কোরআনে ৫ ওয়াক্ত সালাতের কথা আছে কি?

0
ছবি : নিজস্ব

শাহেদ হোসেন মুরসালীন (বাংলাদেশ)

 

পবিত্র কোরআনে সরাসরি “৫” শব্দটি না থাকলেও যে দিক নির্দেশনা দেয়া রয়েছে, তা থেকে দৈনিক “৫ ওয়াক্ত নামাজ” যে মুসলিমদের জন্য ফরজ করা হয়েছে তা স্পষ্ট। রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে মসজিদে উপস্থিত থেকে ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করেছেন এবং নামাজের প্রতিটি ধাপ কিভাবে সম্পন্ন করতে হবে অন্যদেরকেও তা হাতেকলমে শিখিয়ে দিয়েছেন। সেই বাস্তব শিক্ষাটি সব কালে এবং বর্তমানেও সেভাবেই পালন করা হচ্ছে। তাই ফরজ নামাজের ওয়াক্ত নিয়ে কারও মধ্যেই তেমন কোন দ্বিমত নেই। আর ফরজ নামাজের রাকাতের বিষয়টি এতটাই প্র্যাকটিকাল যে, সবকালেই পৃথিবীর সর্বত্র সব মুসলিমই ফজরের ২ রাকাত, জোহরের ৪ রাকাত, আসরের ৪ রাকাত, মাগরীবের ৩ রাকাত এবং ইশার ৪ রাকাত ফরজ নামাজ নির্দ্বিধায় আদায় করেছেন, এখনও করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

আল কোরআনে সুনির্দিষ্ট সময়েই নামাজ কায়েম করতে বলা হয়েছে। সেই দিক নির্দেশনা অনুসারে দিনের বিশেষ বিশেষ সময়ের যে হিসেবে পাওয়া যায়, তাতে ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচী স্পষ্টভাবেই বুঝে নেয়া যায়। কোন কোন সময়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করতে হবে সে সম্পর্কে দিক নির্দেশনাঃ

ফজরঃ
১। আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বেখবর থেকো না।
(৭/সূরা আল আ’রাফ/২০৫)

২। আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।
(১১/সূরা হুদ/১১৪)

৩। সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।
(১৭/সূরা বনী ইসরাঈল/৭৮)

৪। অতএব, তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা স্মরণ কর সন্ধ্যায় ও সকালে।
(৩০/সূরা আর রূম/১৭)

৫। আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত।
(৩৮/সূরা ছোয়াদ/১৮)

জোহরঃ
১। সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।
(২/সূরা আল বাক্বারাহ/২৩৮)

২। সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।
(১৭/সূরা বনী ইসরাঈল/৭৮)

আসরঃ
১। আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।
(১১/সূরা হুদ/১১৪)

২। এবং অপরাহ্নে ও মধ্যাহ্নে। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে, তাঁরই প্রসংসা।
(৩০/সূরা আর রূম/১৮)

মাগরিবঃ
১। আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে-খবর থেকো না।
(৭/সূরা আল আ’রাফ/২০৫)

২। আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।
(১১/সূরা হুদ/১১৪)

৩। সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।
(১৭/সূরা বনী ইসরাঈল/৭৮)

৪। অতএব, তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা স্মরণ কর সন্ধ্যায় ও সকালে।
(৩০/সূরা আর রূম/১৭)

৫। আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত।
(৩৮/সূরা ছোয়াদ/১৮)

এশাঃ
১। আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।
(১১/সূরা হুদ/১১৪)

২। সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।
(১৭/সূরা বনী ইসরাঈল/৭৮)

৩। এবং অপরাহ্নে ও মধ্যাহ্নে। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে, তাঁরই প্রসংসা।
(৩০/সূরা আর রূম/১৮)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here