‘এরতুগ্রুল’: মুসলিম জাতির পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে যতোগুলি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এর মধ‍্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়

0
অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান প্রথম ওসমানের বাবা এরতুগ্রুল গাজীর জীবনকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে এই তুর্কী টিভি সিরিজ। সিরিজটি মূলত পরিচিত ‘দিরিলিস: এরতুগ্রুল’ নামে। সিরিজটির মূল গল্প এরতুগ্রুল গাজীর কায়ি গোত্রকে খুঁজে বের করাকে কেন্দ্র করে। আর তা করতে গিয়ে এরতুগ্রুলকে মুখোমুখি হতে হয়েছে নাইটস টেম্পলার, সেলজুক এবং মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে। এতে টেম্পলার, মঙ্গোল কিংবা সেলজুকদেরকে একটু অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা পশ্চিমা সিরিজগুলোতে দেখানো হয় না সাধারণত।
Advertisement/ https://www.facebook.com/beaconjuniorcollege/
ওসমানী খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা গাজী ওসমানের পিতা এরতুগ্রুল। মাত্র শ’খানেক পরিবার নিয়ে দাঁড়ানো তুরষ্কের এক ছোট যাযাবর কবিলা ‘কাই’সে যুগের জীবন সংগ্রামের একমাত্র উপায় সশস্ত্র যুদ্ধে দক্ষ ইসলামী নেতৃত্বের যে ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলো, তা তৃতীয় প্রজন্মের হাতেই তিনটি মহাদেশ জুড়ে পৃথিবীর সর্বকালের সর্ববহৎ সাম্রাজ‍্যে পূর্ণতা লাভ ক‍রেছিলো। কাই কবিলার সর্দার সুলেমান শাহ ঘরোয়া অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে করতেই মুসলিম দুনিয়ার প্রতি হুমকি হয়ে উঠা খ্রিস্টান রাজশক্তি ও তাদের তাবেদার মুসলিম শাসকদের প্রতি যে প্রত‍্যাহ্বান ছুড়ে দিয়েছিলেন, আর এর প্রেক্ষিতে একের পর এক যেসব রণাঙ্গন তৈরী হয়েছিলো, সবখানেই আর্তাগুল ছিলেন মুখ‍্য সেনাপতি।

সুলেমান শাহের মৃত‍্যুর পর কাই কবিলা এরতুগ্রুলকে সর্দার বানিয়ে নেয়। এরতুগ্রুল চেঙ্গিস খানের পরবর্তী তাতারিদের অবাধ গণহত‍্যা ল প্রতিরোধে দাঁড়িয়ে যান। তাতারিদের আক্রমণের মুখে পতনের প্রান্তে চলে আসা সুলতান আলাউদ্দিনের বিনা আমন্ত্রণে তার সাহায‍্যে এগিয়ে যান এরতুগ্রুল। যুদ্ধের ছবি পাল্টে যায়। এর পর থেকেই তাতারিরা পরাজয় ও পতনের দিকে হাটতে থাকে। শুরু হয় মুসলিম দুনিয়ার ঐক‍্যের মিছিল।
এরতুগ্রুলের পুত্র ওসমানের সময় নির্মিত হয় আরেক ইতিহাস। ওসমানি সাম্রাজ্য শুধু এক রাজনৈতিক শক্তি না হয়ে মুসলিম দুনিয়ার কেন্দ্রীয় খিলাফতের মর্যাদা লাভ করে। এর পর মুসলিমরা ইতিহাস ভুলতে থাকে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপুল বোজা ওসমানী খিলাফতের উপর বর্তায়। খিলাফতকে কবর দিয়ে কামাল আতাতুর্ক তুরষ্ককে এক ইসলামবিহীন দেশ রূপে গঢ়ে তুলেন।

