এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী সানাউল্লাহ

0
ছবি : সংগৃহিত

তরঙ্গ বার্তা ডেস্ক : সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও) চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান পাননি। চলতি বছরের শুরুতে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিদেশি ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করেছিলেন তিনি। শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত নাগরিক তালিকাতেও স্থান হয়নি তাঁর।

সংবাদমাধ্যম প্রতিদিন টাইমস্ জানিয়েছে, এই সেনা কর্মকর্তার তিন সন্তান। দুই মেয়ে ও এক ছেলের নাম তালিকায় নেই। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর স্ত্রীর নাম রয়েছে।

শনিবার সকাল দশটায় চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ।

এক বিবৃতিতে এনআরসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় মোট আবেদনকারী ৩ কোটি ৩০ লাখ ১৭ হাজার ৬৬১ জনের মধ্যে নাগরিক হিসেবে স্থান পেয়েছেন ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জন। তালিকায় স্থান না পাওয়া ব্যক্তিরা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

কারগিল যুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং রাষ্ট্রপতি পদক পাওয়া মোহাম্মদ সানাউল্লাহকে কামরূপের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০৮ সালে সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে তার নাম তালিকাভুক্তির পর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে তাঁর নামে মামলা হয়। এরপর মে মাসে তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। পরে গুয়াহাটি হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। তবে হাই কোর্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায় খারিজ করে দেয়নি। আদালত জানায়, তার আবেদনের শুনানি চলবে।

সানাউল্লাহ ও তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায় গুয়াহাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্তির কোনও সুযোগ ছিল না। এনআরসির ধারা অনুসারে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত কোনও বিদেশি ও তাঁর সন্তানরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাবেন না।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার চাকরিতে যোগ দেন ১৯৮৭ সালে। আসাম সরকারের কর্মকর্তা চন্দ্রমাল দাস সানাউল্লাহকে বিদেশি আখ্যায়িত করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০০৮ সালে তাঁকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হন এবং ২৩ মে তাঁকে বিদেশি ঘোষণা করে গোয়ালপাড়ার একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here