বিশ্ব নারী দিবসের প্রাসঙ্গিকতা

0
ছবি : প্রতিকী

~ ফকরুল ইসলাম বড়ভূইয়া

নারী ও পুরুষ নিয়ে সমাজ। সমাজের অর্ধেক হচ্ছে নারী সমাজ। কাজেই সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় নারীদের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কারের কারণে নারী যুগ যুগ ধরেই অবহেলিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার তা ঐতিহাসিকভাবে সত্য।
বর্তমান আধুনিকতার চরম উৎকর্ষতার যুগেও সব চেয়ে লজ্জার কথা হচ্ছে, এখনও নারীকে অধিকারের জন্য রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন করতে হয়।
আজকে স্বামী, ভাই, পিতা হিসাবে আমরা নারীদের অধিকার কতটুকু সংরক্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছি তা বিশ্ব নারী দিবসে আমাদের পুরুষ সমাজের আত্মসমীক্ষা করা নিতান্ত প্রয়োজন।
স্ত্রীর প্রতি দাসী সুলভ ব্যবহার, ভাই হিসাবে বোনের পৈতৃক সম্পত্তি হরণ, যৌতুকের নামে অত্যাচার, আজকের সমাজের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
সমাজ পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল নারীদেরকে পিছনের সারিতে রাখার প্রবণতা।
এখানেই ঐশী জীবন ব্যবস্থা ইসলামের প্রাসঙ্গিকতা, পবিত্র কোরআন বলছে, “নারীদের উপর যেমন পুরুষের কিছু অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষের উপর নারীদের কিছু অধিকার রয়েছে” (বাকারা:২২৮)।
আরো বলা হচ্ছে “আর তোমরা স্ত্রীদের কষ্ট দেওয়ার জন্য আটকে রেখো না। আর যারা এ ধরনের জঘন্যতম অন্যায় করবে, তারা নিজেরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করবে” (বাকারা :২৩১)।
নারী বা পুরুষ জন্ম নেওয়া বা দেওয়া কাহারও ইচ্ছাধীন নয়। এটি স্রষ্টার চিরন্তন বিধানের কর্মধারা। স্রষ্টা সৃষ্টির প্রয়োজনে নারী ও পুরুষ জাতির সৃষ্টি করেছেন।
সভ্যতার বাহনে নারী ও পুরুষ দুটি চাকা সদৃশ। মানব সভ্যতার বিকাশ সাধনে দুটি চাকাকে সমানভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
অন্যদিকে নারী স্বাধীনতার নামে ভোগবাদী সমাজ অশ্লীল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পণ্যে পরিণত করার আরেকটি অপচেষ্টা হচ্ছে, সচেতন নারী সমাজকে সেটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।
নারী মাত্রেই যেন একটা পুতুল, প্রসাধনীর আবরণে, মিডিয়ার বিজ্ঞাপনে নারীর নারীত্বকে অবজ্ঞা করে নারীর আসল সৌন্দর্যকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। আজ নারীর মাতৃত্বকে কোন সম্মান দেওয়া হয় না।
বিশ্ব নারী দিবসে নারীর প্রতি পুরুষের কর্তব্য ও পুরুষের প্রতি নারীর দায়িত্ব বিষয়ে যেন আমরা আরো সচেতন হই।
নারী দিবসে নারী তার প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা ফিরে পাক সেটি হয়ে উঠুক আজকের নারী দিবসের সার্বজনীন দাবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here