ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দীদশায় দুলাল পালের মৃত্যু :রাষ্ট্রীয় হত্যা নয়?

0
ছবি: প্রতীকী

আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, নিরাপদ ঘরে আরামসে সোফায় বসে দামী স্মার্টফোনে এই পোস্ট পড়েন না কেন, মনে রাখবেন আসামের এক হতভাগা দরিদ্র বৃদ্ধ ব্যক্তি দুলাল পালের মৃতদেহ ক্রমে পচে যাচ্ছে। পোকা মাকড় ধরছে এক সরকারি মর্গে। একজন অশীতিপর বৃদ্ধ ব্যক্তির কোনো দোষ নেই। কাগজপত্র সব‌ই আছে। অথচ নোংরা ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে মানুষটি মরে গেছে।

আজ সপ্তাহখানেক হতে চলছে অথচ মৃতদেহের শেষকৃত্য হচ্ছে না। মিথ্যা বাংলাদেশী বলে তুলে নেয়া হয়েছিল অথচ ঐ ব্যক্তি ভারতীয়। ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গেছে দুলাল পালের। ডিটেনশন ক্যাম্পে রোজ রোজ শারীরিক অত্যাচার সহ্য করে অন্ধকারে দিনের পর দিন ন্যায় বিচারের আশা করে বসেছিল দুলাল পাল। কিন্তু ন্যায় মেলেনি। মরে গেছে দুলাল পাল। এই দেশ, রাষ্ট্রের মিথ্যা অপবাদ ও চক্রান্ত হত্যা করেছে দুলাল পালকে। অথচ ওর কোনো দোষ নেই। হতভাগ্য পরিবার চায় দুলাল পাল বিদেশি হলে বিদেশেই পাঠানো হোক ওর শরীর। ন‌ইলে সরকার বলুক একটি সাঙ্ঘাতিক ভুল হয়ে গেছে ওকে ধরে নিয়ে বন্দি করে রেখে। পরিবারের শেষ আশা যাতে একটু হলেও অপমানবোধ কম হয়। অথচ অহঙ্কারী অমানবিক নিষ্ঠুর সরকার এখনও কিচ্ছু করছে না। মৃতদেহ গলতে শুরু করেছে।

কি নোংরা এই সিস্টেম ভাবুন। দুলাল পাল কোনো অপরাধ করেনি। ডিটেনশন ক্যাম্পে অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আমার পরিবারের কারুর ক্ষেত্রে অথবা আপনার পরিবারের কোনো সদস্যের ক্ষেত্রে এক‌ই ঘটনা একদম ঘটে যেতে পারে। দুম করে বিএসএফ বা স্থানীয় পুলিশ আপনাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে। আপনি জানবেন‌ও না আপনার অপরাধ কী! চৌদ্দ পুরুষ এখানে আছেন, এখানের আলো বাতাসে জন্ম হয়েছে, বড়ো হয়েছেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিবার সংসার সাজিয়েছেন। অথচ হঠাৎ একদিন সব তছনছ হয়ে যাবে। আপনি জেলে। অত্যাচার চলবে দিনের পর দিন। মহিলা হলে ভেবে নিন আপনার সঙ্গে আর কী কী হতে যাচ্ছে। সব ধৈর্য আর শারীরিক শক্তি একসময় শেষ হয়ে যাবে। এরপর আপনাকে এক টুকরো রশি বা দুই চামচ কীটনাশক খুঁজে নিতে হবে। আপনি মরে যাবেন। অথচ নিষ্ঠুর অমানবিক সরকার একটুও নত হবে না। আপনার লাশ‌ পড়ে থাকবে মর্গে। পচন ধরবে। দূর্গন্ধে মর্গের কর্মীদের বমি আসবে। ওদের ভয় হবে মৃতদেহ পেঁচিয়ে রাখা কাপড়ে হাত দিলে হয়তো পোকা মাকড় বেরিয়ে আসবে। অথবা পচা মাংস খসে পড়বে। এই সব দুলাল পালের সাথে হয়েছে। আপনার সাথেও হতে পারে। আজ ন‌ইলে আগামীকাল। এটিই বাস্তব আসামের। আপনি যতই আরামে থাকুন, চোখ বুজে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা প্রপাগান্ডায় ডুবে যান এই বাস্তব অস্বিকার করা যাবে না।

সরকারের মানবিক মুখ কোথায়? একটি ঘোষণা বা বিদেশী হ‌ওয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করলেই দুলাল পালের নশ্বর দেহকে অগ্নিসংযোগ করা যায়। অথচ অহঙ্কারী সরকার তা করবে না। দুলাল পালের মৃতদেহ পচে গলে শেষ হয়ে যাবেই কিন্তু আমাদের বিবেক আমাদের আত্মপ্রত্যয় জেগে উঠবে না। আসলে দুলাল পাল মরেনি, আমরাই মরে গেছি। অতিসাধারণ বিবেকবোধ মরে গেছে আমাদের। আমাদের সরকারের। এই যে রাজা উজির সব এদের একটুও মানবিকতা বেঁচে নেই? আমাদের কী ওরা মানুষ ভাবে না? ন‌ইলে কেন পশুর মতো এই ট্রিটমেন্ট? একবিংশ শতাব্দীতে আমরা অথচ কী মর্মান্তিক অত্যাচার হচ্ছে আমাদের সাথে? এ কেমন সভ্যতা?

বিঃ দ্রঃ-(এই লেখাটি লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত)

শরীফ আহমদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here