CTET : সহজ না কঠিন?

0
~ জাহিদ ইসলাম বড়ভূইয়া
ভালো লাগছে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়াটা কাম্য ছিল এবং তা ধীরে ধীরে হচ্ছে। আজ থেকে দু’বছর আগে CTET নিয়ে এমন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে অনেক ভালো ভালো শিক্ষক চট করে এই পরীক্ষাকে অনেক কঠিন বলে উড়িয়ে দিতেন। এই কঠিন ফোবিয়া থেকে আমাদের উপত্যকা মুক্ত হতে চলছে।
অনেকেই ম্যাসেজ করে নিজেদের আপকামিং CTET পরীক্ষায় বসার জন্য সাজেশন চাইছেন তাই এবিষয়ে সংক্ষেপে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরছি :
১) যেকোন কর্মের জন্য আপনাকে প্রথমে মানসিকভাবে তৈরি হতে হবে। মনোবিদ থর্নডাইকের লো অব রেডিনেস এর মতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার প্রথম শর্তই হচ্ছে প্রস্তুত হওয়া, তখন কঠিন বা সহজ এসমস্ত কোন কথা মাথায় আসেনা, লক্ষ্য হয়ে যায় মূল বিষয়। তাই আপনি CTET কেন দেবেন? সবাই দিচ্ছেন তাই স্রোতে গা ভাসাতে আপনিও দেবেন না আপনার CTET উত্তীর্ণ হতেই হবে এজন্য দেবেন। যদি আপনি উত্তীর্ণ হতেই হবে এই মানসিকতা রেখে দেন তবে নিশ্চিত আপনি সফল হবেন।
২) CTET অনেক কঠিন স্যার! আমরা কি পারব? এই কথাটি শুনতে শুনতে আমার কানতালা হয়ে গেছে। আমি কখনো CTET কে কঠিন বলব না বরং সেন্ট্রাল টেটের প্রশ্নপত্র খুবই স্টেন্ডার্ড বলব। মানে আপনাকে হার্ড ওয়ার্কের সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট ওয়ার্ক করতে হবে। এখানের আমাদের পার্সেপশান অর্থ্যাৎ দৃষ্টিভঙ্গি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের পরিবেশ এই পরীক্ষাকে কঠিন করে দিয়েছে। ইদানিং লো অব এফেক্ট হচ্ছে, মানে CTET পাশের একটা ভালো ভবিষ্যত সামনে আসছে বা অনেকে চাকরি পেয়েছে তাই অটোমেটিক রিএনফোর্সিং হচ্ছে তাই এবার হাইলাকান্দি জেলায় আপার প্রাইমারিতে প্রায় ১৫ জন ও লোয়ার প্রাইমারিতে প্রায় ৩০ জন এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলাফল যখন সামনে আসে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেকোন ব্যাপারই সহজ হয়ে যায়।
৩) হাইলাকান্দির লালার মেয়ে মারিয়া তানিম যদি এপিএসসি তে প্রথম হতে পারে, ইউপিএসসি বা এপিএসসির মতো পরীক্ষায় যখন আজকাল সফলতা তরান্বিত হচ্ছে তখন CTET তো মামুলি ব্যাপার। প্রয়োজন শুধু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আর কিছু হার্ড ওয়ার্কের। প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া উচিত তা নীচে বিস্তারিত বলছি :
