বাংলা ভাষাকে রক্ষা করেছিলেন মুসলিম শাসকেরা

0
✍️ ফেরদৌস আহমেদ বড়ভূইয়া

বাংলাভাষাকে রক্ষা করেছিলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি। ইতিহাস তার নিয়মেই খুঁড়ে আনছে এমন সব তথ্য। সেন রাজারা বাংলা ভাষার ওপর ক্ষমতার বুলডোজার চালিয়েছিলেন, এমন তথ্য দিচ্ছেন আধুনিক ইতিহাসবেত্তারা।

হাজার বছর আগে দক্ষিণ ভারতের সেন রাজারা বাংলা ভাষার প্রতি তাদের বিদ্বেষের চরম নমুনা পেশ করেছিলেন। ওই সময় সেন রাজাদের হিন্দু পণ্ডিতেরা ফতোয়া জারি করেছিলেন যে যারা বাংলা ভাষায় কথা বলবে তারা “রৌরব” নামক নরকে নিক্ষিপ্ত হবে। তৎকালীন সমাজের ধর্মভীরু মানুষ ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে শিরোধার্য করে নিয়েছিলেন পণ্ডিতদের এই ফতোয়া। কিন্তু জগত সংসার সম্বন্ধে চূড়ান্ত বাস্তববাদী তুর্কি বংশোদ্ভূত ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি পণ্ডিতদের এই ভণ্ডামি ধরে ফেলেন। তিনি বাংলা ভাষার উদ্ধারে বাঙালিদের পাশে দাঁড়ান।

ইখতিয়ার উদ্দিন সেই সময় অর্থাৎ ১২০৪ সালে ১৭ জন ঘোড়সওয়ারি নিয়ে সেন রাজাকে পরাজিত করে বাংলাকে মুক্ত করেন। সেই দিন বাংলার পাশাপাশি মুক্ত হয়েছিল বাঙালির মুখের ভাষা বাংলা। তা নাহলে আজ বাংলা ভাষার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত। বাঙালির অস্তিত্ব তখন ইতিহাসের পাতায় শোভা পেত।

ভাষাবিদ দীনেশচন্দ্র সেন যথার্থই বলেছেন,” মুসলমান সম্রাটগণকে বর্তমান বঙ্গ সাহিত্যের জন্মদাতা বললে অত্যুক্তি হবেনা। বঙ্গ সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট। বঙ্গ ভাষা বাঙালি মুসলমানদের মাতৃভাষা।”

অধ্যাপক ও গবেষক আসাদুজ্জামান বলেন,”যদি বাংলায় মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত না হতো এবং এদেশে আরো কয়েক শতকের জন্য পূর্বের শাসন অব্যাহত থাকতো, তবে বাংলা ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং অবহেলিত বিস্মৃতপ্রায় হয়ে অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত হতো।”

মধ্যযুগে মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষা সাহিত্য এক অন্য উচ্চতা পেয়েছিল। নব্য বুদ্ধিজীবীরা এই সব ইতিহাসকে চেপে রাখলেও এনিয়ে সত্যান্বেষীরা অতীতে হাজার হাজার পৃষ্ঠা খরচ করেছেন- যা এখন প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here