কিন্তু ইতিহাস থেমে থাকেনা। তুরষ্কে ইসলামের পুনরপ্রতিষ্ঠার সাধনা চলতে থাকে। হাজার অত‍্যাচার, জেল, ফাঁসির পথ পেরিয়ে তুরষ্ক এখন এর্দোগানের নেতৃত্বাধীন এক ইসলামের কাছাকাছি আসা দেশ এবং মুসলিম দুনিয়ার সামনে এক আশার আলো। তুরষ্ক এখন শুধু ওসমানী খিলাফতের পুনর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেনা। দেখছে মুসলিম দুনিয়ার ঐক‍্য, উন্নয়ন এবং অত‍্যাচারি পরাশক্তিসমূহের সমসারিতে মুসলিম দুনিয়ার প্রতিষ্ঠা।
মূলত তুরষ্কের নবীন প্রজন্মকে এস্বপন দেখাতেই ‘এরতুগ্রুল’ চলচ্চিত্রের নির্মাণ। কিন্ত ‘এরতুগ্রুল’ তুরষ্কের মধ‍্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আশ্চর্য জনকভাবে তা সমগ্র বিশ্বের মুসলিম যুব মানস দখল করে নিয়ে প্রমাণ করছে যে এ স্বপ্ন সমস্ত বিশ্ব মুসলিমের।
তুরষ্ক এবং ওসমানী খিলাফতের উত্থান পতন প্রমাণ করেছে যে ইসলামের হাত ধরেই উত্থান এবং ইসলামে উদাসীনতাই পতনের মূল। এই উদাসীনতাও এক স্বাভাবিক ব‍্যাপার। ব‍্যক্তি যখন যৌবন পেরিয়ে বার্ধক‍্যের দিকে এগোতে থাকে মৃত‍্যু দিয়ে তার শেষ হয়। তার যৌবন আর ফিরে আসেনা। যৌবন দেখতে হলে দেখতে হবে তার রেখে যাওয়া নতুন প্রজন্মে। কোন জাতিও এভাবে ক্রমশঃ বয়সের ভারে নুয়ে পড়তে পারে। সে জাতির মধ‍্যে যৌবন দেখতে হলে জাগাতে হয় নতুন প্রজন্মকে। এ বার্তা নিয়েই এরতুগ্রুলের বিচরণ।
ওসমানী খিলাফতের প্রাণশক্তি ছিলো ইসলাম। আজকের দিনেও ইসলাম থেকেই প্রাণশক্তি অর্জন করতে হবে। সেই চরিত্র, সেই উদ‍্যম, সেই যোগ‍্যতা আহরণ করতে হবে।
কোন বড় সাম্রাজ‍্য প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু জুলুমের অবসান, জালিমের পথরোধ করতে করতে যদি দেশ ও দুনিয়াবাসী ইসলামের আঙ্গিনায় জড়ো হয়ে যায়, তাদের জন‍্য কল‍্যাণকর ব‍্যবস্থা উপহার দিতে পিছিয়ে যাওয়া চলবেনা।

নিজের জন‍্য আরাম আয়েশের মহল গঢ়া কোন ঈমানদারের জীবনের স্বপ্ন হতে পারেনা। ” কুনতুম খাইরা উম্মতিন উখরিজাত লিন নাস, তা’মুরুনা বিল মা’রূফ, ওয়া তান হাউনা আনিল মুনকার —-তোমরা মানবজাতির জন‍্য উত্থিত উৎকৃষ্ট সম্প্রদায়, তোমরা কল‍্যাণের আদেশদাতা এবং অকল‍্যানের অবসানকারী হবে”। এটা হচ্ছে মুসলিমদের সামগ্রিক কর্তব‍্যের ধারণা। আর উদ্দেশ্য হবে আল্লার সন্তুষ্টি। পার্থিব নাম যশ ইত‍্যাদির প্রলোভন এ উদ্দেশ্যকে কলুষিত করবেনা। “ইন্নাস সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহ ইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন— আমার নামাজ ,আমার ত‍্যাগ তিতিক্ষা, আমার জীবন ,আমার মৃত‍্যু সব কিছুই আল্লার জন‍্য।
সুতরাং এরতুগ্রুল দেখে দেখে উদ্দীপ্ত হে যুবক! যদি আপনি দেশ-দুনিয়া-মানবতার জন‍্য কিছু করতে চান, তাহলে আপনার লেখাপঢ়ায়, আপনার ব‍্যবসায়, আপনার সামাজিক, রাজনৈতিক কাজে, সর্বত্র আপনি নিষ্ঠাবান হয়ে যান। সময় সুযোগের এবং আপনার যোগ‍্যতার অপব‍্যবহার করে আপনার উদ‍্যমকে ব‍্যর্থ করে ফেলবেন না।
আপনি নিজেকে যুগসৃষ্টির এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উপলব্ধি করুন। ইনশাল্লাহ আপনার উদ‍্যম কোথাও না কোথাও সুফল হয়ে ফুটবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here