একটি আদর্শ যুব সংগঠনের রূপরেখা:

0
ছবি : নিজস্ব ফাইল চিত্র

আত্মকেন্দ্রিকতায় সীমাবদ্ধ সাধারণ মানসিকতার উর্ধে উঠে সমাজ-দেশ- দুনিয়ার কল‍্যাণ চিন্তায় আকৃষ্ট ব‍্যতিক্রমী যুবশক্তির অভাব কোনদিন হয়নি। যথাসময়ে যথাস্থানে এদে্রকে পাওয়া যায়। কিন্তু সঠিক দৃষ্ঠিভঙ্গির লালন, পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও যোগ‍্য নেতৃত্বের অভাবে এই নিবেদিত যুবশক্তির অপব‍্যয় ও অপব‍্যবহারে অনেক সময় তা অকল‍্যাণের কারক হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে কোন কোন সাময়িক আবেগ, উত্তেজনা ও ক্রিয়া -প্রতিক্রিয়ার কর্মসূচি বা ঘটনাবলী যুবসমাজকে লক্ষ্যহীন, বিপথগামী, ব‍্যর্থতা ও হতাশার শিকারে পরিণত করে।

বর্তমান সময়ের একটি প্রবনতা হচ্ছে যুবসমাজের এক বড় অংশ ক্রমশ জাতি, সম্প্রদায় ও গোষ্টিগত চিন্তায় প্রভাবিত হয়ে পড়ছে এবং পারষ্পরিক হিংসা বিদ্ধেষজনিত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার পরিস্থিতি প্রসারিত হচ্ছে। কখনোবা আইনশৃংখলার সমস্যা তৈরী হচ্ছে এবং এর দুর্বিপাকে নিরিহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

এসব কারণে যুবশক্তির গঠনমূলক, ইতিবাচক উপযোগিতা সীমিত হয়ে যাচ্ছে এবং দৃষ্টিভঙ্গির উচ্চতা, স্বচ্ছতা ও দূরদর্শিতার অভাব দেখা যাচ্ছে। সংকীর্ণ চিন্তার সস্তা জনপ্রিয়তার আকর্ষণে এক শ্রেণির চিন্তাশক্তিহীন, স্বার্থপর উচ্চাভিলাষী আকাঙ্ক্ষার গ্রাহকেরা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্নীতিপরায়ণ নেতা -দালালদের বাজার, পরিবেশ ও অপসংস্কৃতি প্রসারিত করছে।

সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বত্র অজস্র সমস্যা আছে। এসব সমস‍্যাবলীর সমাধানে ব‍্যক্তি, সমাজ ও সরকারের যথাযথ কর্তব‍্য আছে। সব ক্ষেত্রেই কিছু ব‍্যক্তিকে কিছু বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হয়। ইতিবাচক ক্রিয়া এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সুদূরপ্রসারি ইতিবাচক সুফল প্রদান করে, সামান্যতম নেতিবাচক সিদ্ধান্ত বৃহৎ নেতিবাচক কারক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব‍্যবস্থায় সরকারের নীতি ও আচরণে গণমতের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। সংখ্যাগুরু মতামতের সামনে সংখ্যালঘু মতামতের মর্যাদা রক্ষা করা উচিত। সরকারের সাথে যথার্থ সংযোগ জনগণের মতপ্রকাশ ও অধিকার রক্ষার যথার্থ মাধ‍্যম। সরকারের অসহিষ্ণুতা এবং জনগণের হটকারিতা দুটোই গণতান্ত্রিক ব‍্যবস্থাকে ব‍্যাহত করে। জনগণের অধিকার কোথাও বিঘ্নিত হলে তার প্রতিকারের ব‍্যবস্থা না থাকলে তাকে গণতন্ত্র বলা যাবেনা।

কোন বিশেষ মতাদর্শের প্রতি অনুরক্ত কোন বিশেষ দলের সরকার সেই মতাদর্শ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকতে পারে। গণতন্ত্রে তারো সুযোগ রয়েছে। দেশবাসী যে মতাদর্শ পছন্দ করে সেই মতাদর্শের প্রচার, গণমত গঠণ ও প্রতিষ্ঠার প্রদান গণতন্ত্রের ই অঙ্গ। সরকারী ক্ষমতাবলে কোন মতাদর্শকে চাপিয়ে দেয়া সেই মতাদর্শের দুর্বলতা প্রকাশ করে। তেমনি কোন মতাদর্শকে জবরদস্তি দাবিয়ে রাখা সেই সরকারের ফেসিবাদী চরিত্রের নামান্তর।

এসব নীতিবাদী কথা। বাস্তব ক্ষেত্রে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার মোহ সমস্ত গণতান্ত্রিক ব‍্যবস্থায় চিরদিন পাওয়া গেছে। জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া এবং গণমতকে উপেক্ষা ও দমন করার অপকৌশল সমস্ত ধরণের গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণে প্রকাশ পেয়ে এসেছে। গণতন্ত্রকে হাইজাক করার অজস্র উদাহরণ পৃথিবীর সর্বত্র রচিত হয়েছে এবং এখানেই গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের অনাস্থা তৈরী হতে শুরু করেছে। এর ফলে জনগণ অগণতান্ত্রিক হয়ে উঠার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সহজ কথাটি গণতন্ত্রের কর্ণধারেরা কখনো বুঝতে চায়নি।

গণতন্ত্র যেখানে হাইজাক হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব‍্যবস্থার প্রতিভূরা যখন ফেসিস্ট আচরণ করে, গণতান্ত্রিক পথে নির্বাচিত সরকার যখন সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, নীতিনির্ধারক, কার্যনির্বাহক ও বিচারব‍্যবস্থা যখন বৈষম‍্যমূলক আচরণ করে, মতপ্রকাশ, প্রতিবাদ ও প্রতিকারের দাবী যদি নাকচ হয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে যদি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অগণতান্ত্রিক বানানো হয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের যদি মিথ‍্যা অভিযোগে ফাসানো হয়, তাহলে জনগণ কি করবে।

উপরোক্ত সমস্ত ধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সমাজ, দেশ, দুনিয়ার কল্যাণের স্বার্থে এক সর্বাত্বক, ইতিবাচক, গঠনমূলক, ব্যাপক, নির্ণায়ক প্রচেষ্টার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, তৎপরতা, সংগঠন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি শুরু করতে সর্বাগ্রে কিছু চরিত্রবান, নিঃস্বার্থ, আত্মোৎসর্গী, চিন্তশীল যুবকের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এ যাবৎ সমাজ ও দেশ নির্মাণের কিংবা ধ্বংসের যতো ধরনের চেষ্টা ও অপচেষ্টা হয়েছে, তার বিশদ পর্যালোচনা, বিকল্প চিন্তার সম্ভাবনা আলোচনা, সঠিক কর্মপদ্ধতি নির্ণয়, উপযুক্ত দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বের যাচাই বাছাই ইত‍্যাদি প্রক্রিয়ার মাধ‍্যমে এগিয়ে যাওয়া হবে প্রস্তাবিত যুবসংগঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। এমন এক সংগঠন সমাজকে তার নিজস্ব অবস্থানে গড়ে তোলার বহুমুখী প্রকল্প থেকে শুরু করে সমস্ত ধরণের সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক গতিধারা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ ধরণের এক চিন্তার অংশীদার যারা হতে চায় তাদেরকে সুপরামর্শ প্রদান করতে কার্পন্য করবনা এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here