👉CTET এ প্রশিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা হচ্ছে ইংরাজি দক্ষতার অভাব। অনেকেই ইংরাজি কথা বলতে পারেন কিন্তু ইংরাজির ডেপত অব নলেজ কম থাকে। এজন্য প্রশ্নগুলোর মিনিং সহজে বের করতে বা বুঝতে অক্ষম হন বা বুঝলেই অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেন। এজন্য প্রস্তুতির প্রথম থেকেই ইংরাজি দক্ষতার উপর গুরুত্ব দিতে হবে তাছাড়াও উত্তর থেকে বেশি প্রশ্নগুলোর উপর আলোকপাত করতে হবে।
👉 CTET এর নিম্ন প্রাথমিকে মোট পাঁচটি বিষয় ও উচ্চ প্রাথমিকে চারটি বিষত আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে CDP, মানে এই বিষয়টিতে এলপি এমই উভয়ক্ষেত্রে তার নিজস্ব ৩০ মার্ক আছে, তাছাড়াও এলপির বাকি চার‍টি ও এমই এর তিনটি বিষয়ের ১৫ মার্ক করে আরও ৬০ মার্কের পেডাগোজি আছে।(এমই এর এসএসটি বা অঙ্ক বিজ্ঞান বিষয়ে ৬০ এর মধ্যে পেডাগোজি মোট ৩০ মার্কস থাকে) তাই ৩০ ও ৬০ মার্ক মিলে ৯০ হল। এলপির পাঁচ বা এমই এর চার বিষয়ে মোট আছে ১৫০ মার্ক, আর শুধু চাইল্ড ডেবলাপমেন্ট ও পেডাগোজি থেকে আসছে ৯০ মার্ক। এটাই CTET এর সবচেয়ে মজাদার ব্যাপার। এই ৯০ মার্ক্সের জন্য আপনাকে হার্ড ওয়ার্কের সঙ্গে স্মার্ট ওয়ার্ক করতে হবে। CDP তে কি আছে আসলে-মনোবিজ্ঞানীদের দেওয়া প্রায় ১৫/১৬ টি থিওরি আছে। এগুলোর বিস্তারিত কনসেপ্ট আপনার থাকতে হবে। শিখন ও শিক্ষণের কিছু পদ্ধতি আছে এগুলোর একটি একটি করে সবটির ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। আর কিছু ছোটখাটো কনসেপ্ট আছে এসব যদি আয়ত্বে নিয়ে আসেন তবে কেল্লাফতে। অতিরিক্ত প্রশ্ন ঘাটাঘাটির জন্য আমি Saroha Publications CDP এর গাইডবুকটি সাজেস্ট করব, এই একই প্রকাশনীর ইংরাজির বইটিও গুরুত্বপূর্ণ। CDP এর এলপি বা এমই এর যাবতীয় প্রশ্নের কালেকশন এই বইয়ে আছে। কনসেপ্ট ক্লেয়ারের জন্য তেমন কোন ভালো বই নেই, তবে Pearson এর গাইড বুকটি মোটামুটি কাভার করবে। তবে আপনি প্রতিটি টপিকের জন্য ইউটুভে ভালো ভিডিও দেখে নোট তৈরি করতে পারেন, তাছাড়াও আপনি উন্নত কোন কোচিং সেন্টারের মেন্টরের দারস্থ হলে ভালো হয়, কারণ অনেক থিওরি একমাত্র লাইভ ছাড়া বুঝা বেশ মুশকিল । তবে মনে রাখবেন এবার যারাও CTET কোয়ালিফাই করেছেন তারা প্রায় সবাই হার্ড ওয়ার্ক ও অনেক বেশি সেল্ফ স্টাডি করেছেন বা তারা অনেক টিচিং প্রফোশনের সঙ্গে জড়িত। তাই আপনি কোন কোচিং সেন্টারের উপর পুরো নির্ভর করে চলতে পারবেন না, কোচিং সেন্টার শুধুমাত্র একটি সিস্টেম পাওয়ার জন্য বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আপনাকে হেল্প করতে পারে। আমার মতে CTET এ আপনার কর্ম তৎপরতা ৭০% মেটার করে বাকি ৩০% কোচিং সেন্টার আপনাকে সাহায্য করবে। আমি যদিও CTET এর কোচিং এর সঙ্গে জড়িত তবুও যা সত্য তা বলতে হয়। তবে আসাম টেটের জন্য একজন সামান্য হার্ড ওয়ার্ক করার সঙ্গে ভালো কোচিং সেন্টারে ক্লাস করে সফল হয়ে যাবেন, সেটা অন্য ব্যাপার। এই সিস্টেম ফলো করে রেগুলার পড়াশুনা চালিয়ে গেলে ৯০ এ ৭০+ স্কোর অনায়াসে করতে পারবেন বলে আশা রাখি।
