নেদায়ে দ্বীনের গ্ৰাহক বৃদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে

0
হিফজুর রহমান: নেদায়ে দ্বীনের গ্ৰাহক সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযান চলছে- তা ফেবুতে ভেসে উঠছে। এ প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতও ফেবুতে দেখে আসছি।
নেদায়ে দ্বীন দীর্ঘ দিন ধরে ধর্মীয় মাসিক পত্রিকা হিসেবে জাতি তথা দেশের সেবা করে আসছে। এটা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এটাকে আমি একটা সম্পদ বলে মনে করি। বরাকের মধ্যে ধর্মীয় পত্রিকা হিসেবে একমাত্র নেদায়ে দ্বীন দীর্ঘদিন ধরে একনাগাড়ে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এরই মাঝে আরো কতো এধরনের পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল কিন্তু সে গুলোর এখন আর হদিস নেই।

একটা পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা চাট্টিখানি কথা নয়। শত সমস্যার মধ্যেই ঠিকে আছে বিশেষকরে সংগঠনের কর্মীদের একনিষ্ঠ ত্যাগের জন্য, যদিও এর গুণগত মান নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে থাকেন। আর এ বলাটাই স্বাভাবিক। আমি কর্মীদের ত্যাগকে সাধুবাদ জানাই।
একটা পত্রিকা টিকে থাকার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্ৰাহক থাকা চাই- এর জন্য অভিযানও প্রয়োজন। আমি আন্তরিকভাবে এই অভিযানের সফলতা কামনা করি। কিন্তু কথা হচ্ছে-শুধু গ্ৰাহক সংখ্যা বৃদ্ধি হলেই যে একটি পত্রিকা সফলতা লাভ করল একথা বলা যাবেনা। সফলতার জন্য অনেক কিছু দরকার রয়েছে।

ডিজিটাল ও প্রতিযোগিতার যুগে গুণেমানে সম্বৃদ্ধ না হলে কোন কিছুই প্রকৃত সফলতা লাভ করতে পারে না। জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে আমাদের পত্রিকা বা প্রতিষ্ঠান সব কিছুকেই এর সাথে খাপ খাইয়ে ঢেলে সাজাতে হয়। অবশ্য দ্বীনি একটি পত্রিকার জন্য ত্যাগ স্বীকার করলে নাজাতের উপায় হতে পারে, তাই বলে গুণগত মান বৃদ্ধিকে এড়িয়ে যাব তা হতে পারে না।
সম্মূখ সমরে কামানের মোকাবেলায় বন্দুক নিয়ে এগোলে সফলতা কামনা করা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। হ্যাঁ বন্দুক নিয়ে কেউ আন্তরিকতার সাথে লড়াই করলে তাঁর আন্তরিকতার জন্য সে পুরস্কার লাভও করতে পারে কিন্তু ইপ্সিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলো।
একটা ধর্মীয় পত্রিকার সাধারণতঃ যে লক্ষ্য থাকে তাহলো- মানুষের মধ্যে জ্ঞানের বিকাশ, নৈতিকতা বৃদ্ধি, দ্বীন ও সমাজ তথা দেশের কল্যাণের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা। এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে হলে আমাদেরকে আধুনিক যুগে আধুনিক উপকরণ নিয়েই এগোতে হবে। তাই সময়ের দাবি অনুসারে আমাদের পত্রিকাগুলো আপডেটেড হতে হবে।

কারণ বর্তমান ডিজিটাল যুগে মানুষের চিন্তাশক্তিও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর জন্য প্রচ্ছদ থেকে বিষয়বস্তু গুণে মানে সম্বৃদ্ধ হতে হবে। পত্রিকাগুলো সৃজনশীলতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হবে। যদিও ভার্চুয়াল দুনিয়ার দৌরাত্ম্য রয়েছে, এর মধ্যেও অসংখ্য প্রিন্ট মিডিয়ার পত্রিকা গুণগত মানে সম্বৃদ্ধ হয়ে সগৌরবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে।
সময়ের দাবি অনুসারে পত্রিকাগুলোকে আপডেটেড করার জন্য ভাল অর্থের সংস্থান রাখতে হবে ও বিজ্ঞ লেখকদের পত্রিকার প্রতি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। তা নাহলে শুধু সংগঠনের কর্মীদের ত্যাগে হয়তো টিকে থাকবে কিন্তু কাঙ্খিত সফলতা এনে দিতে পারবে না ও সময়ে সময়ে সৃষ্ট নতুন নতুন জিজ্ঞাসার উত্তরও দিতে পারবে না।
Advertisement/ https://www.facebook.com/beaconjuniorcollege/
পত্রিকার সমৃদ্ধির জন্য শুধু সদিচ্ছা থাকলে হবে না, উপযুক্ত কৌশল রচনার যােগ্যতা থাকতে হবে। আবার পরিচালক বৃন্দের পটেনসিয়েলিটিও থাকতে হবে। আবার পটেনসিয়েলিটি সম্পন্ন অনেক মাদ্রাসা বা কলেজ পড়ুয়া যুবক রয়েছেন তাঁদের প্রতিভাকে এ কাজে লাগানাে হলে অনেকটা এগােনাে যেতে পারে। এবং পুরনাে কৌশলের পরিবর্তে লেটেস্ট কৌশলকে ব্যবহার করলে ইতিবাচক ফল আশা করা যেতে পারে।
সুতরাং কার্যকরী সদিচ্ছা ও মনােবল থাকলে কোনাে কাজই অসম্ভব নয়- সম্ভবপর হবে। এটা আর্থিক দিক থেকে বা টেকনােলজির দিক থেকেও যদি হয়ে থাকে। পরিশেষে নেদায়ে দ্বীনের সার্বিক উন্নতির জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি।

একান্তই মতামত লেখকের, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

(লেখক একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here