্ব প্রমাণিত হয়ছে অনেক দুর্ভোগ ও অজস্র অর্থব‍্যয়ের পর। সাধারণ মানুষের উপর এ এক রাষ্ট্রীয় নির্যাতন। মূলত বাঙালী-বিদ্বেষ এবং মুসলিম-বিদ্বেষ, এই দুটি মানসিকতা চরিতার্থ করতে ট্রাইব‍্যুনালকে প্রভাবিত করতে দেখা গেছে। নথিপত্র দেখিয়ে নিজেকে নাগরিক প্রমাণ করা যে কতো কঠিন তা বুঝা যায় যখন দেখা যায় যে খিলঞ্জীয়া অসমীয়া, বড়ো, কোচ, আদিবাসী বা অন্যান্য জনজাতির লোক বিদেশী সাব‍্যস্ত হয়। দেশের বেশীরভাগ লোকের কাছেই নাগরিকত্ব প্রমাণে পর্যাপ্ত নথিপত্র নেই।
সরকার প্রদত্ত নথিপত্রই যেহেতু চুড়ান্ত প্রমাণ সেখানে সরকারী তথ্যে থাকা ভুলের দায় অভিযুক্ত ব‍্যক্তির উপর চাপানো হচ্ছে। সমস্ত তথ‍্য-যুক্তি-প্রমাণ দেয়ার পরো ট্রাইব‍্যুনাল কিছুই বুঝতে চায়না এমন অভিযোগ সচরাচর। একজনের মামলার রায়ে আরেকজনকে পাকড়ানো হচ্ছে, এমন উদাহরনও আছে। সব মিলিয়ে ট্রাইব‍্যুনালের বিচারপদ্ধতির বিসংগতি এক বহুচর্চিত সত‍্য। এ অবস্থায় আইন আদালতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিদেশী চিহ্নিত করার ব‍্যবস্থাকে বহাল রেখে ট্রাইব‍্যুনাল প্রক্রিয়া বাতিল ক‍রার দাবী উঠা প্রয়োজন। ট্রাইব‍্যুনাল সদস‍্য নিযুক্তিতে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য ক্রিয়াশীল হলে বিচার ব‍্যবস্থার কোন মূল্য থাকার ই কথা নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here