মুসলিমদের মর্যাদাহানি: সুদর্শন টিভির অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

0
ছবি: সংগৃহিত

সংবিধানের ফ্রিডম অফ স্পিচের সুযোগ নিয়ে কোনো সংবাদমাধ্যম এক শ্রেণীর মানুষের আবেগ, অনুভূতি ক্ষুন্ন করতে পারেনা। সুদর্শন টিভি’র দ্বারা প্রচারিত ‘ইউপিএসসি জিহাদ’ অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল সুপ্রিমকোর্ট। বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, ইন্দু মালহোত্রা ও কে এম জোসেফের তিন সদস্যের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন। ল্যান্ডমার্ক এই রায়ে তারা সুদর্শন টিভিতে প্রচারিত বিন্দাস বোল অনুষ্ঠানটিও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। জনস্বার্থের এই মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার হবে।

তিন সদস্যের বিচারপতিদের বেঞ্চ বলেছেন, ভারতবর্ষ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, অনুভূতির সম্পূর্ণ বিপরীত এই সুদর্শন টিভির অনুষ্ঠান। কোনো সম্প্রদায়কে আঘাত করার এবং তাদের আবেগকে আহত করার অধিকার সংবাদমাধ্যমের নেই। তাই তারা দশ এপিসোড-এর বিন্দাস বোল অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন।

এই অনুষ্ঠানের চারটি পর্ব ইতিমধ্যেই টেলিকাস্ট হয়ে গেছে। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, টিআরপি’র ইঁদুর দৌঁড়ে সামিল হয়ে টিভি চ্যানেলগুলি ভুলে যাচ্ছে যে, তাদেরও সামাজিক দায় রয়েছে। ফ্রিডম অফ স্পিচ-এর দোহাই দিয়ে যেমন ইচ্ছা চলা যায় না।

চ্যানেলের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী শ্যাম ধীবন দাবি করেন যে, কোনো সম্প্রদায়কে আঘাত করা নয়, এটি ছিল একটি ইনভেস্টিগেটিং সাংবাদিকতার ফসল। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ফ্রিডম অফ স্পিচ এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ওয়েবপোর্টাল, চ্যানেলে এমন খবর পরিবেশিত হচ্ছে, যা কেবল সামাজিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইউপিএসসি পরীক্ষাকে হাতিয়ার করে সম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানাের চেষ্টা করে হিন্দি সংবাদ মাধ্যম সুদর্শন টিভি। নাম জড়ায় ওই হিন্দি সংবাদমাধ্যমে এডিটর ইন চিফ সুরেশ সাভাঙকে। ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সুরেশের শাস্তির দাবিতে সরব হতে দেখা গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সংগঠন সহ একাধিক নাগরিক মঞ্চকে। সম্প্রতি সুরেশ তার প্রােগ্রামের একটি প্রােমাে ভিডিও বিভিন্ন সােশ্যাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেন। সেখানেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় মুসলিমদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তােলেন। নিয়ােগ সংক্রান্ত গােটা প্রক্রিয়ায় বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযােগ তুলে তিনি ঘটনাকে ‘আমলা জেহাদ’ নামে আখ্যায়িত করেন। কি বলা হয়েছিল ওই প্রােমাে ভিডিওতে? ওই ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, ‘হঠাৎ করেই আইপিএস-আইএএসে মুসলমানরা কিভাবে বেড় গেল? ভাবুন কোনও মুসলিম কর্মকর্তা আপনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিভিন্ন সচিবালয়ে সচিব হন তাহলে কি হবে? সুরেশের এই বিদ্বেষ ভিডিওটি মূহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয় নেট দুনিয়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here