২০১৯-এর অসম বাজেট মানেই ভোটের বাজেট, সবাইকে সন্তুষ্ট করার দৃষ্টিনন্দন প্রচেষ্টা

গত বাজেটের অগ্রগতি নিয়ে কিছুই বললেন না বিত্ত মন্ত্রী

0
ছবি : স্বরাজ্যমাগ ডট কম
শরীফ আহমদ, তরঙ্গ বার্তা : রাজ্যে যখন নাগরিকত্ব বিল নিয়ে ব‌ইছে ঝড় সেইসময় সনোয়াল সরকার বাজেটের দ্বারা সন্তুষ্ট করতে চাইলেন ভোটারদেরকে। উৎপাদনমুখী কোনো কাজের বরাত জুটলো না রাজ্যবাসীর কপালে। কোনো নতুন কর বা পরিবর্তন স্থান পায়নি ২০১৯-২০ অর্থ বছরে।
শরীফ আহমদ
অর্থমন্ত্রী ভুলে গেলেন গত বাজেটের সব প্রতিশ্রুতি। কথা ছিল কৃষকরা ট্রেকটর পাবেন, ব্রহ্মপুত্রের উপর একাধিক সেতু হবে কিন্তু আরেকবার সব প্রতিশ্রুতি কাগজেই থেকে গেল। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পুনরুত্থান, ১০ খানা আইন মহাবিদ্যালয়, নয়টি মহিলা মহাবিদ্যালয়, দশটি বিএড কলেজের‌ও কথা ছিল কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর‌ স্থাপিত হয়নি। বিধানসভায় বিরোধীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন যে বিত্ত মন্ত্রী আগের বাজেটের সাফল্য নিয়ে কিছু বলবেন কিন্তু নিরাশ হতে হলো।
রাজ্যের সংস্কৃতিপ্রেমিদের জন্য গত বাজেটে বলা হয়েছিল রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয় স্থাপিত হবে। তাও ফাইলের মধ্যে থেকে গেল। গত বাজেটে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা ছিল অসম বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করা হবে কিন্তু এবছর সরকার বিদেশি নাগরিকদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তাই এসব আলোচনা সম্ভবত সরকারের কাছে আজ বাহুল্য হয়ে গেছে। উল্লেখ্য আজ‌ও সীমান্তে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উম্মুক্ত হয়ে আছে।
এক যোজনা নিয়ে রাজ্যের মানুষ খুবই উৎসাহী ছিলেন। গ্রাম্য উন্নয়ন যোজনার অধীনে জানানো হয়েছিল ২০২১-২২ বছরের মধ্যে গ্রামোন্নয়ন খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে ছিল কৃষকদের মধ্যে ট্রেক্টর বিতরণ। এনিয়ে বড়ো মাপের দুর্নীতিই হয়েছে। কতটা কাজ হলো কত টাকা খরচ হলো আর আগামীতে কি পরিকল্পনা ঈশ্বর জানেন।
রাজ্যের দুটি কাগজ কল পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার এখন কেন্দ্রের সঙ্গে আঁতাত করে দুটি শিল্প বিক্রি করবে বলেই বসে আছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। পাট মুগা শিল্প আসামের গর্ব। এনিয়ে গতবার অনেক শ্রুতিমধুর পরিকল্পনা শুনিয়েছিলেন বিত্ত মন্ত্রী। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এই বাজেট‌ও যে আরেকখানা দৃষ্টিনন্দন ফাইল ছাড়া আর কিছু নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দেখা যাক এবার কি কি প্রতিশ্রুতি দিলেন সর্বানন্দ সরকার। এবারের বাজেট ছিল মূলত হিতাধিকারি বৃদ্ধির এক সুচতুর প্রচেষ্টা যাতে ভোটের বাক্স ভারি হয়। উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা কিচ্ছু নেই বরং চমক দেখিয়ে মোহাচ্ছন্ন করল রাজ্য সরকার। আছে লম্বা তালিকা। সুলভ পুষ্টি ও খাদ্য যোজনা, অরুন্ধতী, জ্ঞান দীপিকা, সংহত সামাজিক সুরক্ষা, বিধবা মহিলাদের জন্য এককালিন আর্থিক সহায়তা, বিধবা পেনসন যোজনা, দীনদয়াল দিব্যাংগ সাহায্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কন্যা সন্তানের জন্য সাহায্য, কনকলতা মহিলা স্বাবলম্বীকরণ যোজনা, বিস্তারিত অটল অমৃত যোজনা, চা জনগোষ্ঠীর কল্যাণকামী প্রকল্প, মুদ্রা যোজনা, আপন ঘর, অসম দর্শন, লাচিত চিলারায় সেতু নির্মাণ, কর্কট রোগের চিকিৎসা, পরিবহন নিগমের পুনরুজ্জীবিতকরণ, অসম আদর্শ গ্রাম যোজনা ইত্যাদি। লক্ষ্য করলে বোঝা যায় নব্ব‌ই শতাংশ প্রকল্প ব্যক্তিগত সুবিধা ও আর্থিক ফায়দার লক্ষ্যেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। রাজ্যের জ্বলন্ত সমস্যা ও সার্বিক উন্নতি কল্পে এই বৎসর সরকার খুব একটা কিছু করছে না।
অসমের উন্নতির প্রধান অন্তরায় বন্যা নিয়ে সরকার একটুও ভাবেনি‌। চর অঞ্চল উন্নয়ন বা নদী তীরবর্তী অঞ্চলের ভাঙ্গন রোধের জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই। বেকার সমস্যা দূরীকরণে কোনো যোজনা এই বাজেটে স্থান পায়নি। অবশ্য বরাক উপত্যকার শিলচরে ভাষা শহিদদের জন্য এক গুচ্ছ পরিকল্পনা দিয়ে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের হাততালি পেতে ভালোই প্রচেষ্টা বলা যায়। দেখতে হবে এই বাজেটের কতটা ফাইলেই থাকে আর কতটা কাজে রুপান্তরিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here