অবৈধ সম্পর্কে নাবালিকার গর্ভ থেকে সন্তান প্রসব, মানবাধিকার কমিশনে শিপ্রা ! অস্বস্তিতে রাতাবাড়ি পুলিশ

1
ছবি : প্রতিকী
নিজস্ব সংবাদদাতা, তরঙ্গ বার্তা, নিলামবাজার : বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের জেরে সন্তান প্রসব করে নাবালিকা। বিয়ে করতে অস্বীকার করে উল্টো নাবালিকা সহ পরিবারকে হেনস্থা। থানায় মামলা দায়েরের ছয় মাস অতিবাহিত হলেও সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রাতাবাড়ী পুলিশ।
বিজেপি নেত্রী শিপ্রা গুন বিষয়টি রাজ্যিক মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টিগোচর করার পর মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে রাজ্যিক মানবাধিকার কমিশন। পয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে রিপোর্ট করার নির্দেশ করিমগঞ্জ পুলিশ সুপারকে। অস্বস্তিতে রাতাবাড়ি পুলিশ ! অভিযুক্তকে হাতের নাগালে পেলেও মোটা অঙ্কের অর্থে প্রভাবিত হয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ, অভিযোগ প্রতারিত নাবালিকার।
রাতাবাড়ি থানা এলাকার দামছড়া-ত্রিপুরা পুঞ্জিতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সংগঠিত হয় গত বছরের শুরুর দিকে। সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে প্রাথমিক অবস্থায় গ্রামীণ বিচার সভায় বিষয়টি মীমাংসার প্রচেষ্টা করলেও নাবালিকাকে বিয়ে করে নবজাতকের দায়ভার এড়িয়ে যায় একই গ্রামের আকদ্দছ আলীর পুত্র ছলিম উদ্দিন। শেষ পর্যন্ত গ্রামীণ একাধিক বিচার সভা বসলেও সুবিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে নয় মাসের অন্তসত্বা অবস্থায় গত বছরের ৮ জুলাই ছলিম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের হয় রাতাবাড়ি থানায়।
পুলিশ মামলাটি ১৯৪/১৮ নম্বরে এবং ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৭৬/৪২০/ও ৪৯৩ নম্বরে নথিভূক্ত করে নাম কা ওয়াস্তে তদন্ত শুরু করলেও দীর্ঘ ছয়মাস সময়ে মামলার কোন কিনারা করতে পারেনি রাতাবাড়ী পুলিশ। এরই মধ্যে ফুটফুটে এক শিশুপুত্রের জন্ম দিয়েছে প্রতারিতা নাবালিকা।
পুলিশের নিষ্ক্রীয়তার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই ছয় মাসের মধ্যে ভূক্তভোগী নাবালিকার পিতা জলিল উদ্দিনকে(আসল নাম নয়) ধমাতে অভিযুক্তের পরিবার নিজেদের মৎস্যচাষের ফিসারীতে হিংসা করে বিষ ঢালা এবং অভিযুক্ত যুবককে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে গোপন করে রেখে লাপাত্তা করার একাধিক মিত্যা মামলা দায়ের করে জলিল উদ্দিনকে(আসল নাম নয়) ধমানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে অভিযুক্তের পরিবার। যদিও রাতাবাড়ি পুলিশ এসব মামলা যে আদৌ জলিল উদ্দিনকে(আসল নাম নয়) ধমানোর জন্য করা হচ্ছে, তা ঠের পেয়ে অভিযুক্তের পরিবারের কোন মামলাই নথিভূক্ত করেনি রাতাবাড়ি পুলিশ।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গত অক্টোবর মাসের গোড়ার দিকে বিজেপি নেত্রী শিপ্রা গুনের দারস্থ হয় নাবালিকা সহ তার পরিবার। শিপ্রা গুন তাৎক্ষণিক বিষয়টি তখনকার করিমগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌরভ উপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানালেও টনক নড়েনি রাতাবাড়ি পুলিশের।
শেষ পর্যন্ত বিজেপি নেত্রী শিপ্রা গুনের সহযোগে লিখিত ভাবে বিষয়টি হাইকোর্টের মূখ্য বিচারপতি, রাজ্যিক মানবাধিকার কমিশন ও মহিলা কমিশনকে নালিশ জানানো হয়। এমর্মে মানবাধিকার কমিশন থেকে গত ২৪ অক্টোবর এ এইচ আর সি মামলা ২৪১৯/২০১৮-১৯ (১০)/৪ নম্বরের এক নির্দেশিকায় আগামী পয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে মামলার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করতে করিমগঞ্জ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কিন্ত রহস্যজনক ভাবে মানবাধিকার কমিশনের নির্ধারিত পয়তাল্লিশ দিনের পরিবর্তে প্রায় তিন মাস গড়ালেও মামলার কোন কিনারা করতে পারেনি রাতাবাড়ী পুলিশ। বিশ্বস্থ সূত্রে জানাগেছে, অভিযুক্ত যুবক ছলিম উদ্দিন অর্থবল আর রাজনৈতিক মদতে দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তার করছেনা পুলিশ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here