👉 বাকি ৬০ মার্কসের মধ্যে এলপি বা এমই এর ৩০ মার্কস একই পদ্ধতিতে আয়ত্ত্ব করা যায়। মার্কস খুবই ইজি ট্রিকসে করতে পারবেন যদি আপনার হার্ড ওয়ার্কের সঙ্গে স্মার্ট ওয়ার্ক করে থাকেন। ইংরাজির ১৫ মার্কসে থাকছে দুটি পেসেইজ, এই দুটি পেসেজেই যাবতীয় গ্রামার ঢুকে পড়ে যায়। তাই আপনাকে ঘরে বসে একাধিক পেসেইজের প্রাকটিস দিতে হবে। তৎসঙ্গে কোচিং সেন্টার বা ইন্টারনেটের সহায়তায় যাবতীয় গ্রামারের কনসেপ্ট ক্লেয়ার করতে হবে। বাংলায় একইভাবে ১৫ মার্ক্সে থাকবে দু’টি পেসেইজ, সেই বাংলাতেই যাবতীয় গ্রামার ঢুকে যায় পেসেইজে। বাংলায় বিশেষ করে কবিতার ছন্দ, অলংকার বা সমাস, সন্ধি ইত্যাদির ক্লেয়ার কনসেপ্ট থাকা চাই।
👉এখন যারা এলপিতে বসছেন তাদের জন্য বাকি থাকা আরও ৩০ মার্কসের ১৫ মার্কস অঙ্ক ও ১৫ মার্কস থাকছে পরিবেশে। আপনি আর্টস স্ট্রিমের হলে অঙ্কের জন্য আপনার একজন অভিজ্ঞ মেন্টরের সাহায্য নেওয়া উচিত, পরিবেশ নিজে ঘাটাঘাটি করতে পারেন ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে, একটি ভালো বই ফলো করতে পারেন। তবে অভারঅল ভালো একজন মেন্টরের সাহায্য নেবেন।
👉এমই এর ক্ষেত্রে এই ৩০ মার্কস নির্ভর করছে আপনার স্ট্রিমের উপর, আপনি সায়েন্সের হলে এই ত্রিশের মধ্যে ১৫ মার্কস বিজ্ঞান ও ১৫ মার্কস অঙ্কে থাকছে, এই ৩০ মার্কস স্বাভাবিক একটু হাই সেন্ডার্ড হয়। তাই আপনার কনফিডেন্স লেভেল কম থাকলে কোচিং নেবেন। আবার স্ট্রিম যাদের এসএসটি তারা সিলেবাস দেখে এই ৩০ মার্কসের ভালো গাইড ইউটুভে পাবেন, বা ক্লাস সিক্স, সেভেন ও এইটের NCERT এর এসএসটি বইগুলো স্টাডি করলে ভালো একটা উপকার পাবেন। তাছাড়াও কনসেপ্ট ভিত্তিক যেকোনো গাইড বুক কিনতে পারেন। আর যদি সেল্ফ স্টাডিতে নিজের আত্মবিশ্বাস কম থাকে তবে অবশ্যই ভালো মেন্টর দেখে উন্নতমানের কোচিং সেন্টারের দারস্থ হবেন। কারণ এই ত্রিশ মার্কস একটু হাই সেন্ডার্ড হয়ে থাকে।
আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তা নিয়ে যদি পরিশ্রমী হয়ে উপরে উল্লেখিত নিয়মে তিনমাস চেষ্টা করেন তবে নিশ্চিতরূপে সফলতার ছোঁয়া আপনাকে চুমো দেবে। যদি আপনি এই লেখনিটি পড়া শেষ করে ফেলেন আর আপনি CTET দিতে চান, তবে আগামীকাল থেকে জার্নি শুরু করে দেন, পরশু ডেইট দিলে আর হবেনা। ধন্যবাদ।
লিখেছেন জাহিদ ইসলাম বড়ভূইয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here