ঈদের দিন পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা! সংশয়ে পড়ুয়ারা

0
ছবি : নিজস্ব
মহঃ আসিফ আহমেদ, তরঙ্গ বার্তা, কলকাতা : ঈদের দিন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট উনিভার্সিটির পরীক্ষা! অবাক হচ্ছেন। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ৪ ও ৬ জুন পরীক্ষার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। যদিও, মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ঈদ চাঁদের উপর নির্ভর করে পালিত হয়ে থাকে। রোজার সময়সীমা অনুযায়ী যদি ২৯ টা রোজা পালিত হয় তাহলে ঈদ ৫ জুন পালিত হচ্ছে। রোজা যদি ৩০ টা হয়ে থাকে তাহলে ঈদ হওয়ার কথা ৬ জুন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পরীক্ষার নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ৬ জুন যদি ঈদ হয়ে থাকে থাকে তাহলে কি ঈদের দিন পরীক্ষা থাকবে!

এ প্রসঙ্গে অনেক পড়ুয়া কটাক্ষের সুরে বলছেন, “উনিভার্সিটি এক্সাম কন্ট্রোলাদের মনে মুসলিম বিদ্বেষ! যাঁর ফলস্বরূপ এঁরা প্রত্যেক বছর ঈদের আগে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে এরকমটা করে থাকে। এটাই বোধহয় উনিভার্সিটির রুলস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারনে উনিভার্সিটির তরফে ঈদকে ভেস্তে দিতে ঈদের আগে ও পরের দিন পরীক্ষার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।”
যদিও তাঁরা আক্ষেপের সুরে বলছেন, “আমাদের তো আর কোন উৎসব নেই! আমাদের অনেক বন্ধু আছে যারা হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করে তাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।”
নিউজ আপডেট পান সরাসরি আপনার হোয়্যাটসেপ-এ। আমাদের হোয়্যাটসেপ গ্রূপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন…
এ বিষয়ে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহঃ কামরুজ্জামান বলেছেন, ঈদের দিন পরীক্ষা! ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি এমনই পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ করেছে। রোযা যদি ৩০ টা হয় তাহলে পড়ুয়াদের ঈদের নামাজ না পড়ে পরীক্ষা দিতে যেতে হবে। হোস্টেলে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ী গিয়ে ঈদ করার স্বপ্ন ভেস্তে যাবে। কেননা ঈদের আগে দিন ও পরের দিনও পরীক্ষা দিতে হবে। অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। নাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের সম্যসার সম্মুখীন হতে হবে।

রমিউল ইসলাম নামে এক ছাত্রের কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় প্রচার করে থাকেন ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। কিন্তু যাঁরা উনিভার্সিটি এক্সাম কন্ট্রোলার তারা কি শুধু একটা ধর্মের প্রতি বিশ্বাসী! যাঁর ফলস্বরূপ তারা ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে এরকম ব্যবহার করে থাকেন। আর ঈদের আগে ও পরে যদি পরীক্ষা হয় তাহলে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীরা খারাপ অবস্থার সম্মুখীন হতে পারে। আমাদের সবার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ পরীক্ষার সময়সূচী বদল করা হোক।”
যদিও, এখানে প্রশ্ন উঠছে অনেকে আছে যাঁরা জেলা থেকে শহরে পড়াশুনা করতে আসে, তাঁদের ক্ষেত্রে কি হবে?
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here