‛এদিকে আয়, বুকের ক্ষমতা দেখি কত বড়, বিজেপির বাচ্চা!’

0
ছবি : সংগৃহিত
তরঙ্গ বার্তা, ডিজিটাল ডেস্ক : সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে বিজেপি। এরপর থেকে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার তৃণমূল কর্মীদের উত্তেজনা লেগেই আছে। এর মধ্যেই পরপর দুবার গাড়ি আটকে বিজেপি কর্মীদের স্লোগানের প্রতিবাদ করতে নিজেই রাস্তায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী। নদীয়া জুটমিলের কিছুটা আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি দেখে বিজেপি কর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করলে তিনি রেগে যান। গাড়ি থেকে সটান ভিড়ের দিকে তেড়ে গিয়ে বলেন, ‘আয় সামনে এসে বল। এদিকে আয়। বুকের ক্ষমতা দেখি কত বড়, বিজেপির বাচ্চা!’
এ অবস্থায় কোন রাস্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ধর্ণা মঞ্চে যাবেন তা নিয়ে দুপুর থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। অবশেষে একদা তাঁর দলের বিধায়ক এবং এখন ভোটে জিতে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহের বাড়ির সামনের রাস্তা ঘোষ পাড়া রোড দিয়েই বৃহস্পতিবার ছুটল মমতার ‘কনভয়।’ মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আসতে দেখেই রাস্তার মোড়ে জড়ো হয়ে থাকা বিজেপি কর্মীরা গেরুয়া পতাকা দেখিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ তখন সেই জনতাকে ঠেলে সরিয়ে দেয়। সাড়ে ৪টা নাগাদ মমতার কনভয় ব্যারাকপুর পার করে জগদ্দলের দিকে ঢোকে। সেখানে মেঘনা মোড়ে অর্জুন সিংহের বাড়ি।

সেই সময় এলাকার জুটমিলগুলো ছুটি হওয়ায় গেটের বাইরে ভিড় করেছিলেন শ্রমিকরা। সেই ভিড়ের মধ্যেই দলীয় পতাকা নিয়ে হাজির ছিলেন বিজেপি কর্মীরাও। সেখানে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিলেও সামনে আসতে পারেননি বিজেপি কর্মীরা। বাধা আসে ভাটপাড়ার রিলায়েন্স জুটমিলের সামনে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সেখানে তাঁর গাড়ির উপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করেন জড়ো হয়ে থাকা একদল বিজেপি কর্মী। ওই জুটমিলের সামনে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। জটলার দিকে নিজে এগিয়ে গিয়ে বলেন, ‘বাঁদরামো! গাড়ির সামনে এসে হামলা! চামড়া গুটিয়ে দেব। কোনো গুন্ডামি মস্তানি হবে না। বেঁচে আছ আমাদের জন্য।’
নিউজ আপডেট পান সরাসরি আপনার হোয়্যাটসেপ-এ। আমাদের হোয়্যাটসেপ গ্রূপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন…
এরপরেই তিনি সামনে থাকা ডিরেক্টর সিকিউরিটি বিনীত গোয়েলকে নির্দেশ দেন, যে ছেলেরা হামলার চেষ্টা করছিল তাঁদের নাম ও জায়গার নাম লিখে নিতে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়ে দেন, নাকা চেকিং হবে। বাড়ি বাড়ি চেকিং হবে। এরপরেই জটলা করে থাকা লোকজনের উদ্দেশে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত বড় সাহস তুমি তোমার মত স্লোগান দাও। গাড়ির সামনে এসে হামলা করবে? আমাকে গালাগালি দিচ্ছিল। বাংলাকে গুজরাত বানাতে দেব না। বাংলা বাংলাই।’
এরপরে গাড়িতে উঠে খানিকটা এগোতেই ভিড়ের মাঝখান থেকে ফের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান উঠলে আবার নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। সব অভব্যতার ব্যবস্থা পুলিশ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেবে বলে নৈহাটির দিকে এগিয়ে যায় কনভয়। বেশ কিছুটা যাওয়ার পরে ভাটপাড়া ও নৈহাটির সীমানায় নদীয়া জুটমিলের কিছুটা আগে ফের গোল বাঁধে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি দেখে বিজেপি কর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করলে তিনি রেগে যান। গাড়ি থেকে সটান ভিড়ের দিকে তেড়ে গিয়ে বলেন, ‘আয় সামনে এসে বল। এ দিকে আয়। বুকের ক্ষমতা দেখি কত বড়, বিজেপির বাচ্চা! গুন্ডা, ক্রিমিনাল সব।’ এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে ও রাস্তার ধারে থাকা পুলিশ কর্মীরা ভিড় ঠেলে সরিয়ে দিয়ে তাঁকে ধর্না মঞ্চের দিকে রওনা করিয়ে দেন।
নৈহাটি স্টেশনের উল্টো দিকে, পুরসভার পাশে বাঁধা মঞ্চে যখন বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী, তখন নিচে দাঁড়িয়ে কিছুটা হলেও আশায় বুক বাঁধছিলেন টিনা গোডাউন এলাকার বাসিন্দা জারিনা খাতুন, কলিমুন্নেসারা। বললেন, ‘ভোটের দু’দিন পরই বিজেপি-র লোকেরা বাড়িতে এসে হামলা চালালো। সব জিনিসপত্র লুঠ করল। আমরা এতদিন ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তবে আজ দিদি আসায় কিছুটা সাহস পাচ্ছি আবার বাড়ি ফেরার।’
সূত্র : আনন্দবাজার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here