মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে সরানোর দাবিতে দিল্লিতে ত্রিপুরার ১২ বিজেপি বিধায়ক, সাক্ষাৎ করবেন দলীয় হাইকমান্ডের সাথে

0
ছবির: ফাইল ফটো

এবার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে বিজেপির দলীয় বিধায়কদের বিদ্রোহ চরম পর্যায়ে। অযোগ্য নেতৃত্ব ও অনিয়মের অভিযোগে বিপ্লব-বদলের দাবি তুলেছেন দলেরই অনেক বিধায়ক।

দলীয় সূত্রে খবর, নেতৃত্ব তথা মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল চেয়ে দিল্লি গিয়েছেন অন্তত ১২ বিজেপি বিধায়ক। বিজেপির শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অভিযোগ জানাতে চান তাঁরা।

বিদ্রোহী বিজেপি বিধায়কদের দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা প্রভাবশালী বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ও সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়েছেন সুদীপবাবু।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও সম্ভব হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও দেখা করবেন বিদ্রোহী বিজেপি বিধায়কেরা।

দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে সুদীপ রায় বর্মণ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা অন্তত ১২ জন বিধায়ক ঠিক করেছি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর স্বৈরতন্ত্র, অযোগ্য নেতৃত্বর কথা দলের শীর্ষনেতৃত্বকে জানাব। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দলের অনুগত কর্মী এবং আমরা চাই ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার ফের ক্ষমতায় ফিরুক। দিনের পর দিন বেফাঁস মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদি এভাবেই নেতৃত্ব চলতে থাকে তাহলে বামফ্রন্ট তাদের হারানো জমি ফিরে পাবে। তাতে দলেরই ক্ষতি।”

করোনা সংক্রমণ রুখতেও ত্রিপুরা সরকার ব্যর্থ হয়েছেন এমনটাই অভিযোগ ওই বিধায়কদের। করোনা সংক্রমণ চলার সময় ত্রিপুরায় একজন নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রীও নেই। অভিজ্ঞ আইএএস ও আইপিএস অফিসাররা ত্রিপুরা ছাড়ছেন। নইলে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

অবশ্য বিপ্লব শিবিরের দাবি, মাত্র সাত থেকে আট জন সুযোগসন্ধানী বিধায়ক ঝামেলা করছেন। তারা বিপ্লব দেবের সুযোগ্য নেতৃত্বে সরকারের এই অগ্রগতি মানতে পারছেন না। ওই বিধায়কদের বেশিরভাগই কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে এসেছেন। বিজেপির পুরনো কর্মী ও নেতাদের বিপ্লব দেবের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

২০১৮ সালে বামফ্রন্টের ২৫ বছরের শাসন শেষ করে ক্ষমতা দখল করেছিল বিজেপি। তাদের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল ইন্ডিজিনিয়াস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা। ৬০ সদস্যের বিধানসভায় ৩৬টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। অন্যদিকে, আইপিএফটি পেয়েছিল ৮টি আসন। তারপরেই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হন বিপ্লব দেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here