কয়লার অভাবে বরাকে ইট ভাটায় উৎপাদন বন্ধ; ইটের দাম আকাশ ছোঁয়া

0
রুহুল কুদ্দুস, তরঙ্গ বার্তা, করিমগঞ্জঃ আইনী জটিলতায় বরাক উপত্যকায় মেঘালয়ের কয়লা আমদানী বন্ধ হওয়ায় উপত্যকা জুড়ে ইটের বাজারে লেগেছে হাহাকার। ইটের পর্যাপ্ত যোগানের অভাবে ও ক্রমবর্ধমান মুল্য বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত,নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের মাথায় হাত। কারণ মেঘালয় বা অন্যান্য জায়গা থেকে কয়লা আমদানীতে আইনী মারপ্যাঁচে বৈধ কয়লা বরাকে আসছেনা। ফলস্বরুপ ইন্দিরা আবাস প্রকল্প, ব্যক্তিগত আবাসন তৈরী,সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ।এতে যেমন সুবিধা প্রাপ্তরা বঞ্চিত হচ্ছে তার চেয়ে বেশী ভুক্তভোগী কাজে জড়িত শ্রমিকরা।
ইটের অত্যধিক মুল্য বৃদ্ধি ও জনগণের বিভিন্ন অসুবিধার কথা তুলে ধরে কংগ্রেস কর্মী তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কবির আহমদ চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমের সংবাদ কর্মীদেরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইটশিল্প জনিত বিভিন্ন অসুবিধার কথা তুলে ধরে বলেন, ইটের দাম ১০হাজার থেকে একলাফে ১৪হাজার টাকা হওয়ায় দরিদ্র সীমারেখার জনগণের জন্য বরাদ্দ ইন্দিরা আবাস প্রকল্পের নির্দিষ্ট টাকায় কোনভাবেই ঘর তৈরী করা যাচ্ছেনা।
ফলে গরীব মানুষেরা আশ্রয় হারা হচ্ছেন।বরষার মৌসুমের আগে যদি তাদের ইন্দিরা আবাস তৈরী না হয় তাহলে পরিবার পরিজন সহ আশ্রয়হীনদের যাবার কোন জায়গা থাকবেনা। তাছাড়া সরকারী বিভিন্ন প্রকল্প যেমন ব্রীজ,রাস্তা ইত্যাদি ও অর্ধ নির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকার ফলে জনগণের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি ব্যহত।তিনি বলেন ইটের সংকট ও মুল্যবৃদ্ধিতে ইট শিল্পের সংগে জড়িত রাজমিস্ত্রী ও ভাট্টা শ্রমিকরা কর্ম সংস্থানের অভাবে ও অর্ধাহারে পরিবারসহ দিনযাপন করছে। কবির চৌধুরী অত্যন্ত ক্ষোভের সংগে বলেন এসবের মুল কারন মেঘালয় থেকে কয়লা আমদানী পুরোপুরি বন্ধ হওয়ায়। ২০১২ন্যাশন্যাল গ্রীণ ট্রাইবুন্যালের এক মামলার পরিপেক্ষিতে আদালত মেঘালয়ে কয়লা উত্তোলনে নিষেধ জারী করে। ২০১৪ সালে আগের উত্তোলিত কয়লা বিক্রীর সাময়িক আদেশে বরাকের ইট ও চা-কারখানা পুনরিজ্জীবীত হলেও এবার অবস্থা চরমে। তাই তিনি মুখ্যমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বরাকে সফররত বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত দত্তের সাথে দেখা করে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের চাপ সৃষ্টি করবেন।অবিলম্বে যদি কয়লা সংকটমোচন না হয় তাহলে দনগণের পুঞ্জীভুত ক্ষোভে বহিপ্রকাশ ঘটবে বলেও আশংকা করেন।
উল্লেখ্য,বিগত মাসে আদালত আবারো উত্তোলিত কয়লা পরিবহনের আদেশ জারী করলে আসাম পুলিশ ও কয়লা মাফিয়াদের দৌরাত্মে বৈধ কয়লা আমদানী সম্ভব হচ্ছেনা। কারন ইতিমধ্যে কয়লা মাফিয়ারা চালানের মুল্য ৬০/৬৫ হাজার টাকা ধার্য্য করায় বৈধ কয়লা আমদানীকারকরা চড়ামুল্যে কয়লা আমদানীতে নারাজ। বাঁকা পথে ২/৩ গাড়ী রোজ আসলে চাহিদার চেয়ে যোগান অতি কম হওয়ায় ভাট্টা মালিকদেরকে চড়া মুল্যে কয়লা কিনতে হচ্ছে ফলে একদিকে যেমন ইটের দাম বৃদ্ধি করতে হচ্ছে অন্যদিকে কয়লার অভাবে ভাট্টা জালানী বন্ধ হতে যাচ্ছে।তাই এই সংকটের সৃষ্টি বলেই উপত্যকার ভাট্টা মালিকদের অভিমত।অবিলম্বে সরকারী পর্য্যায়ে এর কোন সুরাহা বের না হলে সর্বস্থরে জনগণ মহাসমস্যায় জর্জরীত হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here