আসু ও এজেওয়াইসিপি-র নতুন দল গঠন, বিরোধীজোটের ভোট ভাগাভাগিতে ফায়দা হবে শাসক দলের?

0
ছবি: সংগৃহিত

অবশেষে আসু ও অসম জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদ নতুন ‘আঞ্চলিক’ রাজনৈতিক দল ‘অসম জাতীয় পরিষদ’-এর জন্ম দিল। সাড়ে তিন দশক পরে ফের আসু থেকে জন্ম নিল রাজনৈতিক দল। এর আগে অসম গণ পরিষদ গড়ে ১৯৮৫ সালে সরকার গড়েছিলেন আসু নেতারা।

সোমবার গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক বসন্ত ডেকা এই ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “নতুন দলটি ‘অসম প্রথম, সর্বদা এবং চিরকালীন’ এই মূল লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে এবং দলের মূল স্লোগান হবে-‘ঘরে ঘরে আমি’। ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে দল গঠনের জন্য তৃণমূল স্তরে কাজ শুরু হয়েছে। ”

তিনি আরো বলেন, “আমরা অসমের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে রাজ্যের ভূমিপুত্ৰদের ঐক্যবদ্ধ করার প্ৰসাস চালিয়ে যাব। আমদের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত কিন্তু একই সাথে কাদের গ্রহণ করতে হবে সে সম্পর্কে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। তারা শুধু রাজনৈতিক লাভের জন্য আমাদের সাথে যোগ দিতে ইচ্ছুক না আঞ্চলিকতার নীতিগুলিতে বিশ্বাস রাখতে চায় তা খতিয়ে দেখা দরকার”।

আসু সাধারণ সম্পাদক লুরিনজ্যোতি গগৈ বলেন, “সমস্ত অসম-বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অসমের জনগণের দাবী ও পরামর্শের ভিত্তিতে এজেপি গঠন করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি সমস্ত আঞ্চলিক শক্তি যৌথভাবে এই আন্দোলনকে সফল করবে। ”

বিকল্প আঞ্চলিক শক্তি হওয়ার লক্ষ্যে এজেপি রাজ্যের সমস্ত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ফোরামে পরিণত হবে বলে দাবী করা হয়েছে।

কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি আগেই রাজনৈতিক দল গড়ার কথা ঘোষণা করেছিল। বলেছিল অখিল গগৈকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে লড়তে নামবে তারা। তাদের সমর্থন জানিয়েছে রাজ্যে ৭০টি জনগোষ্ঠীয় দল।

কৃষক মুক্তির প্রস্তাব ছিল নতুন দল না গড়ে আসু-এজেওয়াইসিপি-কৃষক মুক্তি একটাই রাজনৈতিক দল গঠন করলে তবেই বিজেপি সরকারের টক্কর নেওয়া যাবে। পৃথক দল গড়লে বরং ভোট ভাগ হবে।

কিন্তু আসু-এজেওয়াইসিপির সঙ্গে কৃষক মুক্তি ও তার সঙ্গীদের বৈঠকের পরে আসু জানায়, তারা পৃথক দল গড়ছে। ভোটের আগে নির্দিষ্ট নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে আসন সমঝোতা হতে পারে। দলটি ইতিমধ্যে অসমের ২৫ টি জেলায় সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছে এবং আগামী বছর অনুষ্ঠিত রাজ্য নির্বাচনে ১২৬ টি আসনের মধ্যে অসম জাতীয় পরিষদ ৮০-১০০ আসনে প্রার্থী দেবে। বাকি আসন ছাড়া হবে শরিকদের জন্য।

এদিকে, কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধীরা মনে করছে, আসু এই ভাবে আলাদা দল গড়ায় অসমে সব আঞ্চলিক ও জনগোষ্ঠীয় দলের সম্মিলীত বিকল্প রাজনৈতিক দল গড়ার সম্ভাবনা আর থাকল না। তাই অগপ-বিজেপি বিরোধী ভোটের অনেকটাই ভাগাভাগি হয়ে যাবে। তার সুবিধা শাসক গোষ্ঠীই পাবে।

অবশ্য, নতুন দল গড়ায় রাজ্যে অগপ-বিজেপি বিরোধী ভোটের অনেকটাই ভাগাভাগি হবে। এতে আখেরে বিজেপির সুবিধাই হবে বলে মনে করছে কংগ্রেস তথা ওয়াকিবহাল মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here