লায়লাপুরে মিজো আগ্ৰাসনে ক্ষতিগ্ৰস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন দেওয়ার দাবি সিপিএম-র

0

কেন্দ্রের ও রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অসম- মিজোরাম সীমানা বিবাদ নিষ্পত্তি সহ মিজো বাহিনীর আগ্ৰাসন থেকে অসমের জমি দখল মুক্ত করার তেমন কোনও তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শুধু বৈঠক আর বৈঠক, ফলাফল শূন্য। এ নিয়ে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে কাছাড় জেলায় অসম ভূখন্ড মিজো বাহিনী দখল করে রেখেছে। সীমান্তবর্তী খুলিছড়া ফরেষ্ট ভিলেজ, লায়লাপুরে বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তে বসবাসকারী মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

সম্প্রতি মিজো দুষ্কৃতকারীরা লায়লাপুরে বসবাসকারী নিরীহ, গরীব অন্তত কুড়িটি পরিবারের  ঘরবাড়ি ও দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছে।

কোনো মতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসে অসহায় মানুষজন লায়লাপুর আপগ্রেডেড সরকারি স্কুলে আশ্রয় নিয়ে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা নেই। আশ্রয়হীন লোকদের মধ্যে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী, আসবাবপত্র ও বস্ত্র বণ্টন না করলে তাদের অবস্থা মারাত্মক রূপ ধারণ করবে। বিভিন্ন দল ও সংগঠনের একাধিক বার দাবী জানানো সত্ত্বেও তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি কোনও ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হচ্ছে না।

মিজো দুষ্কৃতীর হামলায় গুরুতর আহত নাজিম উদ্দিন লস্করের সরকারি কোনও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ইতিমধ্যে ধার করে লক্ষাধিক টাকা চিকিৎসা বাবদ খরচ করেছেন। তার চিকিৎসা অনেক দিন ধরে চলবে। চিকিৎসার বাকী খরচের টাকা কোথা থেকে জোগাড় করবেন এ নিয়ে পরিবারের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বাকী খরচের টাকা জোগাড় করতে না পারলে নাজিম উদ্দিন লস্করের চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। রাজ্য সরকারকে তাই আহত নাজিম উদ্দিন লস্করের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা হাতে নেওয়া ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করা অতি জরুরি। অসম-মিজোরাম সীমানা বিবাদ কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অতি সত্বর সমাধান করা, অসম ভূখন্ড মিজো বাহিনীর কাছ থেকে দখল মুক্ত করা, ক্ষতিগ্ৰস্ত পরিবারগুলিকে সরকারি পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা ও তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং গুরুতর আহত নাজিম উদ্দিন লস্করের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান সিপিএম অসম রাজ্য কমিটির সদস্য আইনজীবী রেজামন্দ আলি বড়ভূইয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here