আগামী দিনের সম্ভাবনা

0
ছবি : নিজস্ব ফাইল চিত্র

নূরুল ইসলাম মাঝারভূইয়া

হিংসার দর্শন ও মিথ‍্যাচারের সমস্ত ধরণের কলাকৌশলে অধিকাংশ দেশবাসীর বিবেকবোধকে প্রভাবিত এবং নির্বাচন ব‍্যবস্থাকে হাইজেক করে বিজেপি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হয়েছে। সংখ‍্যার দিক থেকে বিরোধীরা দুশোর কাছাকাছি থাকলেও তাদের প্রভাব কার্যত ধূলিস‍্যাথ হয়ে গেছে। কেবল কংগ্রেসমুক্ত ভারত নয়, কার্যত বিরোধীমুক্ত সরকার গঠিত হয়েছে। নরম হিন্দুত্ব গরম হিন্দুত্বের সাথে সূর মিলিয়েছে। রাহুল- কেজরিওয়ালদের সাথে বন্দেমাতরম গাওয়ার চেয়ে মোদী -অমিতদের সাথে জয় শ্রীরাম গাইতেই পছন্দ করেছে। অচিরেই অবিজেপি রাজ‍্যসমূহের সরকার বদলের খেলা শুরু হবার কথা। এভাবে সারা ভারতে গেরুয়া বিপ্লব সফল হতে কোন বাধা থাকছেনা।
সমস্ত দেশবাসীকে এক দৃষ্টিতে দেখা হবে কিনা ,দুর্বল সম্প্রদায় সমূহের গণতান্ত্রিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে কিনা, এমনকি বর্তমান সংবিধান অক্ষুণ্ণ থাকবে কিনা তা নির্ভর করছে নেতৃত্বের ইচ্ছার উপর। অবশ‍্য এ সংবিধান বাহাল থাকলেও ক্ষতি নেই, সংখ‍্যাগুরুর দাপটের সামনে সাংবিধানিক ধারা আওড়ানো কোন কাজে লগবেনা। নির্বাচন কমিশন দলীয় দোসর হয়ে যাবার পর অবশিষ্ট একমাত্র নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান বিচার ব‍্যবস্থা,এমনকি সুপ্রীম কোর্ট তার নিরপেক্ষতা হারাবে। গেরুয়া সংস্কৃতির বাতাস বইবে দেশের অলিতে গলিতে।
এর পরেও আচ্ছে দিন আসার যে কোন সম্ভাবনা নেই তা বিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলা যায়।লুঠ মার আগের মতোই চলতে থাকবে।এবার কাউকে বিদেশে পালিয়ে যেতে হবেনা। যারা পালিয়ে গেছে তাদের ঋণ মকুব করে দেয়া হবে। অবশ‍্যে দলীয় নেক নজরে না থাকলে কিছুটা ভোগতে হবে। আদানি,আম্বানি,জয় শাহেরা আরো ফুলে ফেফে উঠবে। বিরোধীদের সমর্থক পূঁজিপতিগোষ্ঠীকে নতিস্বীকার করতে হবে।সরকারি খাতের অনেক শিল্প ও পরিসেবা ব‍্যক্তিগত খণ্ডে হস্তা্ন্তর হবে।দ্রব‍্যমূল‍্য ক্রমাগত উর্ধমুখী হবে।বেকারত্ব বাঢ়বে।কৃষক- শ্রমিক আত্মহত‍্যায় ভাটা পড়বেনা।
এসবের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন গঢ়ে তোলা খুব কঠিন হবে।হিন্দুরাষ্ট্রের মোহে কয়েক বছর পর্যন্ত দেশবাসী আপ্লুত হয়ে থাকবে। পরিচিত দল সংগঠনসমূহ কোন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পারবেনা। তাদের উপর জনগণের আস্থা ফিরে আসবেনা। হিন্দুরাষ্ট্রবাদের ঠেলায় যখন দেশবাসীর নাভিশ্বাস উঠবে তখন নতুন দর্শনে নতুন নেতৃত্বে নতুন পদ্ধতিতে আন্দোলনের প্রয়োজন পড়বে।
দীর্ঘস্থায়ী হবার মতো প্রাণশক্তি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের নেই ।হিংসার সংস্কৃতি একসময় তাদের নিজেদেরকেই গ্রাস করবে। গান্ধীবাদী ও মার্ক্সবাদীদের কোমরে আর সে জোর নেই যে বিকল্প নিয়ে দাঁড়ায় । আঞ্চলিকতাবাদ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকারের দাবী নিজস্ব নেতৃত্ব নিয়ে আবার এগিয়ে আসবে।ভারতবর্ষে তিন প্রজন্মের অভিজ্ঞতায় গান্ধীবাদ ব‍্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। মার্ক্সবাদীরা দুই প্রজন্ম অতিক্রম করতে পারেনি। হিন্দুত্ববাদীরা মোদী -শাহদের জমানাতেই নিজেদের উজাড় করে দেয়ার সম্ভাবনাই প্রবল‌।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here